আজ বৃহস্পতিবার, ১২ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৭শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জাপানে নির্বাচন; আমেরিকার সমর্থন পাচ্ছে কোন পক্ষ, নির্বাচনের আগে সরাসরিই জানিয়ে দিলেন ট্রাম্প

editor
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২৬, ১১:২২ অপরাহ্ণ
জাপানে নির্বাচন; আমেরিকার সমর্থন পাচ্ছে কোন পক্ষ, নির্বাচনের আগে সরাসরিই জানিয়ে দিলেন ট্রাম্প

Manual8 Ad Code

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

জাপানে রোববার (৮ ফেব্রুয়ারী) অনুষ্ঠেয় আকস্মিক নির্বাচনের আগে দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

বৃহস্পতিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, তাকাইচি ইতিমধ্যে নিজেকে ‘একজন শক্তিশালী, ক্ষমতাবান ও প্রজ্ঞাবান নেতা’ হিসেবে প্রমাণ করেছেন — যিনি সত্যিই নিজের দেশকে ভালোবাসেন। তিনি আরও লেখেন, ‘তিনি জাপানের জনগণকে হতাশ করবেন না!’

সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টরা অন্য দেশের নির্বাচনে প্রকাশ্যে কোনো প্রার্থীকে সমর্থন দেন না। তবে ট্রাম্প আগেও এমন করেছেন। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি আর্জেন্টিনার হাভিয়ের মিলে এবং হাঙ্গেরির ভিক্তর অরবানকে সমর্থন জানিয়েছিলেন।

Manual5 Ad Code

ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক আরও স্থিতিশীল করতে চাইছে টোকিও। সেই প্রেক্ষাপটে তাকাইচি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোর চেষ্টা করেছেন।

Manual1 Ad Code

শুরুতে ট্রাম্প জাপানি পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন। পরে জুলাইয়ে জাপান যুক্তরাষ্ট্রে ৫৫০ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ৪০৭ বিলিয়ন পাউন্ড) বিনিয়োগে সম্মত হয়। এর বিনিময়ে ওয়াশিংটন শুল্ক কমিয়ে ১৫ শতাংশে নামায়।

Manual3 Ad Code


সানায়ে তাকাইচি। ফাইল ছবি

Manual8 Ad Code

৬৪ বছর বয়সী তাকাইচি গত অক্টোবরে ক্ষমতায় আসেন। তিনি নিজ দলের নেতৃত্ব নির্বাচনে জয়ী হন এবং পার্লামেন্টে পর্যাপ্ত সমর্থন পান। তবে এখন তিনি জনগণের সরাসরি সমর্থন পেতে নতুন করে নির্বাচন ডাক দিয়েছেন।

ক্ষমতা নেওয়ার মাত্র এক সপ্তাহ পরই টোকিওতে ট্রাম্পকে জাঁকজমকপূর্ণ অভ্যর্থনা জানান তাকাইচি। আকাসাকা প্যালেসে তাঁকে স্বাগত জানাতে সামরিক গার্ড অব অনার ও ব্যান্ড মোতায়েন করেন। এটাই ছিল তাকাইচির কূটনৈতিক অভিষেক। দৃশ্যগুলো ছিল নজরকাড়া। মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটনের ওপর দাঁড়িয়ে তাকাইচিকে দেখা যায়, মুষ্টিবদ্ধ হাত উঁচিয়ে ধরে আছেন তিনি। হাজারো মার্কিন সেনার সামনে ট্রাম্প তাঁর প্রশংসা করেন। সেই দৃশ্য বিশ্বজুড়ে প্রচারিত হয়।

তাকাইচি নিজেকে এমন একজন নেতা হিসেবে তুলে ধরতে চেয়েছেন, যাঁর সঙ্গে ট্রাম্প কাজ করতে আগ্রহী এবং ব্যক্তিগতভাবেও স্বচ্ছন্দ বোধ করেন।

