ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার: ‘নরকে এক ব্যয়বহুল অভিযান’—ট্রাম্প
ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার: ‘নরকে এক ব্যয়বহুল অভিযান’—ট্রাম্প
editor
প্রকাশিত অক্টোবর ১, ২০২৬, ০৪:০৪ অপরাহ্ণ
Manual6 Ad Code
অনলাইন ডেস্ক
ইরাক থেকে সব মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরাকে দীর্ঘদিনের মার্কিন সামরিক অভিযানকে তিনি ‘নরকে একটি ব্যয়বহুল অভিযান’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ইরাক থেকে শেষ মার্কিন সেনাদেরও প্রত্যাহার করে নেয় ওয়াশিংটন। এর মধ্য দিয়ে দেশটিতে জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ১২ বছরের সামরিক অভিযানের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি হলো।
বাগদাদ ও ওয়াশিংটনের মধ্যে হওয়া সমঝোতা অনুযায়ী উত্তর ইরাকের একটি বিমানঘাঁটি থেকে সর্বশেষ মার্কিন সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম সরিয়ে নেওয়া হয়।
সেনা প্রত্যাহারের নির্ধারিত সময়সীমা ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অভিযান শেষ হওয়াকে ‘সুশৃঙ্খল’ বলে উল্লেখ করেছেন ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, অনেক আগেই এই অধ্যায়ের শেষ হওয়া উচিত ছিল। ‘অত্যন্ত বাজে একটি সিদ্ধান্তের’ কারণে যুক্তরাষ্ট্র এই ‘গোলকধাঁধায়’ জড়িয়ে পড়েছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ট্রাম্প আরও বলেন, এই প্রত্যাহার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরাক দুই দেশের জন্যই একটি বিজয় এবং দায়েশের (আইএস) বিরুদ্ধে অর্জিত সাফল্যের প্রতীক।
ইরাক থেকে সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরাক প্রায় দুই বছর আগেই সমঝোতায় পৌঁছেছিল। তবে এমন এক সময়ে মার্কিন বাহিনী ইরাক ছাড়ল, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাতের প্রভাব ইরাকেও পড়েছে। ইরানে সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো বিভিন্ন সময়ে ইরাকে মার্কিন সেনাদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে এসব গোষ্ঠীর অবস্থানেও হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি কমিয়ে এশিয়ার দিকে বেশি মনোযোগ দেওয়ার চেষ্টা গত কয়েক বছর ধরে করে আসছে ওয়াশিংটন। তবে একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সংঘাতে জড়িয়ে পড়ায় সেই কৌশল নিয়ে প্রশ্নও উঠেছে।
ইরাকের জন্য মার্কিন সামরিক অভিযানের সমাপ্তিকে দেশটির সরকার নিজেদের শক্তি ও সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার প্রতীক হিসেবে দেখছে। তবে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার নিয়ে দেশটির সব মহলে একই ধরনের স্বস্তি নেই। বিশেষ করে কুর্দিদের একটি অংশের মধ্যে আইএস আবার সক্রিয় হয়ে ওঠা এবং ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রভাব বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
Manual7 Ad Code
এদিকে ইরাকের বিভিন্ন সশস্ত্র মিলিশিয়া গোষ্ঠীর ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। এসব গোষ্ঠীকে নিরস্ত্র করার চেষ্টা করছে বাগদাদ। তবে এখন পর্যন্ত এ উদ্যোগে বড় ধরনের অগ্রগতি হয়নি।
ইরাকে নতুন অধ্যায়ের সূচনা
পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল এক বিবৃতিতে জানান, উত্তর ইরাকের আধা-স্বায়ত্তশাসিত কুর্দি অঞ্চলের ইরবিল বিমানঘাঁটি থেকে মার্কিন সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম সরিয়ে নেওয়ার কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
তিনি বলেন, এই পদক্ষেপ ১২ বছরব্যাপী অভিযানের সাফল্যকে তুলে ধরছে। ওই অভিযানের মাধ্যমে ইরাক ও আশপাশের অঞ্চলের জন্য হুমকি হয়ে ওঠা দায়েশকে পরাজিত করা সম্ভব হয়েছে।
Manual1 Ad Code
তবে সেনা প্রত্যাহারের পরও ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও গোয়েন্দা সহায়তা দেওয়ার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানান পার্নেল।
ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জাইদি মার্কিন সেনা প্রত্যাহারকে ‘নতুন অধ্যায়ের সূচনা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, আইএসের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবে ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনী। একই সঙ্গে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা কোনো গোষ্ঠীর হাতে অস্ত্র না থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করার কথা জানান তিনি।
সাদ্দাম হোসেনকে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্যে ২০০৩ সালে ইরাকে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। ২০১১ সালে মার্কিন বাহিনী ইরাক থেকে প্রত্যাহার করা হলেও তিন বছর পর আইএসের উত্থানের কারণে ইরাকি সরকারের অনুরোধে আবারও দেশটিতে ফিরে আসে মার্কিন সেনারা।
Manual2 Ad Code
ওই সময় আইএস ইরাকের বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করে নিয়েছিল। পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক জোটের সহায়তায় ইরাকি বাহিনী গোষ্ঠীটির নিয়ন্ত্রণ থেকে অধিকাংশ এলাকা পুনরুদ্ধার করে।
Manual8 Ad Code
বর্তমানে আইএসের কার্যক্রম মূলত বিচ্ছিন্ন কিছু ‘স্লিপার সেল’এর মধ্যে সীমাবদ্ধ। এ পরিস্থিতিতে ২০২৪ সালে ইরাক ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক অভিযানের সমাপ্তির বিষয়ে সম্মত হয়। সেই সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় বুধবার ইরাক থেকে সব মার্কিন সেনা প্রত্যাহার সম্পন্ন হলো।