আজ রবিবার, ১৯শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৪ঠা শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পদত্যাগের ভাষণে কী কী বললেন কিয়ার স্টারমার

editor
প্রকাশিত জুন ২৩, ২০২৬, ১২:৪৯ পূর্বাহ্ণ
পদত্যাগের ভাষণে কী কী বললেন কিয়ার স্টারমার

Manual4 Ad Code

অনলাইন ডেস্ক

Manual8 Ad Code

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর পদ এবং ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন স্যার কিয়ার স্টারমার। দলের আইনপ্রণেতাদের আস্থার ঘাটতি মেনে নিয়ে সোমবার এক আনুষ্ঠানিক ভাষণে তিনি পদত্যাগের কথা জানান। তবে লেবার পার্টির নতুন নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাবেন।

Manual4 Ad Code

পদত্যাগের বিষয়টি এরই মধ্যে রাজা তৃতীয় চার্লসকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন স্টারমার। বিদায়ী এই প্রধানমন্ত্রী জানান, আগামী সাধারণ নির্বাচনে লেবার পার্টিকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য তিনি উপযুক্ত কি না—দলের ভেতরে এমন প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল। পার্লামেন্টারি পার্টির কাছ থেকে এ বিষয়ে নেতিবাচক উত্তর পাওয়ার পর অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে তিনি সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। দেশকে সবার ওপরে স্থান দিতেই তার এই পদক্ষেপ।

Manual2 Ad Code

ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পর্কে স্টারমার জানান, দলের ন্যাশনাল এক্সিকিউটিভ কমিটিকে (এনইসি) তিনি একটি সময়সূচি নির্ধারণ করতে বলবেন। আগামী ৯ জুলাই থেকে নতুন নেতা নির্বাচনের মনোনয়ন প্রক্রিয়া শুরু হবে, যা গ্রীষ্মকালীন ছুটির আগেই শেষ হওয়ার কথা। এ পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলে সেপ্টেম্বরে পার্লামেন্ট অধিবেশন পুনরায় শুরুর আগেই নতুন নেতা বেছে নেওয়া হবে। ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়াটি যেন শান্তিপূর্ণ হয়, তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিজের উত্তরসূরিকে নিঃশর্ত সমর্থন দেওয়ারও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

মাত্র দুই বছর আগে দীর্ঘ ১৪ বছরের খরা কাটিয়ে লেবার পার্টিকে ক্ষমতায় এনেছিলেন কিয়ার স্টারমার। ছয় বছর আগে দলের দায়িত্ব নেওয়ার সময়কার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘তখন দলটি রাজনৈতিক, আর্থিক ও নৈতিকভাবে দেউলিয়া হয়ে পড়েছিল। অনেকেই বলেছিলেন লেবার পার্টি ইতিহাসের পাতায় হারিয়ে গেছে।’ তবে দল থেকে ইহুদিবিদ্বেষ দূর করে এবং অর্থনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়ে জনগণের আস্থা ফিরিয়ে লেবার পার্টিকে আবার শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করেন তিনি।

নিজের শাসনামলের সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরে বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী জানান, বর্তমানে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি সমমনা দেশগুলোর চেয়ে দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে এবং মানুষের আয় মূল্যস্ফীতির চেয়ে বেশি হারে বাড়ছে। তার সরকারের আমলে গত ১৭ বছরের মধ্যে স্বাস্থ্যসেবার (এনএইচএস) দীর্ঘ অপেক্ষার তালিকার দ্রুত সমাধান হয়েছে। এছাড়া পাঁচ লাখ শিশুকে দারিদ্র্য থেকে মুক্তি দেওয়া, অবৈধ অনুপ্রবেশ কমানো এবং স্নায়ুযুদ্ধের পর প্রতিরক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দের বিষয়টিও তিনি উল্লেখ করেন। তার দাবি, বিশ্বে যুক্তরাজ্যের হারানো মর্যাদা পুনরুদ্ধার হয়েছে এবং মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হয়েছে।

ক্ষমতা ছাড়ার পর ভবিষ্যৎ যুক্তরাজ্য যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আরও বেশি প্রস্তুত ও শক্তিশালী থাকবে বলে বিশ্বাস স্টারমারের। তিনি জানান, দেশের সর্বোচ্চ এই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেওয়ার পর এখন তিনি তার পরিবারকে সবচেয়ে বেশি সময় দেবেন। জীবনের সব ওঠা-নামায় পাহাড়ের মতো পাশে থাকা স্ত্রী ভিক এবং সন্তানদের জন্য একজন আদর্শ স্বামী ও বাবা হিসেবে নিজের দায়িত্ব পালনের কথা জানান লেবার পার্টির এই শীর্ষ নেতা।

Manual3 Ad Code