শিবির-ছাত্রদলের উত্তেজনার মধ্যেই ইবিতে ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা
শিবির-ছাত্রদলের উত্তেজনার মধ্যেই ইবিতে ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা
editor
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬, ০৫:০৪ অপরাহ্ণ
Manual3 Ad Code
অনলাইন ডেস্ক
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) শাখা শিবিরের এক নেতাকে ছাত্রদল কর্মীর চড় দেওয়াকে কেন্দ্র করে জামায়াত-শিবির ও বিএনপি-ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ নিয়ে দিনভর ক্যাম্পাসে উত্তেজনা পরিস্থিতি তৈরি হয়।
Manual8 Ad Code
এই পরিস্থিতির মধ্যেই নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ আগামী তিন মাসের জন্য ইবি শাখার ২৮ সদস্য বিশিষ্ট নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করেছে। এতে কমিটির আহ্বায়ক করা হয় রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের সাবেক শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান হাফিজকে।
মূলত শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দিনব্যাপী উত্তেজনা পরিস্থিতির মধ্যেই রাতে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়লী আসিফ ইনান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ কমিটি প্রকাশ করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ।
Manual5 Ad Code
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, কমিটির মেয়াদ শেষে সাংগঠনিক কার্যক্রম ও রাজনৈতিক সক্রিয়তা বিবেচনায় পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হবে।
Manual1 Ad Code
এ কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মামুন-অর-রশিদ, আলী শ্রাবণ, তরিকুল ইসলাম তরুণ, রতন কুমার রায়, সামিউল ইসলাম, শাহিন আলম, মামুন রানা, সাব্বির আহমেদ আকিফ, রাব্বি হোসেন, নাছিম হাসান নাঈম, রাসেল আলী, রাকিবুল ইসলাম, সোহানুর রহমান, মেসবাহুল ইসলাম, নাবিল আহমেদ ইমন, মো. সাদিদ খান সাদি, হুসাইন তুষার, অনিক কুমার, সোহাগ শেখ, তানভীর হাসান, রাব্বি হাসান, আকিব মাসুদ, পিয়াস মুস্তাকিম, সাগর আহম্মেদ, মো. রাকিব হোসেন, শাহরিয়ার হিমেল ও পাভেল মোল্লা।
ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, শনিবার দুপুর পৌনে ২টার দিকে পরীক্ষা শেষে হলে খাবার খেতে আসেন কাজী জুহায়ের। তিনি হলের গেট পেরিয়ে করিডোরে পৌঁছলে অভিযুক্ত আলীনুর হঠাৎ এসে জুহায়েরকে চড় মারেন এবং গালিগালাজ করেন। পরে অন্য শিক্ষার্থীরা এসে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করলেও অভিযুক্ত আলীনূর তাদের সঙ্গেও খারাপ আচরণ করে। পরে সে হলের ২১৭ নম্বর কক্ষে চলে যায়। এ সংক্রান্ত একটি সিসিটিভি ফুটেজও প্রকাশিত হয়েছে। এর পরপরই শিবির নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে উত্তেজিত হয়ে আলীনূরের কক্ষ ভাঙতে যায়। এসময় তারা রুমের জানালার গ্লাস ভাঙচুর করে। পরে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা এসে তাদের সরিয়ে নেয়। এরপর প্রক্টরিয়াল বডি ও পুলিশ প্রশাসনের সহায়তায় অভিযুক্তকে হল থেকে উদ্ধার করে প্রক্টর অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়। একইদিনে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে শাখা ছাত্রদল ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকে তালা দিয়ে লাঠিসোটা নিয়ে বিক্ষোভ করে ও জিয়া মোড়ে লাঠিসোঁটা নিয়ে অবস্থান নেয় শিবিরের নেতাকর্মীরা।
পরে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কুষ্টিয়া-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করে প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নেয় ছাত্রদল ও বহিরাগত বিএনপির নেতাকর্মীরা। এসময় অনেকের হাতে দেশীয় অস্ত্র রামদা, ছুরি ও হাতুড়ি দেখা যায়। পরে সেখানে স্থানীয় জামায়াত নেতাকর্মীদের সঙ্গে বিএনপি-ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ ও র্যাব মোতায়েন করা হয়।
এক পর্যায়ে উভয়পক্ষকে নিয়ে প্রক্টর অফিসে আলোচনায় বসে প্রক্টরিয়াল বডি। এ সময় তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। পরে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের দুজন ছাত্রের মধ্যে সংঘটিত ঘটনা তদন্তের জন্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেন।
সংঘর্ষের বিষয়ে কুষ্টিয়া জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ফয়সাল মাহমুদ বলেন, এখানে দুপক্ষের মধ্যে একটা ইস্যুকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। আমরা পুলিশ এসে বিষয়টা দুপক্ষের সঙ্গে কথা বলে এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে বর্তমানে একটা স্বাভাবিক পরিস্থিতি বিরাজ করিয়েছি। তার পরও আমরা আমাদের অবস্থান এখানে রেখেছি, যাতে পরে আর উত্তপ্ত না হয়।
সংঘর্ষের বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর বলেন, ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলেছি। এই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়াও বহিরাগত প্রবেশ নিষিদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।