আজ শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৪ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রংপুরে ৪ খুনের বিচার দাবিতে ঢাকায় মানববন্ধন, ‘জয় বাংলা’ স্লোগান নিয়ে বিতণ্ডা

editor
প্রকাশিত আগস্ট ২৮, ২০২৬, ১০:৩৮ অপরাহ্ণ
রংপুরে ৪ খুনের বিচার দাবিতে ঢাকায় মানববন্ধন, ‘জয় বাংলা’ স্লোগান নিয়ে বিতণ্ডা

Manual5 Ad Code

অনলাইন ডেস্ক

রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ তার পরিবারের চার সদস্যকে নৃশংসভাবে হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবিতে ঢাকার ধানমণ্ডিতে একটি মানববন্ধন থেকে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়া নিয়ে বাগবিতণ্ডা হয়েছে।

অংশগ্রহণকারীরা বলছেন, বক্তাদের একজন বক্তব্য শেষ করে ‘জয় বাংলা-জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিলে সেখানে তিনজন এসে হট্টগোল করার চেষ্টা করে। বেশ কিছুক্ষণ পর পুলিশও আসে।

মোহাম্মদপুর থানার পুলিশ বলছে, ‘জয় বাংলা’ স্লোগানের পর তারা সেখানে গিয়ে কয়েকটি ব্যানার জব্দ করে নিয়ে এসেছে। এ বিষয়ে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের জন্য ন্যায়বিচারের দাবিতে শুক্রবার বিকেলে ঢাকার ধানমন্ডি-২৭ নম্বর সড়কে মিনা বাজারের সামনে ‘সচেতন নাগরিক সমাজ’, ‘সচেতন প্রকৌশলী সমাজ’ ও ‘সচেতন শিক্ষক সমাজ’- এর ব্যানারে এই প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ হয়।

Manual5 Ad Code

সমাবেশের সংগঠকদের একজন ছিলেন অ্যাক্টিভিস্ট ও চারু শিল্পী কামাল পাশা চৌধুরী।

মানববন্ধনে তিনি বলেন, “গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। ছবিতে দৃশ্যমান নিষ্পাপ মুখগুলো বারবার আমার চোখের সামনে ভেসে উঠছে। আমার হৃদয় ব্যথিত, আমি চোখের জল ধরে রাখতে পারছি না। আমরা কেমন সমাজে বাস করছি? এদেশের স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরা কী শিখছি? আমরা কি একটি বর্বর জাতিতে পরিণত হচ্ছি?”

তিনি বলেন, “ত্রিশ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমরা একটি দেশ পেয়েছি এবং স্বাধীনতা অর্জন করেছি। আমাদের চোখের সামনে এই স্বাধীনতাকে ধ্বংস হতে দিতে পারি না। সে কারণেই আমরা রাস্তায় নেমেছি। বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধামকি দেওয়া হয়েছে। এই প্রতিবাদ সমাবেশ যেন করতে না পারি, সেজন্য আমাদের কাছে বিভিন্নভাবে ফোনকল এসেছে।”

কামাল পাশা চৌধুরী ‘জয় বাংলা- জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিয়ে তার বক্তব্য শেষ করেন। এরপর তিনজন ব্যক্তি এসে ওই স্লোগানের প্রতিবাদ জানান।

তাদের একজন নিজের পরিচয় না দিয়ে বলেন, “আওয়ামী লীগ একটি নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল। আপনারা এটিকে একটি সামাজিক প্রতিবাদ কর্মসূচি বলছেন, তাহলে আপনারা কেন ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিচ্ছেন?”

এ নিয়ে প্রতিবাদকারী ও আয়োজকদের মধ্যে বেশ কিছুক্ষণ বাগবিতণ্ডা হয়। পরে তারা সমাবেশস্থল ত্যাগ করেন।

সমাবেশে অংশ নেওয়া ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম মুজতবা ধ্রুব বলেন, “পূর্ব নির্ধারিত একটা প্রোগ্রাম ছিল। শতাধিক লোকজন সেখানে সমবেত হয়। কামাল পাশাসহ দুই-তিনজন বক্তব্য রাখেন। সেখানে কামাল ভাই (কামাল পাশা) বক্তব্যের পর জয় বাংলা স্লোগান দেন।

“এসময় সেখানে ২-৩টা ছেলে প্রতিবাদ জানিয়ে বলে, ‘সামাজিক প্রোগ্রামে কেন জয় বাংলা স্লোগান দিচ্ছেন। আওয়ামী লীগ তো নিষিদ্ধ।’ এটা নিয়ে কিছুক্ষণ বাগবিতণ্ডা হয়। পরিবেশটা একটু উত্তপ্ত হয়ে পড়ায় আগতরা দ্রুত সেখান থেকে চলে যান।”

মানববন্ধনের পরে ঘটনা নিয়ে কামাল পাশা চৌধুরী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “প্রোগ্রাম শেষ করে দেওয়ার পর সবাই যখন আড্ডা দিচ্ছিল তখন কয়েকজন এসে চীৎকার করে। একটু বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে সবাই। এরপরে আবার পুলিশ আসছে, প্রায় একঘণ্টা পর। সেখানে চেক-টেক করছে। তবে কাউকে আটক করছে বলে শুনি নাই।”

তবে পুলিশ বলছে এ ঘটনায় মামলা হবে। মোহাম্মদপুর থানার ওসি আব্দুল হালিম বলছেন, “ঘটনা হচ্ছে যে রংপুরের চার হত্যাকাণ্ডে নিহতদের ছবি নিয়ে তারা সচেতন প্রকৌশল সমাজের ব্যানারে দাঁড়াইছিল। সেখানে হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে কথা বলতে বলতে পেছন থেকে ‘জয় বাংলা’ বলছে।

Manual3 Ad Code

“আমরা পাশেই ছিলাম। তখন আমরা গিয়ে ব্যানার ধরছি আর লোকগুলো পালিয়ে গেছে। আমরা সেখানে আগতদের শনাক্ত করেছি। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।”

ওসি আরও জানান, ঘটনাস্থল থেকে কয়েকটি ব্যানার জব্দ করা হয়েছে। সুএ: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর

Manual7 Ad Code

 

Manual8 Ad Code