আমিরাতের সঙ্গে সামরিক চুক্তি ভারতের, আছে পারমাণবিক সহায়তাও
আমিরাতের সঙ্গে সামরিক চুক্তি ভারতের, আছে পারমাণবিক সহায়তাও
editor
প্রকাশিত জানুয়ারি ২০, ২০২৬, ১১:২০ অপরাহ্ণ
Manual3 Ad Code
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
Manual7 Ad Code
মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই জানাচ্ছে, ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) তাদের প্রতিরক্ষা ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও গভীর করার ব্যাপারে একমত হয়েছে।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুই দেশের মধ্যে হওয়া এক চুক্তির আওতায় আমিরাত থেকে ৩০০ কোটি ডলারের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কিনতে সম্মত হয়েছে ভারত। এর ফলে আবুধাবির সবচেয়ে বড় এলএনজি ক্রেতা হলো ভারত।
চুক্তিতে পারমাণবিক সহযোগিতার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বড় আকারের পারমাণবিক রিঅ্যাক্টর উন্নয়ন ও স্থাপন, পাশাপাশি পারমাণবিক নিরাপত্তা জোরদার করা।
ইউএইর প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের তিন ঘণ্টার ভারত সফরের সময় এই চুক্তি সই হয়। চুক্তি অনুযায়ী দুই দেশ ২০৩২ সালের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ২০০ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য ঠিক করেছে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে আলাপে মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান ইয়েমেন পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা করেছেন বলে জানা গেছে। ইয়েমেন ইস্যুতে সৌদি আরবের সঙ্গে ইউএইর সম্পর্কে সম্প্রতি বেশ টানাপোড়েন দেখা দিয়েছে।
Manual5 Ad Code
এ ছাড়া গাজা পরিস্থিতি ও ইরানে চলমান বিক্ষোভ নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
বদলে যাচ্ছে জোটের রাজনীতি
ভারত–ইউএই চুক্তিটি এমন এক সময়ে হলো, যখন সৌদি আরব ও পারমাণবিক অস্ত্রধারী পাকিস্তানের মধ্যে থাকা একটি প্রতিরক্ষা জোটে যোগ দেওয়ার চেষ্টা করছে তুরস্ক। এতে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন একটি সামরিক জোট গড়ে ওঠার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে যখন উপসাগরীয় অঞ্চল ও ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা বেড়েই চলেছে।
গত সেপ্টেম্বর পাকিস্তান ও সৌদি আরব একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করে। এর আগে দোহায় হামাস নেতাদের ওপর ইসরায়েলের হামলায় পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে ওঠে।
উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে ইসরায়েলের আগ্রাসন ঠেকাতে ওয়াশিংটনের আগ্রহ কতটা — তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পাকিস্তান–সৌদি চুক্তিতে বলা হয়েছে, এক দেশের ওপর হামলাকে উভয়ের ওপর আগ্রাসন হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
এপ্রিলে কাশ্মীরের পেহেলগাঁওয়ে এক সশস্ত্র হামলার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে চার দিনের তীব্র সামরিক উত্তেজনা দেখা দেয়। কয়েক দশকের মধ্যে এটি ছিল দুই দেশের বিমান বাহিনীর সবচেয়ে বড় সংঘর্ষ। এতে ভারতের কয়েকটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয় বলে দাবি করে পাকিস্তান।
