টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ; পাকিস্তানকে পাত্তা না দিয়ে সুপার এইটে ভারত
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ; পাকিস্তানকে পাত্তা না দিয়ে সুপার এইটে ভারত
editor
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬, ১২:১৯ পূর্বাহ্ণ
Manual2 Ad Code
অনলাইন ডেস্ক:
ইশান কিষানের বিধ্বংসী ইনিংসের পর, পেস-স্পিনের যৌথ আক্রমণে জিতে বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে আধিপত্য ধরে রাখল ভারত।
অনেক টানাপোড়েন, বিতর্ক আর বৃষ্টির চোখরাঙানি পেরিয়ে ম্যাচ হলো নির্বিঘ্নে। তবে লড়াই জমল না একটুও। শুরুর ধাক্কা সামলে ইশান কিষানের খুনে ব্যাটিং ও কয়েকটি কার্যকর ইনিংসে ভারত গড়ল লড়াইয়ের পুঁজি। রান তাড়ায় মুখ থুবড়ে পড়ল পাকিস্তানের ব্যাটিং। বড় জয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইটে উঠল শিরোপাধারীরা।
কলম্বোয় রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারী) ‘এ’ গ্রুপের ম্যাচে ভারতের জয় ৬১ রানে। তাদের ১৭৫ রানের জবাবে ১১৪ রানে গুটিয়ে যায় পাকিস্তান।
বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে আধিপত্য ধরে রাখল ভারত। দুই দলের নয় বারের দেখায় ভারত জিতল আটটিতে। পাকিস্তান জিততে পারে শুধু ২০২১ আসরের ম্যাচে।
চলতি আসরে টানা তৃতীয় ও সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে টানা ১১ ম্যাচ জিতল ভারত।
কিষানের ১০ চার ও তিন ছক্কায় ৪০ বলে ৭৭ রানের ইনিংস গড়ে দিয়েছে বড় পার্থক্য। ম্যাচ-সেরার স্বীকৃতিও পান এই বাঁহাতি কিপার-ব্যাটসম্যান।
বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়া বাংলাদেশের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে শুরুতে ভারতের বিপক্ষে না খেলার ঘোষণা দিয়েছিল পাকিস্তান সরকার। ক্রিকেট বিশ্বের নানা আলোচনা-সমালোচনা এবং পরবর্তিতে আইসিসি, পিসিবি ও বিসিবির বৈঠকের পর সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে পাকিস্তান। তবে গত এশিয়া কাপে শুরু হওয়া ধারা ধরে রেখে এই ম্যাচেও শুরুতে ও শেষে পাকিস্তানের অধিনায়ক ও ক্রিকেটারদের সঙ্গে হাত মেলাননি ভারতীয় ক্রিকেটাররা।
আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে উইকেট ছিল কিছুটা মন্থর। টস জিতে বোলিং নিয়ে পাকিস্তানের শুরুটা ছিল আশা জাগানিয়া। প্রথম ওভারে নিজেকে বোলিংয়ে আনেন পাকিস্তান অধিনায়ক সালমান আলি আগা। অফ স্পিনারের পরপর তিন বলে রান করতে না পারার পর, উইকেট বিলিয়ে আসেন অসুস্থতা থেকে ফেরা আভিশেক শার্মা।
টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর ব্যাটসম্যান নিজের প্রথম বিশ্বকাপে দুই ম্যাচেই আউট হলেন শূন্য রানে।
তিন নম্বরে নামা তিলাক ভার্মাকে একরকম দর্শক বানিয়ে রেখে ঝড় তোলেন কিষান। দ্বিতীয় ওভারে শাহিন শাহ আফ্রিদির প্রথম বলে বিশাল ছক্কায় তার তাণ্ডবের শুরু। পরের বলে তিনি বাউন্ডারি পেয়ে যান ব্যাটের কানায় লেগে।
Manual2 Ad Code
