ম্যাচ শেষে তাৎক্ষণিক উদযাপনের পর ভারতীয় দলের অনেকেরই মনে পড়ল জাসপ্রিত বুমরাহর কথা। ছুটে গিয়ে তার পিঠ চাপড়ে দিলেন কেউ কেউ, কেউ বা জড়ালেন বুকে। ইষান কিষান তো এই পেসারের সামনে গিয়ে সামরিক কায়দায় স্যালুট ঠুকে দিলেন। আরেকটু পরে ম্যান অব ম্যাচ ম্যাচের স্বীকৃতি পেয়ে সাঞ্জু স্যামসন বললেন, পুরস্কারটি পাওয়া উচিত আসলে বুমরাহর।
৭ ছক্কায় ৪২ বলে ৮৯ রানের ইনিংস খেলে ভারতকে বড় স্কোরের পথে নিয়ে গেছেন স্যামসন, ম্যাচ-সেরা তিনি হতে পারেন তো বটেই। তবে রান আর চার-ছক্কার সুনামির ম্যাচে যিনি রানের গতিতে বাঁধ দিয়েছেন, সেই বুমরাহকেই সবচেয়ে উপযুক্ত মনে করছেন স্যামসন।
“সব কৃতিত্ব জাসপ্রিত বুমরাহর। সে বিশ্বমানের বোলার, এক প্রজন্মে এমন বোলার একজনই আসে… আজকে সে এমন কিছুই দেখিয়েছে। এই পুরস্কার আসলে তার প্রাপ্য। শেষ দিকে সে ওরকম বোলিং না করলে এখন আমি এখানে দাঁড়িয়ে থাকতে পারতাম না। সব কৃতিত্ব তার ও বোলারদের, কঠিন পরিস্থিতিতে নিজেদের ওপর ভরসা রেখেছে তারা।”
Manual4 Ad Code
ম্যাচটি যারা দেখেছেন, স্যামসনের সঙ্গে দ্বিমত করার লোক থাকবে কমই। পঞ্চম ওভারে আক্রমণে এসে প্রথম বলেই হ্যারি ব্রুকের উইকেট নেন বুমরাহ। এরপর তিনি বোলিং করেন একাদশ ও ষোড়শ ওভারে। যথারীতি রান আটকানোর কাজটি করেন ভালোভাবেই। মূল ব্যবধান গড়ে দেন তিনি অষ্টাদশ ওভারে। জয়ের জন্য শেষ তিন ওভারে ইংল্যান্ডের প্রয়োজন যখন ওভারপ্রতি ১৫ রান, বুমরাহ ওই ওভারে রান দেন স্রেফ ৬!
দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে শতরানের কাছে থাকা জেকব বেথেল ও আরেক প্রান্তে স্যাম কারান ওই ওভারে বড় শট খেলা চেষ্টাই করেননি। বুমরাহর বোলিংয়ে বিপদের শঙ্কা থেকেই নিরাপদে ওভারটি পার করতে চেয়েছেন তারা। সেটিই শেষ পর্যন্ত গড়ে দিয়েছে বড় ব্যবধান। ভারত জিতেছে ৭ রানে।
যে ম্যাচে দুই দল মিলিয়ে রান উঠেছে ৪৯৯, ম্যাচর ওভারপ্রতি রান প্রায় সাড়ে ১২, সেখানে বুমরাহ দিয়েছেন ওভারপ্রতি মাত্র ৮.২৫ রান। তাকে ম্যাচ-সেরার দাবিদার বলে তাই ভুল কিছু বলেননি স্যামসন।
তবে এই ওপেনার নিজেও বড় কৃতিত্বের দাবিদার। আগের ম্যাচে বড় রান তাড়ায় দলকে জিতিয়েছেন তিনি স্মরণীয় ইনিংস খেলে। সেদিন দলকে উড়ন্ত সূচনা এনে দেওয়া, একপ্রান্ত আগলে রাখার পাশাপাশি রানের গতি ধরে রাখা, শেষ দিকে ঝড় তুলে দলকে জেতানো, ম্যাচের বিভিন্ন পরিস্থিতির দাবি মিটিয়ে ৫০ বলে অপরাজিত ৯৭ রানের স্মরণীয় ইনিংস উপহার দেন। এবার আগে ব্যাট করে ধ্রুপদি টি-টোয়েন্টি ব্যাটিংয়ে দলকে গড়ে দেন বড় স্কোরের ভিত।
দুই ম্যাচের ভিন্ন চ্যালেঞ্জ ম্যাচের পর তুলে ধরলেন ৩১ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান।
“গত ম্যাচটিতে ছিল দলকে এগিয়ে নেওয়ার ব্যাপার। যখনই মোমেন্টাম গড়ছিলাম, তখনই উইকেট পড়ছিল। এজন্য শেষ বল পর্যন্ত টিকে থেকে শেষ করতে হতো আমাকে। এই ম্যাচ ছিল পুরাপুরি ভিন্ন। ওয়াংখেড়েতে আগে ব্যাট করলে কোনো স্কোরই আসলে যথেষ্ট নয়। শুরুটা ভালো করার পর আমি চেয়েছি কাজে লাগাতে এবং যত বেশি সম্ভব চার ও ছক্কা মারতে।”