ভারতের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ি করিডোর বা ‘চিকেনস নেক’ অঞ্চলের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রীয় সরকারের সংস্থার কাছে হস্তান্তর করেছে পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকার।
শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকারের এই সিদ্ধান্তকে ভারতের সামরিক ও যোগাযোগ অবকাঠামোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মমতা ব্যানার্জির সময় থেকে আটকে থাকা এই জমি হস্তান্তর প্রকল্প সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে ইতোমধ্যেই গতি পেয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জমি হস্তান্তর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। যেসব জমি কেন্দ্রের হাতে তুলে দেয়া হচ্ছে তা আন্তর্জাতিক সীমান্তের কাছাকাছি।
Manual4 Ad Code
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মুখ্য সচিবের জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, দেশের সুরক্ষার কথা ভেবে রাজ্যের হাতে থাকে শিলিগুড়ি ও উত্তরবঙ্গের সাতটি সড়ক ন্যাশানাল হাইওয়ের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে হাসিমারা–জয়গাঁও হয়ে ভারত-ভুটান সীমান্ত পর্যন্ত সম্পূর্ণ অংশ, বারাদিঘি–ময়নাগুড়ি–চ্যাংরাবান্ধা হয়ে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত পর্যন্ত সম্পূর্ণ অংশ এবং শিলিগুড়ি (দার্জিলিং মোড়)–কার্শিয়াং–দার্জিলিং সম্পূর্ণ অংশ। এই সাতটি সড়কের মধ্যে পাঁচটিই সরাসরি শিলিগুড়ি করিডোরের মধ্যে দিয়ে গেছে।
এই রাস্তার কাজ সম্পূর্ণ হলে সীমান্ত এলাকায় পরিবহন ব্যবস্থায় গতি আসবে। শুধু তাই নয়, দ্রুত সরঞ্জাম থেকে শুরু করে রেশন সীমান্ত এলাকায় থাকা সেনাঘাঁটিগুলিতে পৌঁছানো সম্ভব হবে।
ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে ভারতের শিলিগুড়ি করিডোর অত্যন্ত সংবেদনশীল। নেপাল, ভুটান, বাংলাদেশ ও চীন চার দেশ ঘেরা এই করিডোর গোটা উত্তর-পূর্ব ভারতকে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করেছে। সবচেয়ে সরু অংশে এই ভূখণ্ডের প্রস্থ মাত্র প্রায় ২২ কিলোমিটার।