আজ বৃহস্পতিবার, ১লা অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৬ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চাঁদাবাজদের’ গ্রেপ্তারে যাওয়া পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি, আহত ১২ সদস্য

editor
প্রকাশিত অক্টোবর ১, ২০২৬, ০৬:৫০ অপরাহ্ণ
চাঁদাবাজদের’ গ্রেপ্তারে যাওয়া পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি, আহত ১২ সদস্য

Manual7 Ad Code

অনলাইন ডেস্ক

চট্টগ্রামের রাউজানে চাঁদাবাজি ও নৈরাজ্যমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত সংঘবদ্ধ সশস্ত্র অপরাধীচক্রের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযানে গুলিবিনিময়ের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অপরাধীরা এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়লে আত্মরক্ষায় পাল্টা গুলি চালায় পুলিশ। গোলাগুলিতে ১২ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুর ২টার দিকে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

পুলিশের ভাষ্য, অভিযানে দিলদার হোসেন (৩৭) নামে এক সন্ত্রাসীকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার হেফাজত ও দেখানো মতে একটি দোনলা বন্দুক, একটি একনলা কাটা বন্দুক, ১১৯ রাউন্ড চায়না রাইফেলের গুলি, ছয় রাউন্ড সীসা কার্তুজ, চারটি রামদাসহ বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে।

Manual7 Ad Code

পুলিশ জানায়, রাউজান থানার ৮ নম্বর কদলপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ কদলপুর জয়নগর বড়ুয়া পাড়া এলাকায় মো. জানে আলম ওরফে ‘ডাকাত আলম’ এবং মোহাম্মদ আজিজ ওরফে ‘আজিজ বসের’ নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে চাঁদা দাবি ও আদায় করে আসছিল। সর্বশেষ গত ২৫ সেপ্টেম্বর তারা আবু বক্কর চৌধুরীর বাড়িতে গিয়ে চাঁদা দাবি করে। বিষয়টি যাচাই করে সত্যতা পাওয়ার পর সংশ্লিষ্টদের গ্রেপ্তারে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম রাউজান থানা পুলিশকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।

Manual4 Ad Code

এরই ধারাবাহিকতায় গত বুধবার রাত পৌনে ১১টার দিকে জানে আলম ওরফে ডাকাত আলমের বসতঘরের সামনে অভিযান চালায় রাউজান থানা পুলিশ। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ঘরের ভেতরে থাকা জানে আলম ওরফে ডাকাত আলম (৪২), মোহাম্মদ আজিজ ওরফে আজিজ বস (৫২), দিলদার হোসেন (৩৭), মো. রুবেল (২৭), মো. মামুন-অর-রশিদ ওরফে মামুন (৩৫) ও মো. বাঁচা (৪৫)সহ সন্ত্রাসীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে।

আকস্মিক সশস্ত্র হামলার মুখে পুলিশ সদস্যরা আত্মরক্ষার্থে তাৎক্ষণিকভাবে পাল্টা গুলি চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ সময় এসআই (নিরস্ত্র) মো. জান্নাতুন নাঈম রাজন, এসআই মো. খোরশেদ আলম, এসআই মো. বায়েজিদ মৃধা, এসআই মো. জাহাঙ্গীর আলম, এএসআই মো. জুয়েল চন্দ্র বিশ্বাস, এএসআই মো. রবিউল হোসেনসহ মোট ১২ পুলিশ সদস্য আহত হন।

Manual1 Ad Code


অভিযানের একপর্যায়ে দিলদার হোসেনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আটক করা হয়। অন্য সন্ত্রাসীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে আটক ব্যক্তির হেফাজত ও তার দেখানো মতে অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধার হওয়া আলামতের মধ্যে রয়েছে একটি ডিবিবিএল (দোনলা বন্দুক), একটি এসবিবিএল (একনলা কাটা বন্দুক), ১১৯ রাউন্ড চায়না রাইফেলের গুলি, ছয় রাউন্ড সীসা কার্তুজ, চারটি রামদা, দুটি কটি এবং দুটি গুলি রাখার প্রসেস।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে গ্রেপ্তার দিলদার ও পলাতক সহযোগীরা সংঘবদ্ধ ও অস্ত্রধারী অপরাধী হিসেবে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

রাউজান থানার ওসি সাইফুল ইসলাম ইত্তেফাক ডিজিটালকে বলেন, গুলিবিনিময় ঘটনায় আহত পুলিশ সদস্যরা রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা গ্রহণ করেন। আটক আসামিকে ইতোমধ্যে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

Manual4 Ad Code

চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার হচ্ছেচাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার হচ্ছে
এর আগে গত ২৯ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে কদলপুর এলাকায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে তিনজনকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে একটি দেশীয় তৈরি এলজি, দুই রাউন্ড সীসা কার্তুজ, একটি রামদা ও একটি ছোরা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ডাকাতির প্রস্তুতি ও অস্ত্র আইনে পৃথক দুটি মামলা করা হয়।

পুলিশের ধারাবাহিক অভিযানে কদলপুর এলাকায় চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও ডাকাতির প্রস্তুতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। সুএঃ ইত্তেফাক