আজ শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৮ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তারেক-মোদির বৈঠকের পর গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির নবায়ন হতে পারে

editor
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬, ০৫:৫০ অপরাহ্ণ
তারেক-মোদির বৈঠকের পর গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির নবায়ন হতে পারে

Manual8 Ad Code

অনলাইন ডেস্ক

Manual4 Ad Code

গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির নবায়ন নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের কর্মকর্তারা আলোচনা শুরু করেছেন। ইতিমধ্যেই একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করা হয়েছে। এই ওয়ার্কিং গ্রুপ তাদের রিপোর্ট পেশ করার পর চুক্তিটির নবায়নের কাজ শুরু হবে। আগামী ডিসেম্বরে চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে।

Manual8 Ad Code

১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর বাংলাদেশে ও ভারতের মধ্যে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তিতে শুষ্ক মৌসুমে কীভাবে গঙ্গার পানি বণ্টন হবে তা নির্ধারণ করা হয়েছে। সেই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিলেন বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী এইচ ডি দেবেগৌড়া। এখন চুক্তিটি কীভাবে নবায়ন হবে? ঢাকার কর্মকর্তারা বলছেন, দু’দেশের শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকের পরেই এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।

Manual4 Ad Code

ধারণা করা হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফরকালে এটি প্রধান আলোচ্য বিষয় হবে। তখনই চুক্তিটির নবায়নের ব্যাপারে দু’দেশের মধ্যে সমঝোতা হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। এই চুক্তির অন্যতম উদ্দেশ্য হচ্ছে—ফারাক্কা বাঁধে গঙ্গার পানিবন্টন ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা। পশ্চিমবঙ্গের ফারাক্কায় গঙ্গা নদীর উপর ১৯৭৫ সালে এই বাঁধ নির্মাণ করা হয়। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ৫৪টি আন্তঃসীমান্ত নদী রয়েছে। যেগুলোর পানি বাংলাদেশের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হয়। এসব নদীর মধ্যে গঙ্গার পানি প্রবাহ ঋতুভেদে ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হয়। চুক্তিটির মেয়াদ ৩০ বছর হলেও প্রতি পাঁচ বছর পর পর পর্যালোচনা করার কথা রয়েছে। তবে দুই দেশের যেকোনো সরকার চাইলে এর আগেও পর্যালোচনার উদ্যোগ নিতে পারে।

Manual7 Ad Code

চুক্তির প্রভাব মূল্যায়নের জন্য যে কোনো পক্ষ দুই বছর পর পর্যালোচনার দাবি জানাতে পারে। প্রতি বছর শুষ্ক মৌসুমে পয়লা জানুয়ারি থেকে ৩১শে মে পর্যন্ত প্রতি দশদিন অন্তর পানি বণ্টন করা হয়। ফারাক্কায় পানির প্রবাহ ৭০ হাজার কিউসেকের কম হলে বাংলাদেশ ও ভারত সমান অনুপাতে পানি পাবে। আর যদি পানির প্রবাহ ৭০ হাজার থেকে ৭৫ হাজার কিউসেক হয় তাহলে বাংলাদেশ পাবে নির্দিষ্ট ৩৫ হাজার কিউসেক। ভারত পাবে অবশিষ্ট পানি। পানির প্রবাহ ৭৫ হাজার কিউসেকের বেশি হলে ভারত রাখবে ৪০ হাজার কিউসেক। আর বাকি পানি পাবে বাংলাদেশ।

পানির প্রবাহ যদি ৫০ হাজার কিউসেকের নিচে নেমে যায় তাহলে দুই দেশের মধ্যে জরুরি বৈঠকের কথা রয়েছে। উল্লেখ্য যে, ফারাক্কা ফিডার ক্যানেলে পানির প্রবাহ এবং হার্ডিঞ্জ ব্রিজ নেভিগেশন লক-এ পানির প্রবাহ পর্যবেক্ষণ করে যৌথ কমিটি। এরপর এই কমিটি দু’দেশের সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়।