যে কারণে দেশে বেড়েছে দারিদ্র্য হার ও খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা
যে কারণে দেশে বেড়েছে দারিদ্র্য হার ও খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা
editor
প্রকাশিত মার্চ ২৫, ২০২৫, ০১:৪৭ পূর্বাহ্ণ
Manual3 Ad Code
টাইমস নিউজ
Manual6 Ad Code
দেশে বর্তমানে মানুষের অবস্থা ২০২২ সালের তুলনায় খারাপ হয়েছে। অর্থাৎ ২০২৪ সালে বেড়েছে দারিদ্র্য হার ও খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা। দুই বছর আগে মানুষ যেমন ছিল, এখন তারা এরচেয়ে খারাপ আছেন।
বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) পারসেপশন সার্ভের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এসব তথ্য। সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত সংস্থাটির কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক সেমিনারে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।
বিআইডিএস-এর মহাপরিচালক ড. এ কে এনামুল হকের সভাপতিত্বে সেমিনারে সার্ভের প্রতিবেদন তুলে ধরেন বিআইডিএস-এর গবেষণা পরিচালক ড. মোহাম্মদ ইউনূস। সার্ভেটি ওয়ার্ল£ ফুড প্রোগ্রামের সহায়তায় বিআইডিএস-এর সাবেক মহাপরিচালক ড. বিনায়ক সেনের সঙ্গে যৌথভাবে পরিচালনা করেছেন ড. মোহাম্মদ ইউনূস। সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রামের বাংলাদেশের অফিসার ইনচার্জ সিসেমানি পারসেসমেন্ট।
Manual7 Ad Code
সার্ভে প্রসঙ্গে ড. মোহাম্মদ ইউনূস বলেন, পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ২০২২ সালের ‘হাইজহোল্ড ইনকাম অ্যান্ড এক্সপেনডিচার’ সার্ভের সঙ্গে বিআইডিএস-এর এ পারসেপশন সার্ভের তুলনা হবে না। তাবে বর্তমান মানুষের অবস্থা যে খারাপ, সেটি আমরা পেয়েছি। যেটি বাস্তবতার সঙ্গে মিল রয়েছে। তিনি বলেন, ২০২২ সালের হিসাবে দেশে গরিব মানুষ ছিল ২৪ দশমিক ৭৩ শতাংশ, সেটি বেড়ে ২০২৪ সালের জরিপে পাওয়া গেছে ২৬ দশমিক ৪৩ শতাংশ। সেই সঙ্গে অতি দরিদ্র মানুষের সংখ্যা ৬ দশমিক ০৬ থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ৬৩ শতাংশ। এক্ষেত্রে গ্রামে দরিদ্র মানুষের হার ২০২২ সালের ২২ দশমিক ৫৬ থেকে বেড়ে হয়েছে ২৪ দশমিক ১০ শতাংশ। একইভাবে অতিদরিদ্র মানুষের হার ৪ দশমিক ৯৪ থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ। এদিকে শহরে দরিদ্র মানুষের হার ২৮ দশমিক ৪৫ থেকে বেড়ে হয়েছে ৩০ দশমিক ৪৩ শতাংশ। এছাড়া অতি দারিদ্র্যের হার ৭ দশমিক ৯৮ থেকে বেড়ে হয়েছে ৮ দশমিক ১৬ শতাংশ।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকায় দারিদ্র্য হার ২০২২ সালের ১৮ দশমিক ৬৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৪ সাল হয়েছে ২৩ দশমিক ৪০ শতাংশ। এছাড়া অতি দারিদ্র্যের হার একই অর্থাৎ ৮ দশমিক ৮০ শতাংশই রয়েছে। খুলনায় দারিদ্র্য হার ২২ দশমিক ৩৩ থেকে ২৬ দশমিক ৫০ এবং অতি দারিদ্র্যের হার ৩ দশমিক ৮৩ থেকে বেড়ে ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ হয়েছে। রংপুরে দারিদ্র্য হার ২৮ দশমিক ৩৩ থেকে কমে হয়েছে ২৬ দশমিক ৮৩ এবং অতি দারিদ্র্য হার ২ থেকে বেড়ে হয়েছে ৪ শতাংশ। এছাড়া সিলেটে দারিদ্র্য হার ২৮ দশমিক ৮৩ থেকে বেড়ে ৩৪ দশমিক ৬৭ এবং অতি দারিদ্র্যের হার ৮ থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সার্ভেতে অংশ নেওয়া পরিবারগুলোর মধ্যে ২০২২ সালে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগত ৩৮ দশমিক ০৮ শতাংশ, ২০২৪ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৬ দশমিক ৩ শতাংশ।
Manual7 Ad Code
সভাপতির বক্তব্যে ড. এ কে এনামুল হক বলেন, ২০২২ সালে করা বিবিএস-এর সার্ভের তথ্যের সঙ্গে এই পারসেপশন সার্ভের তুলনা না হলেও বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে বুঝতে বিআইডিএস-এর এ সার্ভেটি গুরুত্বপূর্ণ। সরকারের নীতিনির্ধারণে এসব তথ্য ব্যাপক ভূমিকা রাখতে পারে। তবে দারিদ্র্য হার বেড়ে যাওয়ার অনেক কারণ থাকতে পারে। যেমন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়া, দেশে বন্যা ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও রাজনৈতিক কারণ ইত্যাদি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সিসেমানি পারসেসমেন্ট বলেন, এটি বিবিএস-এর সঙ্গে তুলনা না চললেও বর্তমান পরিস্থিতি বোঝাতে বেশ কাজে দেবে। এতে সরকারের যে কোনো নীতিনির্ধারণ অনেক বেশি সঠিক হবে।
Manual8 Ad Code
পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের যুগ্মসচিব ড. দীপঙ্কর বলেন, বিআইডিএস-এর সার্ভের সঙ্গে বিবিএস-এর জরিপের কখনো তুলনা করা যাবে না।