তাহসিফের ‘জুনিয়র বন্ধু’ দীপকে নৌ পুলিশের কাছে হস্তান্তর
তাহসিফের ‘জুনিয়র বন্ধু’ দীপকে নৌ পুলিশের কাছে হস্তান্তর
editor
প্রকাশিত October 31, 2026, 01:58 AM
Manual6 Ad Code
অনলাইন ডেস্ক
বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় তার ‘জুনিয়র বন্ধু’ দীপকে পিবিআইয়ের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ ও ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর নৌ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। নিখোঁজ হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে প্রায় ছয় ঘণ্টা তাহসিফের সঙ্গে সময় কাটানো এই তরুণকে গত বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দিবাগত রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাবর রোডের বাসা থেকে আটক করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
Manual4 Ad Code
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দীপকে সঙ্গে নিয়ে টঙ্গীর তুরাগ নদসংলগ্ন মাজার বস্তি এলাকার ২৯ নম্বর সীমানা পিলার সংলগ্ন মাঠে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পিবিআই। সেখানে দীপের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি নম্বরপ্লেটবিহীন কালো রঙের সুজুকি জিক্সার ১৫০ মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়, যা নিহত তাহসিফের বলে ধারণা করা হচ্ছে।
Manual8 Ad Code
পিবিআই জানিয়েছে, দীপের দেওয়া বয়ানে বেশ কিছু অসংগতি রয়েছে এবং তারা কেন ওই রাতে সেখানে গিয়েছিলেন সে বিষয়ে তিনি একেক সময় একেক রকম তথ্য দিচ্ছেন। দীপের দাবি অনুযায়ী, ঘটনার রাতে তুরাগ নদসংলগ্ন এলাকায় কথা বলার সময় পুলিশ ইউনিফর্ম পরিহিত কয়েকজন তাদের ধাওয়া করলে তাহসিফ ভয়ে নদীতে ঝাঁপ দেন এবং তিনি নিজে আড়ালে লুকিয়ে পরে পালিয়ে যান। তবে ধাওয়াকারীরা আসলেই পুলিশ ছিলেন কি না কিংবা তাদের কোনো বৈধ উপস্থিতি ছিল কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে।
Manual2 Ad Code
মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় উত্তরার বাসা থেকে বের হওয়ার পর রাজউক উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের গ্যারেজে দিপের সঙ্গে তাহসিফের দেখা হয়। পরে মধ্যরাত পর্যন্ত তাদের মধ্যে দফায় দফায় মুঠোফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ হয়। ২৮ অক্টোবর বিকেলে টঙ্গীর তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার ঘড়ি ও পকেটের আইফোন দেখে পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলেও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ভিসেরা ও অন্যান্য নমুনা পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে।
নিহত কর্মকর্তার বাবা কে এম এনায়েতুল করিম ছেলের মৃত্যুকে স্বাভাবিক বলে মানতে নারাজ। তাহসিফ সাঁতার জানতেন এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পাইলট হওয়ায় সাঁতারের বিশেষ কোর্স সম্পন্ন করেছিলেন উল্লেখ করে তিনি দীপকে দেওয়া ধাওয়ায় নদীতে ঝাঁপ দেওয়ার তত্ত্ব প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড দাবি করে এর প্রকৃত রহস্য উদঘাটন চেয়েছেন। বর্তমানে নৌ পুলিশের মূল তদন্তের পাশাপাশি পিবিআই ছায়া তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।