আজ বুধবার, ১৫ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বুধবার পরীক্ষা হলে ‘লংমার্চ টু শিক্ষা মন্ত্রণালয়’ কর্মসূচির ঘোষণা

editor
প্রকাশিত জুলাই ১৫, ২০২৬, ০১:২৮ পূর্বাহ্ণ
বুধবার পরীক্ষা হলে ‘লংমার্চ টু শিক্ষা মন্ত্রণালয়’ কর্মসূচির ঘোষণা

Manual1 Ad Code

অনলাইন ডেস্ক

বুধবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত না হলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় অভিমুখে ‘লংমার্চ’ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়ে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ছেড়েছেন আন্দোলনরত পরীক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাত ৯টা ৪০ মিনিটের পর জাতীয় সংসদ ভবনের সামনের সড়ক থেকে তারা সরে গেলে ওই এলাকায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা নেওয়া এবং পরীক্ষার্থীদের ‘ফার্মের মুরগি’ বলে সম্বোধন করা হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে মঙ্গলবার রাত সোয়া ৮টার দিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে জড়ো হয়ে মানিক মিয়া এভিনিউ অবরোধ করেন।

পরে রাত সাড়ে ৯টার দিকে এক তাৎক্ষণিক ব্রিফিংয়ে ঢাকা সিটি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী মিরাজ দিনের কর্মসূচি শেষ করার ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের কোনো মূল দাবি মেনে নেওয়া হয়নি।’

বুধবারের পরীক্ষা মঙ্গলবার রাতের মধ্যেই স্থগিত করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেছেন, একই সঙ্গে তারা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ চান। দাবি না মানা হলে বুধবার ‘লংমার্চ টু শিক্ষা মন্ত্রণালয়’ কর্মসূচি পালন করা হবে।

মিরাজ বলেন, সরকার যদি বুধবারের পরীক্ষা স্থগিত না করে, তাহলে পরীক্ষায় অংশ নেবেন কি না, সে বিষয়ে আন্দোলনকারীরা আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন। আমরা পরীক্ষা দেব না, তা বলিনি। আমরা বলেছি, যদি পরীক্ষায় বসতে হয়, তাহলে অখুশি মনে লংমার্চ কর্মসূচি পালন করব। কারণ পরে সরকার বলতে পারে, পরীক্ষা না দিলে আমরা ফেল করেছি।

এর আগে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে পুলিশ আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সংসদ ভবনের সামনের এলাকা থেকে সরিয়ে দেয়। এ সময় লাঠিচার্জের অভিযোগও ওঠে। একই সময়ে আন্দোলনরত পরীক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধি দল সংসদ ভবনের ভেতরে প্রবেশ করলেও দায়িত্বশীল কারও সঙ্গে তাদের আলোচনা হয়নি।

Manual8 Ad Code

মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে শিক্ষার্থীরা জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে পৌঁছে মানিক মিয়া এভিনিউ-সংলগ্ন বটতলা গেট এলাকায় অবস্থান নেন। পরে সড়কটির দুই পাশেই অবরোধ করেন।

Manual7 Ad Code

এর আগে বিকেল পৌনে ৪টা থেকে প্রায় দেড় ঘণ্টা তারা সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড়ে অবস্থান করেন। বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে সেখান থেকে সংসদ ভবনের উদ্দেশে রওনা দেন। শুরুতে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে যাওয়ার কথা থাকলেও পরে তারা সংসদ ভবনের সামনে যান।

দিনের শুরুতে বেলা পৌনে ১২টার দিকে রাজধানীর সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড় ও উত্তরার বিএনএস সেন্টারের সামনে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। পরে তারা ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের উদ্দেশে যাত্রা করেন।

দুপুর পৌনে ১টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের সামনে পুলিশ তাদের আটকে দিলে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। পরে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করেন।

Manual4 Ad Code

মুহসীন হলের সামনে বাধা পেয়ে শিক্ষার্থীরা দুপুর ১টার দিকে নীলক্ষেত মোড়ে অবস্থান নেন। পরে পৌনে ২টার দিকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে পলাশী মোড় হয়ে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের দিকে যান।

দুপুর আড়াইটা থেকে সাড়ে ৩টা পর্যন্ত তারা ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সামনে অবস্থান করেন। এ সময় শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা আলোচনার প্রস্তাব দিলেও শিক্ষার্থীরা তা গ্রহণ না করে সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড়ে ফিরে যান বলে জানিয়েছেন আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আকতারুজ্জামান।

পরে বিকেল পৌনে ৪টার দিকে আবারও সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড়ে অবস্থান নেন তারা।

Manual5 Ad Code

এদিকে উত্তরার বিএনএস সেন্টারের সামনে অবস্থান নেওয়া শিক্ষার্থীরাও বুধবার সচিবালয় অভিমুখে পদযাত্রার কর্মসূচি ঘোষণা করে বিকেল সোয়া ৩টার দিকে সড়ক ছেড়ে দেন।

দিনভর আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ‘তুমি কে, আমি কে—ফার্মের মুরগি’, ‘কে বলেছে, কে বলেছে—শিক্ষামন্ত্রী’, ‘দফা এক, দাবি এক—শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ’, ‘জ্বালো রে জ্বালো—আগুন জ্বালো’ এবং ‘আপস না সংগ্রাম—সংগ্রাম, সংগ্রাম’—এমন বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়। তাদের হাতে পরীক্ষা স্থগিত ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ডও ছিল।

আন্দোলনকারীরা তিন দফা দাবি তুলে ধরেছেন। দাবিগুলো হলো—দেশের বিভিন্ন এলাকায় চলমান দুর্যোগ পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত রাখতে হবে; বৈরী আবহাওয়ার কারণে ১৩ জুলাই অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা পরীক্ষার্থীদের জন্য পুনরায় পরীক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে; এবং আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনকে পদত্যাগ করতে হবে। সুএ:ইত্তেফাক