প্রতিরক্ষা নীতিতেও দুই নেতার মধ্যে মিল আছে। ট্রাম্প চান, জাপান নিজের নিরাপত্তায় আরও বেশি ব্যয় করুক। তাকাইচিও একই মত পোষণ করেন। জাপানে এ নিয়ে জনমতও ধীরে ধীরে জোরালো হচ্ছে।

ওই সফরে দুই নেতা একে অপরের প্রশংসা করেন। পাশাপাশি বিরল খনিজ নিয়ে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। যুক্তরাষ্ট্র–জাপান সম্পর্কের ‘নতুন স্বর্ণযুগ’ শুরুর ঘোষণাও দেওয়া হয়। তাকাইচি ট্রাম্পকে ‘নতুন স্বর্ণযুগের অংশীদার’ বলে অভিহিত করেন এবং মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় তাঁর ভূমিকার প্রশংসা করেন।

ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে লেখেন, ‘জাপান সফরের সময় আমি এবং আমার প্রতিনিধিদল তাকাইচির নেতৃত্বে ভীষণভাবে মুগ্ধ হয়েছিলাম।’ তিনি উল্লেখ করেন, দুই দেশের মধ্যে জাতীয় নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতায় অগ্রগতি হয়েছে।

ট্রাম্প আরও জানান, আগামী ১৯ মার্চ তিনি তাকাইচিকে হোয়াইট হাউসে স্বাগত জানাতে চান।

আমার লক্ষ্য আয়রন লেডি হওয়া: তাকাইচি

ট্রাম্পের এই পোস্ট স্পষ্ট বার্তা দেয় — তাকাইচি এমন একজন নেতা, যার সঙ্গে তাঁর প্রশাসন কাজ করতে চায়। এই বার্তা শুধু জাপানের ভোটারদের জন্য নয়, বরং পুরো অঞ্চল, বিশেষ করে চীনের দিকেও ইঙ্গিত বহন করে।

চীন ও জাপানের মধ্যে বর্তমানে কূটনৈতিক টানাপোড়েন চলছে। ঐতিহাসিকভাবে টানটান এই সম্পর্ক গত এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় পৌঁছেছে।

গত নভেম্বরে তাকাইচি চীনের ক্ষোভের মুখে পড়েন। তিনি মন্তব্য করেছিলেন, চীন যদি তাইওয়ানে হামলা চালায়, তাহলে জাপান আত্মরক্ষার্থে প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে। পরে তিনি এই বক্তব্য প্রত্যাহার করতে অস্বীকৃতি জানান।

এমন উত্তেজনার মধ্যেই তাকাইচিকে সমর্থন দিলেন ট্রাম্প। এর এক দিন আগেই তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন।

ট্রাম্প বলেন, চীনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ‘অত্যন্ত ভালো’ এবং তিনি ও শি দুজনেই বোঝেন এই সম্পর্ক বজায় রাখা কতটা গুরুত্বপূর্ণ।

চীনা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, শি জিনপিং তাইওয়ানকে দুই দেশের সম্পর্কের ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, তাইওয়ান চীনের ভূখণ্ডের অংশ। একই সঙ্গে তাইওয়ানে অস্ত্র সরবরাহের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘সংযত’ থাকার আহ্বান জানান।

এখন পর্যন্ত জনমত জরিপগুলো তাকাইচির বড় জয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে রোববারের নির্বাচন জিতলেই তাঁর সব চ্যালেঞ্জ শেষ হবে না।

জাপানের স্থবির অর্থনীতি সামলানো, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নিরাপত্তাভিত্তিক গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রক্ষা করা এবং একই সঙ্গে সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার চীনের সঙ্গে সূক্ষ্ম ভারসাম্য বজায় রাখা — এই বিষয়গুলোই তাঁর নেতৃত্বের প্রকৃত পরীক্ষা হয়ে উঠবে।

 

তথ্য সুএঃ ইনডিপেনডেন্ট