আজ রবিবার, ১২ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৮শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রেশনের সুবিধা পেতে যাচ্ছেন ১২–২০ গ্রেডের সরকারি চাকরিজীবীরা

editor
প্রকাশিত জুলাই ১১, ২০২৬, ১০:১৯ অপরাহ্ণ
রেশনের সুবিধা পেতে যাচ্ছেন ১২–২০ গ্রেডের সরকারি চাকরিজীবীরা

Manual7 Ad Code

বাসস

সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ১২ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মকর্তা–কর্মচারীদের জন্য রেশনের সুবিধা চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আজ শনিবার (১১ জুলাই) রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থার (বাসস) এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।

সরকার মনে করছে, মূল্যস্ফীতির কারণে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের অনেক সরকারি চাকরিজীবী আর্থিক সংকটে পড়ছেন। অনেকেই ধারদেনা ও ঋণের চাপে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হচ্ছেন, যা দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনে প্রভাব ফেলছে। রেশনের সুবিধা চালু হলে এই চাপ কমবে এবং কর্মীদের কাজে মনোযোগ বাড়বে।

রেশনের সুবিধা চালুর প্রস্তাবে অর্থ বিভাগ ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মতি মিলেছে। এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে গত জুনে অর্থ বিভাগের সচিবকে নির্দেশনা দিয়ে চিঠি পাঠিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। চিঠিতে তিন মাস পর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও বাস্তবায়নকারী মন্ত্রণালয়গুলোর সচিবদের সঙ্গে বৈঠকে অগ্রগতি উপস্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রতি মাসে কাজের অগ্রগতিও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে জানাতে হবে।

দেশে ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে ১২ থেকে ২০তম গ্রেডের সরকারি কর্মচারীদের জন্য রেশনের সুবিধা চালুর প্রস্তাব দেন পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক। গত ৩ মে অনুষ্ঠিত জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনে এই প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়।

প্রস্তাবে বলা হয়, মূল্যবৃদ্ধি ও বিভিন্ন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রা ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে। ধারদেনা ও ঋণের কারণে মানসিক চাপ বাড়ছে এবং দায়িত্ব পালনে বিঘ্ন ঘটছে। রেশনের সুবিধা চালু হলে চাপ কমে জীবনযাত্রা সহজ হবে এবং দায়িত্ব পালনে মনোযোগ বাড়বে। তাই ১২ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য রেশনের সুবিধা প্রদানের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।

Manual2 Ad Code

অর্থ বিভাগের আওতাধীন এই প্রস্তাব বাস্তবায়নের জন্য অর্থ বিভাগের সচিবকে চিঠি দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। চিঠিতে প্রস্তাবটি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করে অগ্রগতি জানাতে বলা হয়েছে। অর্থাৎ ১২ থেকে ২০তম গ্রেডের সরকারি চাকরিজীবীদের রেশনের সুবিধা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

এটি স্বল্প, মধ্য বা দীর্ঘ মেয়াদে বাস্তবায়ন করা হবে কি না, সে বিষয়ে অর্থ বিভাগ প্রতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে ও তিন মাস অন্তর বৈঠকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে অবহিত করবে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাঠ প্রশাসন অধিশাখার উপসচিব মো. মামুন বলেন, ‘ডিসি সম্মেলনে যেসব উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়েছে, তা বই আকারে প্রকাশের কাজ করছে বিজি প্রেস। বইগুলো সংশ্লিষ্টদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। সব মন্ত্রণালয়ের সচিবদের চিঠি দিয়ে তাঁদের করণীয় জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অগ্রগতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাঠ প্রশাসন শাখায় পাঠাতে বলা হয়েছে।’

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই প্রস্তাব নিম্ন ও মধ্যম আয়ের সরকারি কর্মচারীদের জন্য স্বস্তির বার্তা হতে পারে। তাঁদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ স্বল্প আয়ের জনগোষ্ঠীর জন্যও ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নে সঠিক পরিকল্পনা, পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ ও স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা জরুরি।

১২ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মকর্তা–কর্মচারীদের রেশনের সুবিধার আওতায় আনার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ও সরকারের সাবেক অতিরিক্ত সচিব ফিরোজ মিয়া। তিনি বলেন, ‘রেশনের সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাবটি ইতিবাচক ও সময়োপযোগী।’

সাবেক এই কর্মকর্তা বলেন, ‘দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে সরকারি কর্মকর্তা–কর্মচারীদের জীবনযাপন বেশ কষ্টকর হয়ে উঠেছে। আবার অনেকে দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ার অজুহাত হিসেবে সরকারি সুযোগ–সুবিধার অভাবের কথা বলেন। রেশনের সুবিধা চালু হলে এ ধরনের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহজ হবে।’

তবে সরকারকে রেশন বিতরণ ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পরিচালনা করতে হবে বলে মনে করেন সাবেক এই অতিরিক্ত সচিব। তিনি বলেন, ‘অনিয়ম হলে বা প্রকৃত উপকারভোগীরা সুবিধা না পেলে, তা হিতে বিপরীত হতে পারে।’

Manual8 Ad Code

১২তম গ্রেডের পদগুলোর মধ্যে রয়েছে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক, হিসাব সহকারী বা ক্যাশিয়ার, সাঁটমুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর, গুদামরক্ষক, নিরাপত্তা পরিদর্শক, ডাটা এন্ট্রি সুপারভাইজার, অডিটর ও জুনিয়র ইনস্ট্রাক্টর।

Manual6 Ad Code

২০তম গ্রেড সরকারি চাকরির সর্বনিম্ন বা চতুর্থ শ্রেণির স্তর। সাধারণত এসএসসি বা সমমান শিক্ষাগত যোগ্যতায় এসব পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই গ্রেডের পদগুলোর মধ্যে রয়েছে অফিস সহায়ক, নিরাপত্তা প্রহরী বা নৈশপ্রহরী, পিয়ন, মালি ও ঝাড়ুদার বা পরিচ্ছন্নতাকর্মী।

বর্তমানে সরকার নির্ধারিত সুলভ মূল্যে রেশনের সুবিধা পান ১০টি প্রতিষ্ঠানের সদস্যরা। এগুলো হলো সশস্ত্র বাহিনী (সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী), বাংলাদেশ পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী, কারা অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই), স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ), দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।

পুলিশ বাহিনীতে চার সদস্যের একটি পরিবারের জন্য মাসিক রেশন বরাদ্দ সাধারণত ২০ কেজি চাল, ২০ কেজি আটা, ২ কেজি ডাল, সাড়ে ৪ লিটার সয়াবিন তেল ও ২ কেজি চিনি।

এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সরকারি কর্মচারীরা রেশনসহ বিভিন্ন ভাতার দাবিতে আন্দোলন করেন। ওই সময় খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম রেশনের সুবিধার পক্ষে মত দিয়ে অর্থ বিভাগে চিঠি পাঠান। এর পর থেকেই বিষয়টি নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনায় রয়েছে।

Manual7 Ad Code