হোয়াইট হাউসে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক, ইরানে কি আবার হামলা করবেন ট্রাম্প
হোয়াইট হাউসে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক, ইরানে কি আবার হামলা করবেন ট্রাম্প
editor
প্রকাশিত মে ১২, ২০২৬, ১২:৩১ পূর্বাহ্ণ
Manual8 Ad Code
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতি ও শান্তি আলোচনা বড় ধরনের অচলাবস্থায় পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে তেহরানের বিরুদ্ধে আবারও সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা বিবেচনা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সোমবার (১১ মে) হোয়াইট হাউসে তার জাতীয় নিরাপত্তা দলের সঙ্গে এ বিষয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। তিনজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে এ খবর জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস।
Manual8 Ad Code
মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, ট্রাম্প যুদ্ধ শেষ করার জন্য একটি চুক্তি করতে আগ্রহী। কিন্তু তেহরান তার অনেক দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কোনও অর্থবহ ছাড় দিতে অস্বীকার করেছে। এই অচলাবস্থা সামরিক বিকল্পকে আবারও আলোচনার টেবিলে নিয়ে এসেছে। গত কয়েক দিনে ট্রাম্প বেশ কয়েকবার হুমকি দিয়েছেন যে, কূটনীতি ব্যর্থ হলে তিনি ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় বোমা হামলা শুরু করবেন।
শান্তি চুক্তির খসড়া প্রস্তাবের বিষয়ে ইরানের উত্তরের জন্য ১০ দিন অপেক্ষা করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। হোয়াইট হাউস আশা করেছিল, তেহরানের অবস্থান চুক্তির দিকে এগোবে। কিন্তু রবিবার ইরানের পক্ষ থেকে যে জবাব এসেছে, সেটিকে ইতিবাচকভাবে নেননি ট্রাম্প। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, তেহরান মার্কিন প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে, কারণ এটি ‘ট্রাম্পের অতিরিক্ত দাবির কাছে ইরানের আত্মসমর্পণ’ করার শামিল।
ট্রাম্পও তাৎক্ষণিকভাবে ইরানের এই জবাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমি এটি পছন্দ করিনি। এটি অনুপযুক্ত।’
সোমবারের বৈঠকে ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ, সিআইএ পরিচালক জন র্যাটক্লিফসহ প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারা উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। বৈঠকের আগে ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আমার কাছে একটি পরিকল্পনা আছে। ইরান কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র পেতে পারে না।’
Manual4 Ad Code
তিনি আরও বলেন, ‘ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি এখন মারাত্মকভাবে লাইফ সাপোর্টে আছে।’ ট্রাম্পের দাবি, ইরান আগে তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দিতে রাজি হয়েছিল, কিন্তু রবিবারের জবাবে তারা বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে নিজেদের অবস্থান বদলে ফেলেছে।
Manual4 Ad Code
দুই মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ট্রাম্প ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে এবং পারমাণবিক ইস্যুতে ছাড় দিতে বাধ্য করতে সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার দিকেই ঝুঁকছেন। এক কর্মকর্তা বলেন, ‘ট্রাম্প তাদের একটু শায়েস্তা করবেন।’ অপর একজন বলেন, ‘আমরা সবাই জানি পরিস্থিতি কোন দিকে যাচ্ছে।’
বিকল্প হিসেবে গত সপ্তাহে স্থগিত হওয়া প্রজেক্ট ফ্রিডম (জাহাজ চলাচলে নিরাপত্তা দেওয়ার অভিযান) পুনরায় শুরু করা অথবা আগের বিমান হামলার তালিকায় থাকা বাকি ২৫ শতাংশ লক্ষ্যবস্তুতে বোমা হামলা চালানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। তবে ইসরায়েল চাইছে মার্কিন বিশেষ বাহিনী যেন ইরানের ইউরেনিয়াম মজুত উদ্ধারে অভিযান চালায়। মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ট্রাম্প এই বিশেষ অভিযানে দ্বিধাগ্রস্ত।
এই সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই চলতি সপ্তাহে চীন সফরে যাচ্ছেন ট্রাম্প। বুধবার তার রওনা হওয়ার কথা রয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা, চীন থেকে ফেরার আগে ট্রাম্প বড় কোনও সামরিক অভিযানের নির্দেশ দেবেন না। সফরে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধ নিয়ে আলোচনার কথা রয়েছে। চীনও ইরানকে যুদ্ধ বন্ধ করতে এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে চুক্তি করতে উৎসাহিত করে আসছে। যদিও এখন পর্যন্ত তাতে কোনও সাফল্য আসেনি।