Manual7 Ad Code
এর পর থেকে পাকিস্তান সামরিক সক্ষমতা ও ভূরাজনৈতিক পরিবর্তনকে কাজে লাগিয়ে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করে চলেছে। তাদের নিজেদের তৈরি জেএফ–১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান ভারতের সঙ্গে সংঘর্ষে যে ভূমিকা রেখেছে বলে পাকিস্তান দাবি করে, সেটিকে বিজ্ঞাপন বানিয়ে পাকিস্তান প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রপ্তানি বাড়ানোর চেষ্টা করে চলেছে।
ডিসেম্বরে পাকিস্তান পূর্ব লিবিয়ার নেতা খলিফা হাফতারের সঙ্গে ৪০০ কোটি ডলারের বেশি মূল্যের সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির চুক্তি করে। এর মধ্যে চীনের সঙ্গে যৌথভাবে তৈরি যুদ্ধবিমানও রয়েছে। এ ছাড়া সৌদি আরবের মধ্যস্থতায় সুদানে অস্ত্র ও যুদ্ধবিমান সরবরাহের জন্য প্রায় ১৫০ কোটি ডলারের আরেকটি চুক্তির কাছাকাছি রয়েছে পাকিস্তান।
পাকিস্তান ও সৌদি আরব প্রায় ২০০ কোটি ডলারের সৌদি ঋণকে জেএফ–১৭ যুদ্ধবিমান কেনার চুক্তিতে রূপান্তরের বিষয়েও আলোচনা করছে। এদিকে ইয়েমেনে আমিরাতের বিপরীতে সৌদি আরব সামরিক প্রভাব বাড়াতে চাইছে, আর পাকিস্তান আরব দেশগুলোর সঙ্গে বড় অস্ত্র চুক্তি করতে আগ্রহী।
এক সময় ঘনিষ্ঠ মিত্র থাকা সৌদি আরব ও ইউএইর মধ্যে আঞ্চলিক নীতিতে মতভেদ এখন স্পষ্ট। ইয়েমেন ও সুদানে তারা বিপরীত পক্ষকে সমর্থন করছে।
‘ইসলামিক ন্যাটোর প্রতি বার্তা’
ভারতীয় ডানপন্থী কিছু গণমাধ্যম ভারত–ইউএই প্রতিরক্ষা অংশীদারত্বকে পাকিস্তানের জন্য ‘ধাক্কা’ এবং তথাকথিত ‘ইসলামিক ন্যাটোর প্রতি স্পষ্ট বার্তা’ বলে বর্ণনা করেছে।
সংবাদমাধ্যম নেটওয়ার্ক১৮ এই চুক্তিকে পাকিস্তানের বাড়তে থাকা প্রতিরক্ষা তৎপরতার জবাবে ভারতের ‘কৌশলগত পাল্টা পদক্ষেপ’ হিসেবে তুলে ধরে। এই গণমাধ্যম গোষ্ঠীর মালিক ধনকুবের মুকেশ আম্বানি, যিনি মোদির বিজেপি সরকারের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত।
ভারত ও ইউএইর যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দুই দেশের নিরাপত্তা প্রধানদের নিয়মিত যোগাযোগ ও যৌথ সামরিক মহড়া এই অংশীদারত্বকে আরও গতি দিয়েছে। বিবৃতিতে সব ধরনের সন্ত্রাসবাদ – বিশেষ করে সীমান্ত–পেরিয়ে অন্য দেশে চালানো সন্ত্রাসবাদের নিন্দা করেছে দুই পক্ষ। প্রসঙ্গত, ভারত দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত পেরিয়ে গিয়ে কাশ্মীরে চালানো হামলার পেছনে পাকিস্তানের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ করে আসছে।
এই প্রতিরক্ষা অংশীদারত্বের কারণে ভারত ভবিষ্যতে উপসাগরীয় কোনো সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে কি না — এমন প্রশ্নের জবাবে ভারতের পররাষ্ট্রসচিব ভিক্রাম মিশ্রি বলেন, এটি মূলত একটি কৌশলগত প্রতিরক্ষা কাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ।
Manual2 Ad Code
তিনি বলেন, এটি দুই দেশের বিদ্যমান প্রতিরক্ষা সহযোগিতার স্বাভাবিক অগ্রগতি। কোনো নির্দিষ্ট আঞ্চলিক ঘটনা বা ভবিষ্যতের সম্ভাব্য সংঘাতে জড়ানোর উদ্দেশ্য থেকে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।