আজ শুক্রবার, ১৭ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গণভোটের পর সরকারের মেয়াদ বাড়ছে—এমন দাবি ভিত্তিহীন: সরকার

editor
প্রকাশিত জানুয়ারি ৩০, ২০২৬, ১১:২৭ পূর্বাহ্ণ
গণভোটের পর সরকারের মেয়াদ বাড়ছে—এমন দাবি ভিত্তিহীন: সরকার

Manual6 Ad Code

অনলাইন ডেস্ক:

আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট বেশি পড়লে অন্তর্বর্তী সরকার আরও ছয় মাস ক্ষমতায় থাকবে-সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এমন দাবিকে ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছে সরকার। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) এ খবরটি জানিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাতে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং ফ্যাক্টসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় গণভোটকে কেন্দ্র করে ফেসবুকে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। বিভিন্ন পোস্টে দাবি করা হচ্ছে, গণভোটের ফল ‘হ্যাঁ’ হলে ইউনূস সরকার ছয় মাস পর ক্ষমতা হস্তান্তর করবে।

বিবৃতিতে বলা হয়, এই দাবির সঙ্গে ইন্ডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের একটি ফটোকার্ড ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। টেলিভিশন চ্যানেলটির ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ওই ফটোকার্ডে শিরোনাম ছিল— ‘নির্বাচনের পর সংসদ সদস্যরা ১৮০ দিন গণপরিষদ হিসেবে কাজ করবেন: আলী রীয়াজ।’

এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট বক্তব্য অনুসন্ধানে দেখা যায়, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি ও বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, ‘গণপরিষদ বা সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদ হিসেবে দায়িত্ব পালন করলে ক্ষমতা হস্তান্তরে বাধা সৃষ্টি হবে-এমন ধারণা সম্পূর্ণ ভুল।’

Manual5 Ad Code

অধ্যাপক আলী রীয়াজ আরও বলেন, ‘নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথম দিন থেকেই সংসদ স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে-সরকার গঠন, রাষ্ট্র পরিচালনা ও বাজেট প্রণয়ন করবে। তবে সংবিধানকে ফ্যাসিবাদের পথ থেকে সরাতে মৌলিক পরিবর্তন প্রয়োজন। সে জন্য নির্বাচিত সদস্যরা আলাদা শপথ নিয়ে ১৮০ দিনের মধ্যে সংস্কার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবেন।’

বিবৃতিতে স্পষ্ট করে বলা হয়, অধ্যাপক আলী রীয়াজ কোথাও বলেননি যে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ১৮০ দিন গণপরিষদ হিসেবে কাজ করবে। বরং তিনি বলেছেন, এই দায়িত্ব পালন করবেন নির্বাচিত সংসদ সদস্যরাই।

এ ছাড়া ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সাংবিধানিক সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’-এ পরিষ্কারভাবে বলা আছে, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট পেলে সংসদের একটি দ্বৈত ভূমিকা থাকবে। অর্থাৎ নির্বাচিত প্রতিনিধিরা একই সঙ্গে জাতীয় সংসদের সদস্য এবং সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

Manual7 Ad Code

সবশেষে সরকার জানায়, প্রচলিত আদেশে অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ বাড়ানোর কোনো ইঙ্গিত নেই। বরং এতে স্পষ্টভাবে সংসদের দ্বৈত ভূমিকার কথাই উল্লেখ রয়েছে।

Manual5 Ad Code

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ওই আদেশের ৭ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী-গণভোটে উত্থাপিত প্রশ্নের বিপক্ষে নয়, বরং পক্ষে (‘হ্যাঁ’) ভোট বেশি পড়লে, পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদ গঠিত হবে। এই পরিষদ প্রথম বৈঠকের দিন থেকে ১৮০ কর্মদিবসের মধ্যে জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের ফল অনুযায়ী সংস্কার কাজ শেষ করবে। এরপর পরিষদের কার্যক্রম স্বয়ংক্রিয়ভাবে শেষ হবে।

সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, এই সময়ের মধ্যে সংসদ সদস্যরা একদিকে সরকার গঠন ও রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করবেন, অন্যদিকে সাংবিধানিক সংস্কারের ক্ষমতাও প্রয়োগ করবেন। তবে কোথাও বলা নেই যে অন্তর্বর্তী সরকার ১৮০ দিন ক্ষমতায় থাকবে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সাংবিধানিক সংস্কার প্রক্রিয়া শেষ হলে সংসদের দ্বৈত ভূমিকার অবসান ঘটবে এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিরা কেবল সংসদ সদস্য হিসেবেই দায়িত্ব পালন করবেন।

Manual2 Ad Code