আজ বৃহস্পতিবার, ২৭শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১২ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মক্কা চুক্তিতে অংশগ্রহণ বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির ভারসাম্যকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে: রয়টার্স

editor
প্রকাশিত আগস্ট ২৬, ২০২৬, ১২:৫৮ পূর্বাহ্ণ
মক্কা চুক্তিতে অংশগ্রহণ বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির ভারসাম্যকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে: রয়টার্স

Manual3 Ad Code

অনলাইন ডেস্ক

সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে সই হওয়া ‘মক্কা চুক্তি’-তে যোগ দেওয়ার বিষয়টি বাংলাদেশ বিবেচনা করতে পারে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।

সোমবার (২৪ আগষ্ট) সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের ইসলামি দেশগুলোর মধ্যে কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে উঠলে তাতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বিবেচনা করা অস্বাভাবিক নয়। বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের নেতৃত্বকে, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে চুক্তিতে অংশ নেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।’

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, সৌদি আরব ঢাকা‌কে এই চুক্তিতে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছে। তবে কখন এই আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, সূত্রটি তা জানায়নি। গণমাধ্যমে কথা বলার অনুমতি না থাকায় পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা এ তথ্য জানান।

Manual2 Ad Code

চলতি মাসে পবিত্র নগরী মক্কায় সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান এই চুক্তিতে সই করে। ন্যাটোর যৌথ প্রতিরক্ষা নীতির আদলে করা এই চুক্তিতে তিন দেশ সম্মত হয়েছে যে, কোনো একটি সদস্য রাষ্ট্রের ওপর সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে সব সদস্যের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

Manual4 Ad Code

রয়টার্স বলছে, মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা বাড়ার প্রেক্ষাপটে এই চুক্তি করা হয়েছে। আঞ্চলিক সংঘাতের বিস্তারের মধ্যে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলাসহ পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের ৯০ শতাংশের বেশি মানুষ সুন্নি মুসলিম হিসেবে পরিচিত।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের বিষয়ে মন্তব্য জানতে বাংলাদেশে অবস্থিত সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের দূতাবাসগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

ন্যাটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম সেনাবাহিনীর অধিকারী তুরস্ক জানিয়েছে, পারমাণবিক শক্তিধর পাকিস্তান ও বিশ্বের শীর্ষ তেল রপ্তানিকারক সৌদি আরবের সঙ্গে করা এই প্রতিরক্ষা চুক্তি ভবিষ্যতে অন্য দেশগুলোর জন্যও উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।

তবে বিশ্লেষকেরা বলছেন, বাংলাদেশ এই সামরিক জোটে যোগ দিলে দীর্ঘদিনের ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতির জন্য তা একটি বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়াতে পারে। এতদিন বাংলাদেশ প্রতিদ্বন্দ্বী ভূরাজনৈতিক শিবিরগুলোর কোনো একটির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত না হয়ে বিনিয়োগ আকর্ষণ, রপ্তানি সম্প্রসারণ এবং বিভিন্ন শক্তিধর দেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করে আসছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশের অর্থনীতি তৈরি পোশাক রপ্তানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। এসব পোশাকের বড় অংশ রপ্তানি হয় যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রে। একইসঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে কর্মরত লাখো বাংলাদেশির পাঠানো রেমিট্যান্সও দেশের বৈদেশিক মুদ্রার অন্যতম প্রধান উৎস।

ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষক কল্লোল কিবরিয়া বলেন, ‘আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সামরিক জোটে যোগ দিলে ভারতের পাশাপাশি চীন, ইরান, জাপান, কুয়েত, ওমান, কাতার, রাশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও বাংলাদেশের সম্পর্ক জটিল হয়ে উঠতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘এসব দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ছিন্ন হয়ে যাবে, তা নয়। তবে বাংলাদেশ একবার কোনো সামরিক জোটে যোগ দিলে দেশটি আসলে কোন পক্ষের সঙ্গে অবস্থান করছে, এই প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়া অনেক কঠিন হয়ে পড়বে।’

রয়টার্স বলছে, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ক্ষেত্রেও একটি স্পর্শকাতর সময়ে ঢাকার কাছে এই আমন্ত্রণ এসেছে। ছয় মাস আগে দায়িত্ব নেওয়া সরকারের সময়ে দুই দেশই সম্পর্ক স্বাভাবিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ রাখার চেষ্টা করলেও বিভিন্ন বিষয়ে টানাপোড়েন রয়েছে।

চলতি মাসে প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র জানিয়েছেন, তারেক রহমান এখনো ভারত সফরের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেননি। একই সময়ে শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর জন্য ঢাকার করা প্রত্যর্পণ অনুরোধের বিষয়ে নয়াদিল্লির জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে বাংলাদেশ।

Manual2 Ad Code

সম্প্রতি নয়াদিল্লিতে শেখ হাসিনা সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার পর বাংলাদেশ এ ঘটনায় অসন্তোষ প্রকাশ করে। এর আগে ঢাকা জানিয়েছিল, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের জন্য একটি ‘অনুকূল পরিবেশ’ প্রয়োজন।

Manual4 Ad Code