যেভাবে মেট্রোরেলে বিনা টিকিটে চড়ার সুযোগ পান যাত্রীরা
যেভাবে মেট্রোরেলে বিনা টিকিটে চড়ার সুযোগ পান যাত্রীরা
editor
প্রকাশিত মার্চ ১৭, ২০২৫, ০৫:০৪ পূর্বাহ্ণ
Manual8 Ad Code
টাইমস নিউজ
ঢাকা ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি) পুলিশ মেট্রোরেলের চার জন কর্মীকে মৌখিক ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় বিচারের দাবিসহ অন্যান্য দাবিতে কর্ম বিরতিতে গিয়েছিলেন মেট্রোরেলের স্টাফরা।
Manual8 Ad Code
পরে এমডির আশ্বাসে কাজে ফিরেছেন। মাঝে এই কর্মবিরতির সময় অধিকাংশ যাত্রী বিনা টিকিটেই মেট্রোরেল চড়ার সুযোগ পান।
সোমবার (১৭ মার্চ) সকাল ৭টা ১০ মিনিট থেকে মেট্রোরেল চলাচল শুরু করে। কিন্তু স্টেশনে এসে উপস্থিত হলেও কাজ করছিলেন না মেট্রোরেলের স্টাফরা। ফলে সকালে ট্রেন চললেও কেউ যাত্রীদের কোনও সহায়তা করছিলেন না। এতে যাত্রীদের টিকিট পাঞ্চ না করেই অর্থাৎ বিনা টিকিটেই প্ল্যাটফর্মে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। কেউ কোনও বাধা দিচ্ছিলেন না।
পরে সকাল পৌনে ৯টায় ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারুক আহমেদ মিরপুর-১০ মেট্রোরেল স্টেশনে এসে স্টাফদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের দাবি পূরণের আশ্বাস দেন। এরপর তারা কাজে ফেরেন।
স্টেশনে কাজে ফেরা স্টাফরা জানান, এমডি এসে কর্মবিরতিতে যাওয়া স্টাফদের সঙ্গে কথা বলেন এবং দাবি পূরণের আশ্বাস দেন। এরপর তারা সবাই কাজে ফেরেন।
এদিকে সকালে বিনা টিকিটে ভ্রমণ করা কয়েকজন যাত্রীর সঙ্গে কথা হলে তারা বলেন, আমাদের তো বিনা টাকায় ভ্রমণের ইচ্ছা ছিল না। সকালে টিকিট মেশিন বন্ধ ছিল, গেট খোলা ছিল। ফলে পাঞ্চ বা টিকিট ছাড়াই আমাদের প্ল্যাটফর্মে যেতে বলা হয়। আমরা সরাসরি প্ল্যাটফর্মে গিয়ে ট্রেনে চড়ি। এতে করে সরকার অনেক টাকা রাজস্বও হারিয়েছে।
Manual5 Ad Code
মেট্রোরেলের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবা প্রতিষ্ঠানে হুটহাট কর্মবিরতিতে বিরক্ত প্রকাশ করে একাধিক যাত্রী বলেন, এর আগেও শুনেছিলাম অন্য আরেক ইস্যুতে তারা কর্মবিরতিতে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল। তখন চিন্তায় ছিলাম। আজ আরেক ইস্যুতে কর্মবিরতিতে চলে গিয়েছিল। তাদের ব্যক্তিগত সমস্যা থাকতে পারে, সেটা অফিশিয়ালি সমাধান করবেন। এ জন্য তো যাত্রীদের সমস্যায় ফেলতে পারেন না। তাদের দায়িত্বের প্রতি দায় থাকা দরকার।
এদিকে, এন্ট্রি গেটে যেসব যাত্রী কার্ড পাঞ্চ করেছেন কিন্তু এক্সিট গেটে মেশিন বন্ধ থাকায় সরাসরি বেরিয়ে গিয়েছিলেন তাদের জরিমানা এড়াতে কাউন্টারে এসে কার্ড আপডেট করে নিতে অনুরোধ জানিয়েছে ডিএমটিসিএল।
এর আগে, গত ১৬ মার্চ বিকালে সচিবালয় মেট্রোরেল স্টেশনে সিভিল পোশাকে দুই নারী বিনা টিকিটে মেট্রোরেলে ভ্রমণ করেন সুইং গেট দিয়ে পেইড জোন থেকে বের হতে চান। কর্তব্যরত সিআরএ কারণ জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যরা তর্কে জড়ান এবং পরে কন্ট্রোল রুমে চলে যান।
এরপর দুই এপিবিএন সদস্য একইভাবে সুইং গেট ব্যবহার করলে সিআরএ তাদের কাছেও কারণ জানতে চান। এ সময় তারা আগের ঘটনার জের ধরে তর্কে লিপ্ত হন। কিছুক্ষণ পর পুলিশের আরও কয়েকজন সদস্য এসে মেট্রোরেলকর্মীদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে এক পুলিশ সদস্য রাইফেল দিয়ে এক কর্মীর কাঁধে আঘাত করেন এবং অপর এক কর্মীকে টেনে নিয়ে মারধর ও বন্দুক তাক করে গুলি করার হুমকি দেন।
পরবর্তীতে, উপস্থিত স্টাফ ও যাত্রীদের হস্তক্ষেপে আহত কর্মীকে উদ্ধার করা হয়। উভয় পক্ষই হাতাহাতির ঘটনায় আহত হওয়ার অভিযোগ করে।
এ ঘটনার পর ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)-এর স্টাফরা ৬ দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো-
১. আগামী এক কার্যদিবসের মধ্যে ঘটনার মূল হোতা এসআই মাসুদকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের (কনস্টেবল রেজনুল, ইন্সপেক্টর রঞ্জিত) শাস্তি প্রদান ও প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে।
২. মেট্রোরেল স্টাফ ও যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য নিজস্ব সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তুলতে হবে।
৩. এমআরটি পুলিশকে অবিলম্বে বাতিল করতে হবে।
৪. স্টেশনে কর্মরত সিআরএ, টিএমও, স্টেশন কন্ট্রোলারসহ সব কর্মীর শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
Manual2 Ad Code
৫. অফিসিয়াল পরিচয়পত্র ও অনুমতি ছাড়া কেউ যেন পেইড জোনে প্রবেশ করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে।
Manual3 Ad Code
৬. আহত কর্মীদের সম্পূর্ণ চিকিৎসার দায়িত্ব কর্তৃপক্ষকে নিতে হবে।