হরমুজ প্রণালিতে নতুন নৌপথ চালুর বিষয়ে শিগগিরই চুক্তি হবে: ইরান
হরমুজ প্রণালিতে নতুন নৌপথ চালুর বিষয়ে শিগগিরই চুক্তি হবে: ইরান
editor
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬, ০৯:৫৭ অপরাহ্ণ
Manual6 Ad Code
অনলাইন ডেস্ক
Manual2 Ad Code
আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই হরমুজ প্রণালিতে নতুন একটি নৌপথ চালুর চুক্তির আশা করছে ইরান। তবে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা ও শত্রুতামূলক তৎপরতা পুরোপুরি বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত এই কৌশলগত জলপথটি পুরোপুরি উন্মুক্ত করা হবে না বলে রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) জানিয়ে দিয়েছেন দেশটির এক শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা।
ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজাই রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেছেন, প্রস্তাবিত এই নৌপথ দিয়ে কোন জাহাজ প্রবেশ করবে আর কোন জাহাজ বের হবে, সেই সিদ্ধান্ত তেহরানই নেবে।
ইরান ও ওমান হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে একটি অস্থায়ী নৌপথ চালুর বিষয়ে আলোচনা চালাচ্ছে। এই পথের কিছু অংশ দুই দেশের জলসীমার মধ্য দিয়ে যাবে। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবহন হতো। যুদ্ধের কারণে জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর আবার চালু করার কূটনৈতিক উদ্যোগের অংশ হিসেবেই দুই দেশ এখন আলোচনা করছে।
Manual8 Ad Code
রেজাই স্পষ্ট করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র হামলা ও ইরান যেসব কার্যক্রমকে অন্তর্ঘাতমূলক বলে মনে করে, সেগুলো থেকে বিরত থাকলেই কেবল তেহরান হরমুজ প্রণালি খোলা রাখার নিশ্চয়তা দেবে। তিনি জানান, জুনে স্বাক্ষরিত মার্কিন-ইরান সমঝোতা স্মারকের মূল সমস্যা ছিল গ্যারান্টির অভাব। মধ্যস্থতাকারীরাও সেই সমঝোতা বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা দিতে পারেননি। ওই চুক্তির আওতায় ওয়াশিংটনকে ইরানের ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ তুলে নেওয়ার কথা ছিল। অন্যদিকে তেহরানের দায়িত্ব ছিল হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা। কিন্তু বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে বিরোধের জেরে সেই চুক্তি ভেঙে যায়।
নতুন নৌপথ নিয়ে আলোচনা চললেও রেজাই জোর দিয়ে বলেছেন, বর্তমানে হরমুজ প্রণালি ‘সম্পূর্ণ বন্ধ’ রয়েছে। প্রতিদিন এই জলপথ দিয়ে সর্বোচ্চ সাত-আটটি জাহাজ চলাচল করছে। এর মধ্যে পাঁচ-ছয়টি জাহাজ ইরানের প্রয়োজনীয় পণ্য বহন করছে। মার্কিন বাহিনী মাঝেমধ্যে ওমানের কাছাকাছি জলসীমা দিয়ে কয়েকটি জাহাজ চলাচলে সহায়তা করে বলেও তিনি দাবি করেন। তবে সেসব জাহাজ সাধারণত হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয় এবং অক্ষত অবস্থায় গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে না। এ ধরনের চলাচলকে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া বলা যায় না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। জলপথটি কতটা খোলা রয়েছে, তা নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের বক্তব্যও পরস্পরবিরোধী।
রেজাই আরও জানান, ইরান শিগগিরই হরমুজ প্রণালির আশপাশে একটি নিয়ন্ত্রিত এলাকা ঘোষণা করবে। ওই এলাকায় প্রবেশকারী জাহাজগুলোকে ইরানের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রাখা হবে। তেহরানের অনুমতি ছাড়া সেসব জাহাজ আর হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করতে পারবে না। তিনি বলেন, ইরান এই জলপথে বিধিনিষেধ আরও কঠোর করছে। তার দাবি, সেখানে তেহরানের আরোপ করা নিষেধাজ্ঞার প্রভাব শেষ পর্যন্ত ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রভাবের চেয়েও বেশি হবে।
Manual3 Ad Code
সামরিক দিক থেকে রেজাই বলেন, ৪৮ ঘণ্টা আগে ইরান প্রথমবারের মতো দেশটিতে তৈরি একটি যুদ্ধজাহাজ থেকে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র যুক্তরাষ্ট্রের একটি নৌযানের বিরুদ্ধে পরীক্ষা করেছে। দুই দেশের মধ্যে নতুন করে সমুদ্রপথে সংঘর্ষের সময়ই তাঁর এসব মন্তব্য এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড শনিবার জানিয়েছে, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী দুটি মার্কিন নৌযান লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার পর মার্কিন বাহিনী ইরানের তিনটি অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে।
এই সংঘাতের অর্থনৈতিক প্রভাব কমিয়ে দেখানোর চেষ্টা করেছেন রেজাই। তিনি বলেছেন, ইরানের কাছে খাদ্য ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্যের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। একই সঙ্গে দেশটি এখনও তেল বিক্রি করছে এবং রপ্তানি করা তেলের অর্থও পাচ্ছে।
এমন এক সময়ে রেজাই এই মন্তব্য করলেন, যখন ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ অবরোধের কারণে দেশটির তেল রপ্তানি আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। উল্লেখ্য, সরকারের রাজস্ব এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের মূল প্রধান উৎসই হলো এই তেল রপ্তানি।