আজ সোমবার, ২৭শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১২ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভারত সফরে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী; দিল্লির সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের চেষ্টায় ওয়াশিংটন

editor
প্রকাশিত মে ২৪, ২০২৬, ০৮:৪৫ অপরাহ্ণ
ভারত সফরে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী; দিল্লির সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের চেষ্টায় ওয়াশিংটন

Manual2 Ad Code

অনলাইন ডেস্ক

Manual6 Ad Code

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও গতকাল শনিবার ভারতে এসে পৌঁছেছেন। এই সফরকে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত সম্পর্ক পুনরুদ্ধারে যুক্তরাষ্ট্রের চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভারতের ওপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক আরোপে দিল্লির সঙ্গে ওয়াশিংটনের টানাপোড়েন শুরু হয়।

এ ছাড়া পাকিস্তান ও চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে সুসম্পর্ক গড়ার কারণে দিল্লি নাখোশ। এই ক্ষতিগ্রস্ত অংশীদারিত্বকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই রুবিওর এই সফর। গতকাল শনিবার রয়টার্সের প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়।

বিবিসি লিখেছে, রুবিওর সফরটি এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন সম্প্রতি চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হয়েছে। ট্রাম্পের চীন সফরের মাত্র এক সপ্তাহের মাথায় রুবিও ভারত সফরে এলেন। দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশে এটি তাঁর প্রথম সফর।

গতকাল পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় অবতরণ করেন রুবিও। এখানে তিনি মাদার তেরেসা প্রতিষ্ঠিত মানবিক সংস্থার সদরদপ্তর পরিদর্শন করেন। রুবিও নিজেই রোমান ক্যাথলিক ধর্মাবলম্বী। দূতাবাসের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আগে নয়াদিল্লিতে তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে মোদি বলেন, বৈশ্বিক কল্যাণের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত একসঙ্গে কাজ করবে।

টাইমস অব ইন্ডিয়া জানায়, রুবিও শনিবার নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য, প্রযুক্তি এবং ইন্দো-প্যাসিফিকজুড়ে ভারত-মার্কিন কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর করার জন্য আলোচনা করেছেন।

বৈঠকের বিবরণ জানিয়ে ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর লিখেছেন, ‘নিরাপত্তা, বাণিজ্য এবং প্রযুক্তির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সহযোগিতা আরও গভীর করার উপায় নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। এই ক্ষেত্রগুলো আমাদের উভয় দেশকে শক্তিশালী এবং একটি উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিককে এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে।’

ক্ষতিগ্রস্ত সম্পর্ক পুনরুদ্ধারে রুবিওর প্রচেষ্টা

শুল্ক নিয়ে টানাপড়েন সৃষ্টির পর যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত বাণিজ্য বিষয়ে এখনও একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তি চূড়ান্ত করতে পারেনি। দিল্লি সফর করতে ট্রাম্পকে চাপ দিয়ে আসছিল মোদি সরকার। কিন্তু দিল্লির সঙ্গে ওয়াশিংটনের শুল্ক নিয়ে টানাপড়েনের কারণে ট্রাম্পের আর ভারত সফরে আসা হয়নি।

Manual2 Ad Code

বিশ্লেষকদের মতে, বাণিজ্য উত্তেজনা ও ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধসহ অন্যান্য কারণে ট্রাম্পের সফরটি ভেস্তে যায়। অন্যদিকে ভারতের প্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছে যুক্তরাষ্ট্র। বিশেষ করে ইরান যুদ্ধ শেষ করার চেষ্টায় ইসলামাবাদ একটি প্রধান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সম্পর্কের জন্য একটি নতুন অস্বস্তির কারণ। এ ছাড়া যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট ভারতকে রাশিয়ার তেলের ওপর থেকে নির্ভরশীলতা কমাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রচেষ্টাকেও বাধাগ্রস্ত করছে। এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার রুবিও বলেন, ‘ভারতের জ্বালানি সরবরাহে নিজেদের অংশ বাড়ানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে আলোচনা করছে। ভারত যতটা কিনবে, আমরা ততটাই বিক্রি করতে চাই।’

Manual8 Ad Code

পরামর্শক সংস্থা দ্য এশিয়া গ্রুপের সাবেক দক্ষিণ এশিয়া নীতি বিশেষজ্ঞ বসন্ত সাঙ্ঘেরা মনে করেন, ‘ট্রাম্পের বেইজিং সফর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে ভারতের উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে।’ সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ থিঙ্কট্যাঙ্কের রিচার্ড রসো আশা করেন, ‘দুদেশের সম্পর্কের বর্তমান নিম্নমুখী গতিপথ পরিবর্তনে রুবিও খুব বেশি প্রভাব ফেলতে পারবেন।’

Manual6 Ad Code