পাওয়ার প্লেতে ভারত তোলে ১ উইকেটে ৫২ রান। যার ৪২ রানই কিষানের ব্যাটে। পরের ওভারে স্পিনার আবরার আহমেদকে পরপর তিনটি বাউন্ডারির পথে ফিফটি পূর্ণ করেন তিনি কেবল ২৭ বলে।
নবম ওভারে যখন সাইম আইয়ুবের দারুণ ডেলিভারিতে বোল্ড হয়ে থামল কিষানের ঝড়, দলের ৮৮ রানের মধ্যে তার একার অবদানই ৭৭! ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে টি-টোয়েন্টি ম্যাচে যা চতুর্থ সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস।
কিষানের বিদায়ের পর রান তোলার গতি কমে যায়। পঞ্চদশ ওভারে পরপর দুই বলে তিলাক (২৪ বলে ২৫) ও হার্দিক পান্ডিয়াকে ফেরান সাইম।
অধিনায়ক সুরিয়াকুমার ইয়াদাভ (২৯ বলে ৩২), শিভাম দুবে (১৭ বলে ২৭) ও রিঙ্কু সিংয়ের (৪ বলে ১১) দৃঢ়তায় ১৭৫ পর্যন্ত যেতে পারে ভারত।
ছয় জন স্পিনার ব্যবহার করে পাকিস্তান। ২৫ রানে ৩ উইকেট নিয়ে সফলতম বোলার সাইম। একমাত্র বিশেষজ্ঞ পেসার আফ্রিদি দুই ওভারে ৩১ রান দিয়ে পান একটি উইকেট।
অপ্রথাগত বোলিং অ্যাকশনের জন্য এই ম্যাচের আগে প্রবল আলোচনায় থাকা উসমান তারিক ২৪ রান দিয়ে নেন সুরিয়াকুমারের উইকেট।
ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ২৭ বলে ফিফটি করেন ইশান কিষান। ছবি: রয়টার্স
বিশ্বকাপে পাকিস্তান সর্বোচ্চ ১৭৬ রানের লক্ষ্য তাড়ায় জিতেছিল ২০১২ সালে, পাল্লেকেলেতে বাংলাদেশের বিপক্ষে। সেই ম্যাচের পুনরাবৃত্তি প্রয়োজন ছিল তাদের ভারতের বিপক্ষে।
কিন্তু শুরু থেকেই নিয়মিত উইকেট হারায় পাকিস্তান। প্রথম ওভারে পান্ডিয়াকে ছক্কায় ওড়ানোর চেষ্টায় শূন্য রানে ফেরেন সাহিবজাদা ফারহান।
জাসপ্রিত বুমরাহর প্রথম বলে ব্যাটের কানায় লেগে ছক্কা পেয়ে যান সাইম। এক বল পরই তাকে ফিরিয়ে দেন ভারতের তারকা পেসার। ওই ওভারেই বিদায় নেন সালমান।
Manual1 Ad Code
১৩ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে তখন ধুঁকছিল পাকিস্তান।
টপ অর্ডারের তিন ব্যাটসম্যানের মতো দুই অঙ্কে যেতে পারেননি চারে নামা বাবর আজমও। নিজের প্রথম ওভারে তাকে বোল্ড করেন বাঁহাতি স্পিনার আকসার প্যাটেল।
যা একটু লড়াইয়ের ইঙ্গিত মেলে উসমান খানের ব্যাটে, ৩৪ বলে ৪৪ রান করা সেই উসমানকেও পরে বিদায় করে দেন আকসার।
বাকিরা যোগ দেন আসা-যাওয়ার মিছিলে। পরপর দুই বলে ফাহিম আশরাফ ও আবরারকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগান রহস্য স্পিনার ভারুন চক্রবর্তি। হ্যাটট্রিক ডেলিভারিতে তারিকের প্যাডে লাগার পর ভারত রিভিউ নিলেও লাভ হয়নি।
৯৭ রানে ৯ উইকেট হারিয়ে একশর আগে গুটিয়ে যাওয়ার শ্ঙ্কায় পড়া পাকিস্তান ১১৪ পর্যন্ত যেতে পারে আফ্রিদির ১৯ বলে ২৩ রানের সুবাদে।
পান্ডিয়া, বুমরাহ, আকসার ও ভারুন নেন দুটি করে উইকেট।
তিন ম্যাচে শতভাগ সাফল্যে ৬ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের শীর্ষে আছে ভারত। ৪ পয়েন্ট নিয়ে দুই নম্বরে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের আর কোনো ম্যাচ বাকি নেই। তাদের সমান পয়েন্ট নিয়ে নেট রানরেটে পিছিয়ে তিনে থাকা পাকিস্তান শেষ ম্যাচে খেলবে নামিবিয়ার বিপক্ষে। ২ পয়েন্ট নিয়ে চার নম্বরের দল নেদারল্যান্ডস শেষ ম্যাচে ভারতের মুখোমুখি হবে।