আজ মঙ্গলবার, ২৮শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৩ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দীর্ঘ ১১ বছরের অপেক্ষা, পে-স্কেল নিয়ে বড় দুঃসংবাদ

editor
প্রকাশিত জুন ৬, ২০২৬, ১২:৫২ অপরাহ্ণ
দীর্ঘ ১১ বছরের অপেক্ষা, পে-স্কেল নিয়ে বড় দুঃসংবাদ

Manual4 Ad Code

অনলাইন ডেস্ক

Manual7 Ad Code

দীর্ঘ ১১ বছর ধরে নতুন বেতন কাঠামোর অপেক্ষায় থাকা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আশা-নিরাশার দোলাচল আরও তীব্র হয়েছে। আগামী ১ জুলাই থেকে নবম পে-স্কেল কার্যকরের প্রত্যাশা থাকলেও সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসায় চাকরিজীবীদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। আগামী ১১ জুন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনের মধ্য দিয়েই এই অনিশ্চয়তার অবসান হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নতুন পে-স্কেল নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে যেসব তথ্য সামনে এসেছে, তার সবই বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম সূত্রে। কোনো মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা কিংবা পে-কমিশনের কোনো সদস্য এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো স্পষ্ট বা আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেননি। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও একই ধরনের অস্পষ্টতা ছিল, যা বর্তমানেও অব্যাহত রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে চাকরিজীবীদের মনে প্রশ্ন উঠছে, ১ জুলাই থেকে আদৌ পে-স্কেল কার্যকর হবে কি না এবং হলেও তা কীভাবে বাস্তবায়িত হবে।

বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক আবদুল মালেক বলেন, ‘মনের ভেতরে একটা ভয় থেকেই যাচ্ছে যে সরকার তো কিছুই বলেনি। আনুষ্ঠানিকভাবে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রতি মুহূর্তে ব্রিফিং-বিবৃতি দেওয়া হলেও আসন্ন পে-স্কেল নিয়ে আজ পর্যন্ত কোনো স্পষ্ট ঘোষণা আমরা পাইনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘অর্থ মন্ত্রণালয় বা অর্থ-সচিবের পক্ষ থেকেও কোনো বক্তব্য আসেনি। যার কারণে কর্মচারীদের মধ্যে এই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে যে আসলেই কি পে-স্কেল হচ্ছে?’

Manual5 Ad Code

আবদুল মালেক মনে করিয়ে দেন, কর্মচারীরা দীর্ঘ ১১ বছর ধরে নতুন পে-স্কেলের অপেক্ষায় রয়েছেন এবং নির্বাচনী ইশতেহারেও প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতায় এলে পে-স্কেল বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছিলেন। আগামী ১১ জুন সরকারের প্রথম বাজেট উপস্থাপিত হতে যাচ্ছে, যার আকার প্রায় ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। চাকরিজীবীদের প্রত্যাশা, এই বাজেটে তাদের দীর্ঘদিনের দাবি বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রাখা হবে।

নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও ‘ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের’ খবরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি। গত ৩১ মে সংগঠনের আহ্বায়ক আবদুল মালেক ও সদস্য-সচিব আশিকুল ইসলামের পাঠানো যৌথ বিবৃতিতে প্রথম ধাপেই শতভাগ মূল বেতন কার্যকরের দাবি জানানো হয়।

Manual6 Ad Code

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, গত ১১ বছরে সরকারি কর্মচারীদের বেতনে কোনো মৌলিক পরিবর্তন না এলেও জীবনযাত্রার ব্যয় ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর ফলে অনেক নিম্নপদস্থ কর্মচারী জীবিকার তাগিদে চাকরির পাশাপাশি অতিরিক্ত খণ্ডকালীন কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন।

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তিন ধাপে তিন বছরে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। তবে সংগঠনের নেতারা বলছেন, অতীতে পে-স্কেল কার্যকরের আগে ২০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা দেওয়া হতো এবং প্রথম ধাপে শতভাগ মূল বেতন ও দ্বিতীয় ধাপে অন্যান্য ভাতা চালু করা হতো। এবারও সেই পদ্ধতি অনুসরণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

দায়িত্বশীল সরকারি সূত্রের আভাস অনুযায়ী, নতুন বেতন কাঠামো পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে তিনটি অর্থবছর লাগতে পারে। খসড়া পরিকল্পনা অনুসারে, আগামী ১ জুলাই থেকে সরকারি চাকরিজীবীরা নতুন মূল বেতনের ৫০ শতাংশ সুবিধা পেতে পারেন। পরবর্তী অর্থবছরে বাকি ৫০ শতাংশ কার্যকর করা হবে। আর ২০২৮-২৯ অর্থবছরে নতুন পে-স্কেলের আওতাধীন বিভিন্ন ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা ধাপে ধাপে চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারের এই ধীরগতির বাস্তবায়ন পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করেই মূলত কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে।

এই জল্পনার অবসান ঘটতে পারে আগামী সপ্তাহেই। রাষ্ট্রপতির আহ্বানে আগামী ৭ জুন বিকেল ৩টায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশন শুরু হচ্ছে। এরপর ১১ জুন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট সংসদে উপস্থাপন করবেন। সেদিনের বাজেটেই স্পষ্ট হবে— সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে সরকারের প্রকৃত অবস্থান কী এবং বিদ্যমান শঙ্কা কতটা কাটবে, নাকি আরও বাড়বে।সুএ:ইত্তেফাক

Manual5 Ad Code