আজ সোমবার, ১৬ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

এইচআরএসএসের প্রতিবেদন ১৭ মাসে রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত ১৯৫, আহত ১১ হাজার

editor
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬, ০৯:৪২ অপরাহ্ণ
এইচআরএসএসের প্রতিবেদন ১৭ মাসে রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত ১৯৫, আহত ১১ হাজার

Manual7 Ad Code

অনলাইন ডেস্ক:

Manual4 Ad Code

২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের পর থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি মাস পর্যন্ত গত ১৭ মাসে দেশে রাজনৈতিক সহিংসতায় ১৯৫ জন নিহত হয়েছেন। এ সময়ে আহত হয়েছেন ১১ হাজার ২২৯ জন। এছাড়া মব সহিংসতা বা গণপিটুনিতে নিহত হয়েছেন ২৫৯ জন। প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ১৭ মাসে সারাদেশে ১ হাজার ৪১১টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। রাজনৈতিক ও দলীয় আধিপত্য বিস্তার, প্রতিশোধ, কমিটি নিয়ে বিরোধ ও চাঁদাবাজির কারণে এসব ঘটনা ঘটে। নিহত ১৯৫ জনের মধ্যে বিএনপির ১৩৪ জন এবং নিষিদ্ধ কার্যক্রম আওয়ামী লীগের ২৬ জন রয়েছেন।

বুধবার (৪ঠা ফেব্রুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ‘জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী মানবাধিকার পরিস্থিতি ও প্রাক-নির্বাচনী সহিংসতা’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।

মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) তাদের বার্ষিক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। ১৫টি জাতীয় দৈনিকের প্রতিবেদন এবং নিজেদের তথ্যানুসন্ধানের ওপর ভিত্তি করে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।

Manual8 Ad Code

সংস্থাটি বলছে, এই সময়ে রাজনৈতিক সহিংসতা, মব ভায়োলেন্স, সাংবাদিক নির্যাতন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ, সীমান্ত হত্যা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিসহ নানামুখী মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে।

সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করে বলেন, দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও মানবাধিকার সুরক্ষায় রাষ্ট্রকে উদ্যোগ নিতে হবে। তিনি মব সহিংসতা ও বিচারবহির্ভূত হত্যা বন্ধে সরকারকে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান।

Manual1 Ad Code

সংবাদ সম্মেলনে মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটন বলেন, ‘মব ভায়োলেন্স এমন পর্যায়ে গিয়েছিল যে রাষ্ট্রীয় বাহিনীগুলো এ বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে পারেনি। মব সন্ত্রাস করে বিভিন্ন অফিস আক্রমণ করা হয়েছে।’

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ১৭ মাসে সারাদেশে ১ হাজার ৪১১টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। রাজনৈতিক ও দলীয় আধিপত্য বিস্তার, প্রতিশোধ, কমিটি নিয়ে বিরোধ ও চাঁদাবাজির কারণে এসব ঘটনা ঘটে। নিহত ১৯৫ জনের মধ্যে বিএনপির ১৩৪ জন এবং আওয়ামী লীগের ২৬ জন রয়েছেন। এছাড়া জামায়াতের ৫ জন, ইউপিডিএফের ৬ জন, চরমপন্থি দলের ৩ জন, ইনকিলাব মঞ্চের ১ জন এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ১ জন রয়েছেন। বাকি ১৯ জনের রাজনৈতিক পরিচয় জানা যায়নি।

প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ২২৯ টি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এতে ৭ জন নিহত এবং ১ হাজার ৪০৩ জন আহত হয়েছেন।

জুলাই অভ্যুত্থানের পর ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের নামে কমপক্ষে ৩৪৯টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় ২৯ হাজার ৭৭২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে ৬৫ হাজারের বেশি মানুষকে। বিভিন্ন মামলায় ও যৌথবাহিনীর অভিযানে ৫৫ হাজারের বেশি ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মব জাস্টিস বা গণপিটুনির ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছে এইচআরএসএস। প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ১৭ মাসে ৪১৩টি গণপিটুনির ঘটনায় ২৫৯ জন নিহত ও ৩১৩ জন আহত হয়েছেন। চুরি, ডাকাতি ও ধর্মীয় অবমাননাসহ নানা অভিযোগে এসব ঘটনা ঘটে।

সংবাদপত্রের স্বাধীনতার বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ১৭ মাসে ৮৩৪ জন সাংবাদিক হত্যা, নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ৬ জন নিহত এবং ৩৭৯ জন আহত হয়েছেন। ৩৩ জন সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া সাইবার নিরাপত্তা আইনে ৪১টি মামলায় ৩৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে ও সংঘর্ষে ৬০ জন নিহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এর মধ্যে ২২ জন নির্যাতনে এবং ২০ জন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। এছাড়া কারাগারে অসুস্থতা ও নির্যাতনে ১২৭ জন বন্দীর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৮৩ জনই হাজতি।

নারী ও শিশু নির্যাতনের ভয়াবহ চিত্রও উঠে এসেছে প্রতিবেদনে। এ সময়ে ২ হাজার ৬১৭ জন নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ১ হাজার ১৬ জন ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ৩৩ জনকে। এছাড়া পারিবারিক সহিংসতায় প্রাণ হারিয়েছেন ৫৪৪ জন। শিশু নির্যাতনের ঘটনায় ৪৭৮ জন শিশু প্রাণ হারিয়েছে।

সীমান্ত হত্যার বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, বিএসএফের গুলিতে ৪৩ জন বাংলাদেশি নিহত এবং ৪৯ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া ১৮৬ জনকে ধরে নিয়ে গেছে বিএসএফ। অন্যদিকে মিয়ানমার সীমান্তে আরাকান আর্মির হামলায় ৩ জন নিহত হয়েছেন।

ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর ৫৬টি হামলার ঘটনায় ১ জন নিহত ও ২৭ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া সারাদেশে শতাধিক মাজারে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। শ্রমিকদের অধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে বলা হয়, ৫৩১টি শ্রমিক নির্যাতনের ঘটনায় ১৬৪ জন নিহত হয়েছেন। কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ২৫৮ জন শ্রমিক।

সংবাদ সম্মেলনে মনিরুজ্জামানসহ সংগঠনের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

 

তথ্য সুএঃ সমকাল যার

Manual5 Ad Code