নতুন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের মাত্র ৫২ দিনে ব্যাংক ঋণের লক্ষ্যমাত্রা পার, সংসদে রুমিন ফারহানার তোপ
নতুন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের মাত্র ৫২ দিনে ব্যাংক ঋণের লক্ষ্যমাত্রা পার, সংসদে রুমিন ফারহানার তোপ
editor
প্রকাশিত এপ্রিল ২১, ২০২৬, ০৫:৩৬ অপরাহ্ণ
Manual5 Ad Code
অনলাইন ডেস্ক
বর্তমান সরকারের ব্যাংক ঋণ গ্রহণের ‘লাগামহীন’ গতি এবং রাজস্ব আদায়ের নাজুক পরিস্থিতি নিয়ে জাতীয় সংসদে তীব্র সমালোচনা করেছেন সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা।
Manual5 Ad Code
নতুন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের মাত্র ৫২ দিনের মাথায় ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ৪৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ায় দেশের অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে সম্পূরক প্রশ্ন উত্থাপনের সময় রুমিন ফারহানা অর্থনীতির বর্তমান চিত্র নিয়ে নিজের তোপ দাগেন।
সংসদে সম্পূরক প্রশ্ন করার সময় রুমিন ফারহানা বলেন, চলতি অর্থবছরের বাজেটে ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু এপ্রিলের শুরুতেই সেই লক্ষ্যমাত্রা ১০৮ শতাংশ ছাড়িয়ে ১ লাখ ১২ হাজার ৭৬১ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।
Manual2 Ad Code
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, রাজস্ব আদায় লক্ষ্যমাত্রা থেকে প্রায় সাড়ে সাত হাজার কোটি টাকা পিছিয়ে রয়েছে। ঘাটতি মেটাতে সরকার এখন ব্যাংক ঋণের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। এই পরিস্থিতিতে করের আওতা বাড়ানো বা রাজস্ব বৃদ্ধিতে সরকারের সুনির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনা আছে কি না, তা অর্থমন্ত্রীর কাছে জানতে চান তিনি।
জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ঋণের এই বিশাল অঙ্ক মূলত বিগত সরকারের রেখে যাওয়া দায়ের ধারাবাহিকতা বা ‘ক্যারিওভার’। বর্তমান সরকার মাত্র দুই মাস হলো দায়িত্ব নিয়েছে উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, এই ঋণের সংখ্যাকে বর্তমান সরকারের কর্মফল হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।
Manual6 Ad Code
অর্থমন্ত্রী সংসদকে আশ্বস্ত করে বলেন, ‘সরকারের মূল অর্থনৈতিক নীতিই হলো স্থানীয় ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার পরিমাণ ক্রমান্বয়ে কমিয়ে আনা। এর প্রতিফলন আগামী বাজেট থেকেই দেখা যাবে।’
দেশের ব্যবসায়ীরা বর্তমানে অস্তিত্বসংকটে এবং শিল্পকারখানাগুলো নানা সমস্যায় জর্জরিত উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে কিছুটা সময়ের প্রয়োজন। বিগত সরকারগুলোর আমলে এই অনুপাত নিচে নেমে আসলেও বর্তমান সরকার অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে অর্থনীতিকে পুনরায় শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।