রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন বলেছেন, গত দেড় বছরে অনেক প্রতিকূল অবস্থার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। তবে এই প্রতিকূল অবস্থার মধ্যে বিভিন্ন মহল থেকে আশ্বাস ও অভয়বাণী পেয়েছি। বিশেষ করে তিন বাহিনীর পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সমর্থন পেয়েছি।
Manual6 Ad Code
গত শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারী) একটি বেসরকারি গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন তিনি।
Manual5 Ad Code
তিন বাহিনীপ্রধানদের প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি জানান, নানা সংকটের মধ্যে তার পক্ষে একা মনোবল অটুট রাখা কঠিন হতো, যদি না বিভিন্ন মহল থেকে আশ্বাস ও অভয়বাণী পেতেন। বিশেষ করে তিন বাহিনীর পক্ষ থেকে তিনি সর্বোচ্চ সমর্থন পেয়েছেন।
Manual4 Ad Code
তিনি জানান, বাহিনীপ্রধানরা তাকে স্পষ্ট করে জানিয়েছিলেন, রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান; রাষ্ট্রপতির পরাজয় মানে পুরো সশস্ত্র বাহিনীরই পরাজয়, যা তারা যে কোনো মূল্যে রোধ করবেন।
বিভিন্ন সময় সশস্ত্র বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা বঙ্গভবনে এসে তাকে মনোবল জুগিয়েছেন বলেও জানিয়েছেন সাহাবুদ্দিন।
এ ছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের ভেতর থেকেই একবার তাকে অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলে তিনি শুনেছেন; সে সময় তিন বাহিনীর প্রধান তার পক্ষে অবস্থান নেন। তারা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, কোনো অসাংবিধানিক পদক্ষেপ তারা মেনে নেবেন না।
এদিকে, বৃহত্তর রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে বিএনপির পক্ষ থেকেও তাকে স্পষ্ট সমর্থনের বার্তা দেওয়া হয়েছিল বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে রাষ্ট্রপতি জানান, বিএনপির উচ্চপর্যায়ের নেতারা তাকে আশ্বস্ত করে বলেছিলেন, তারা সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চান এবং কোনো অসাংবিধানিক উপায়ে রাষ্ট্রপতিকে অপসারণের পক্ষে নন।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিশেষ পরিস্থিতিতে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। ওই সরকারের দেড় বছরের শাসনামলে রাষ্ট্রপতিকে অবৈধ ও অসাংবিধানিকভাবে অপসারণের একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছেন মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন।