সিলেটে নদী ভাঙন ও বন্যা ঠেকাতে স্থায়ী সমাধানের পথে সরকার: বাণিজ্যমন্ত্রী
সিলেটে নদী ভাঙন ও বন্যা ঠেকাতে স্থায়ী সমাধানের পথে সরকার: বাণিজ্যমন্ত্রী
editor
প্রকাশিত অক্টোবর ১, ২০২৬, ০২:৫৩ অপরাহ্ণ
Manual3 Ad Code
উৎফল বড়ুয়া, সিলেট
সিলেটে নদীভাঙন, বন্যা ও জলাবদ্ধতার দীর্ঘদিনের সমস্যা মোকাবিলায় স্থায়ী ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পথে এগোচ্ছে সরকার। সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর ভাঙনপ্রবণ এলাকা সুরক্ষিত করতে জরুরি প্রতিরক্ষা কাজের পাশাপাশি নদীতীর সংরক্ষণ, পুনঃখনন এবং সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনায় একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
Manual1 Ad Code
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সিলেট সদর উপজেলায় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাস্তবায়নাধীন ‘সুরমা-কুশিয়ারা নদী অববাহিকার উন্নয়ন এবং বন্যা ও সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনা প্রকল্প (১ম পর্যায়)’-এর আওতায় কানিশাইলে সুরমা নদীর ডানতীরের নদীতীর প্রতিরক্ষা কাজের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
মন্ত্রী বলেন, সুরমা নদীর ভাঙন প্রতিরোধে বিভিন্ন এলাকায় পর্যায়ক্রমে তীর প্রতিরক্ষা কাজ বাস্তবায়ন করা হবে। এর মধ্যে মীরের চক এলাকায় ৩০০ মিটার, মেহন্দিবাগে ৪০০ মিটার, কানিশাইলে ৫৫০ মিটার, টোকের বাজারে ৫০০ মিটার এবং মীরেরগাঁওয়ে ৫০০ মিটার নদীতীর প্রতিরক্ষা কাজ রয়েছে।
Manual5 Ad Code
তিনি জানান, এর পাশাপাশি কুশিয়ারা ও বাসিয়া নদী পুনঃখনন, রিজিং এবং সারি ও আরশারিক নদীর তীর প্রতিরক্ষা কাজও পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।
উন্নয়নকাজের গুণগত মান নিশ্চিতে স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, কাজের অগ্রগতি ও মান নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। এজন্য স্থানীয় মসজিদের ইমাম, স্কুলের প্রধান শিক্ষক, অবসরপ্রাপ্ত প্রকৌশলী ও বিশিষ্ট নাগরিকদের সমন্বয়ে তদারকি কমিটি গঠনের আহ্বান জানান তিনি।
উন্নয়নকাজে অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রতিরোধেও সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, সিলেটের বন্যা ও জলাবদ্ধতা নিরসনে বড় ধরনের প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এর আওতায় সুরমা নদীর উভয় তীরে প্রায় ১৭ কিলোমিটার করে বাঁধ ও সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বন্যা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি নগরবাসীর হাঁটার সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং নদীকেন্দ্রিক পর্যটনের নতুন সম্ভাবনাও তৈরি হবে।
Manual5 Ad Code
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির আরও বলেন, সিলেটের উন্নয়ন একটি সমন্বিত উদ্যোগের বিষয়। সরকার, সিটি কর্পোরেশন, পানি উন্নয়ন বোর্ড, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব।
তিনি সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে সিলেটের নদীভাঙন, বন্যা ও জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান করে উন্নয়ন কার্যক্রম আরও এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।