ইরানকে গোপনে সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে সহায়তা করছে রাশিয়া। এসব ক্ষেপণাস্ত্র মূলত জাহাজবিধ্বংসী ও স্থলভাগে হামলার কাজে ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হতে পারে বলে ধারণা বিশেষজ্ঞদের। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে লন্ডনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ফিন্যান্সিয়াল টাইমস (এফটি) এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে।
এফটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সি৪৩০এল সাংকেতিক নামে এই কর্মসূচি ২০২৩ সালে শুরু হয়েছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় অস্ত্র রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান রোসোবোরোনএক্সপোর্ট যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা এনপিও মাশিনোস্ট্রোইনিয়ার সঙ্গে সমন্বয় করে কর্মসূচিটি আয়োজন করেছে।
Manual4 Ad Code
এফটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে রুশ অস্ত্র রপ্তানি কর্মকর্তারা এবং এনপিও মাশিনোস্ট্রোইনিয়ার জ্যেষ্ঠ প্রকৌশলীরা একাধিকবার ইরান সফর করেন।
সফরকারী প্রকৌশলীদের মধ্যে ছিলেন সমুদ্র থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র কমপ্লেক্সের প্রধান নকশাবিদ আলেকজান্ডার দেরগাচেভ; এনপিও মাশিনোস্ট্রোইনিয়ার এয়ার-ব্রিদিং প্রপালশন ইউনিটের নকশা বিভাগের প্রধান এবং ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের সুপারসনিক র্যামজেট প্রপালশনের বিশেষজ্ঞ আলেকজান্ডার চেবাকভ; এবং অ্যারোডাইনামিকস ও ব্যালিস্টিকস বিভাগের প্রধান ইউরি প্রোখোরচুক।
এফটি আরও জানিয়েছে, রোসোবোরোনএক্সপোর্টের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ও মহাকাশ বিভাগের প্রধান ভ্লাদিস্লাভ কুজমিচেভ ইরানে তৃতীয় দফার সফরে ওই প্রতিনিধিদলের সঙ্গে ছিলেন। পরে তিনি ইরানের সঙ্গে সি৪৩০এল চুক্তি নিয়ে আলোচনা করেন।
২০২৫ সালের মধ্যে এনপিও মাশিনোস্ট্রোইনিয়া ইরানের কাছ থেকে বিভিন্ন প্রযুক্তিগত নথি ও উপকরণ পায়। রুশ প্রকৌশলীরা সেগুলো বিশ্লেষণ করেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন।
এফটির হাতে আসা ২০২৫ সালের এপ্রিলের একটি চিঠিপত্রে দেখা যায়, রোসোবোরোনএক্সপোর্ট ইরানে রুশ বিশেষজ্ঞদের একটি প্রতিনিধিদল পাঠানোর প্রস্তাব দেয়। সফরের আগে রুশ প্রকৌশলীদের প্রশ্নগুলোর উত্তর দেয়ার জন্য তেহরানের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক অস্ত্র শনাক্তকারী সংস্থা কনফ্লিক্ট আর্মামেন্ট রিসার্চের ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র বিশেষজ্ঞ ও জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক ফ্যাবিয়ান হিনজ এফটিকে বলেন, প্রযুক্তি হস্তান্তর বলতে অনেকেই শুধু নকশা, যন্ত্রাংশ বা পুরো ক্ষেপণাস্ত্র পাঠানোর বিষয়টি বোঝেন।
তিনি বলেন, কিন্তু ৬০ বছর বয়সী একজন প্রকৌশলীকে তার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সমস্যা সমাধানের জন্য সেখানে পাঠানোও অত্যন্ত মূল্যবান।
এদিকে মঙ্গলবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ইরানের যুদ্ধ এবং এর ফলে আরোপিত নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে মস্কোর অবস্থানের জন্য রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, মস্কো ও তেহরান একসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কথিত ‘‘একতরফাবাদ’’ প্রতিহত করতে পারে।