হরমুজ পেরিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানিবাহী ট্যাংকার চীন ও পাকিস্তানের পথে
হরমুজ পেরিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানিবাহী ট্যাংকার চীন ও পাকিস্তানের পথে
editor
প্রকাশিত মে ২৫, ২০২৬, ০৪:৩৬ অপরাহ্ণ
Manual7 Ad Code
অনলাইন ডেস্ক
প্রায় তিন মাস আটকে থাকার পর তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসবাহী (এলএনজি) দুটি ট্যাংকার হরমুজ প্রণালি পার হয়েছে। শিপিং তথ্য অনুযায়ী, সোমবার (২৫ মে) ট্যাংকার দুটি পাকিস্তান ও চীনে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। এর আগে ২৩ মে ইরাকের অপরিশোধিত তেল পরিবহনকারী একটি সুপারট্যাংকার পারস্য উপসাগর পার হয়েছে।
Manual1 Ad Code
হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবাহিত হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে আগ্রাসন চালায়। পাল্টা জবাবের অংশ হিসেবে ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে নৌযান চলাচল কার্যত বন্ধ করে দেয়।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে নৌযান চলাচলের জন্য ইরান একটি ট্রানজিট রুট নির্ধারণ করে দিয়েছে। চলতি মাসে ওই রুট দিয়ে কয়েকটি সুপারট্যাংকার পার হয়েছে। গত সপ্তাহে তিনটি ভেরি লার্জ ক্রুড ক্যারিয়ার (ভিএলসিসি) মোট ৬০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল নিয়ে চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার দিকে যাত্রা করেছে।
এলএসইজি এবং ক্লেপারের শিপিং তথ্য অনুযায়ী, এলএনজি ট্যাংকার ফুওয়াইরিত আজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করছে। আগামীকাল মঙ্গলবার সেটির পাকিস্তানে পণ্য খালাস করার কথা রয়েছে। বাহামার পতাকাবাহী এই জাহাজ গত ২৮ মার্চ কাতারের রাস লাফান বন্দরে এলএনজি লোড করেছিল।
Manual7 Ad Code
এ ছাড়া কাতারএনার্জির এলএনজি ট্যাংকার আল–রাইয়ানও হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে বেরিয়ে গেছে। কাতারের রাস লাফান বন্দরে লোড করা এই কার্গো জাহাজকে সর্বশেষ ২২ মে পারস্য উপসাগরে দেখা গিয়েছিল। সেটি এখন হরমুজ প্রণালির বাইরে অবস্থান করছে। শিপিং তথ্য অনুযায়ী, আগামী ২৭ জুন চীনে সেটির পণ্য খালাস করার কথা রয়েছে।
অন্যদিকে ভেরি লার্জ ক্রুড ক্যারিয়ার ইগল ভেরোনা গত শনিবার হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে বেরিয়ে গেছে। শিপিং তথ্য অনুযায়ী, এটি ১২ জুন পূর্ব চীনের নিংবো বন্দরে পৌঁছে পণ্য খালাস করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী এই জাহাজকে এশিয়ার বৃহত্তম রিফাইনার সিনোপেকের বাণিজ্য শাখা ইউনিপেক ভাড়া করেছে। শিপিং তথ্য অনুযায়ী, সেটি গত ২৬ ফেব্রুয়ারির দিকে বসরাহ ক্রুডের প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল তেল লোড করেছিল।
এর আগে দুটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছিল, মালয়েশিয়া যে সাতটি জাহাজের জন্য ইরানের কাছ থেকে প্রণালি অতিক্রমের অনুমতি চেয়েছিল, ইগল ভেরোনা সেগুলোর একটি। ওই সাতটির মধ্যে পাঁচটি জাহাজ এরই মধ্যে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে বেরিয়ে গেছে। বাকি দুটি এখনো উপসাগরে অবস্থান করছে।
যুদ্ধ শুরুর আগে হরমুজ প্রণালি দিয়ে দৈনিক গড়ে ১২৫ থেকে ১৪০টি জাহাজ চলাচল করত। বর্তমানে পারস্য উপসাগরের ভেতরে কয়েক শ জাহাজ এবং সেগুলোর প্রায় ২০ হাজার নাবিক হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার অপেক্ষায় আছে।