মাসুদ কামাল; নির্বাচন নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী—কে কত আসন পাবে?
মাসুদ কামাল; নির্বাচন নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী—কে কত আসন পাবে?
editor
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২৬, ০২:২৩ পূর্বাহ্ণ
Manual8 Ad Code
অনলাইন ডেস্ক
সিনিয়র সাংবাদিক মাসুদ কামাল বলেছেন, নির্বাচন একেবারে দোরগোড়ায়। সময় যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে নানা হিসাব–নিকাশ, আলোচনা আর ভবিষ্যদ্বাণী। কে কত আসন পেতে পারে, কার সম্ভাবনা কতটা এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে যেমন চর্চা চলছে, তেমনি সাধারণ মানুষের মধ্যেও কৌতূহল তুঙ্গে।
তিনি বলেন, এই শেষ মুহূর্তে পাওয়া বিভিন্ন জরিপ ও পর্যবেক্ষণ থেকে নির্বাচনের সম্ভাব্য একটি চিত্র উঠে এসেছে।
Manual7 Ad Code
সরকারি কয়েকটি সংস্থার প্রাথমিক ধারণা এবং একটি জাতীয় দৈনিকের জেলা প্রতিনিধি–ভিত্তিক জরিপ এই দুই উৎসের হিসাব মিলিয়ে একটি সম্ভাব্য পূর্বাভাস তুলে ধরা হলো।
রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) নিজের ইউটিউব চ্যানেলে মাসুদ কামাল এসব কথা বলেন।
সরকারি সংস্থাগুলোর প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে মাসুদ কামাল বলেন, এবারের নির্বাচনে মোট ৩০০ আসনের মধ্যে ভোট হচ্ছে ২৯৮টি আসনে। তাদের মূল্যায়ন অনুযায়ী— বিএনপি এককভাবে (জোট ছাড়া) জিততে পারে প্রায় ১৫০টি আসন, জামায়াত–জোট পেতে পারে প্রায় ৭০টি আসন, স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জিততে পারে প্রায় ৫৫টি আসনে, জাতীয় পার্টি পেতে পারে ১০-১২টি আসন, ইসলামী আন্দোলন পেতে পারে ৭-৮টি আসন এবং অন্যান্য ছোট দল মিলিয়ে পেতে পারে প্রায় ৫টি আসন।
Manual4 Ad Code
এই হিসাবে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সাফল্য একটি বড় ফ্যাক্টর হিসেবে উঠে এসেছে। বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীদের শক্ত অবস্থানের কারণেই স্বতন্ত্রদের আসন সংখ্যা তুলনামূলক বেশি দেখানো হয়েছে।
মাসুদ কামাল জাতীয় দৈনিকের প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে জানান, একটি জাতীয় দৈনিক তাদের জরিপে আসনগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করেছে। যেসব আসনে ফল প্রায় নিশ্চিত এবং যেসব আসনে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।
নিশ্চিত আসন (প্রতিদ্বন্দ্বিতা কম) : বিএনপি: ৮৮টি আসন, জামায়াত : ৫১টি আসন, স্বতন্ত্র প্রার্থী: ১০০টি আসন, এনসিপি: ২টি আসন, জাতীয় পার্টি: ৪টি আসন এবং অন্যান্য দল: ৪টি আসন। এই হিসাবে মোট ১৩২টি আসন চিহ্নিত করা হয়েছে যেখানে হবে কঠিন লড়াই। এই আসনগুলোর ফলই শেষ পর্যন্ত সরকার গঠনের চূড়ান্ত চিত্র নির্ধারণ করবে।
কে এগিয়ে
এই বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সরকার গঠনের পথে বিএনপির সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে বেশি। কারণ, কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার ১৩২ আসনের মধ্যে বিএনপি যদি অন্তত ৬২টি আসন পায়, তাহলে তাদের মোট আসন সংখ্যা গিয়ে দাঁড়াবে প্রায় ১৫০–এ।
Manual7 Ad Code
অন্যদিকে জামায়াতকে সরকার গঠন করতে হলে এই ১৩২টির মধ্যে প্রায় ৯৯টি আসন জিততে হবে, যা বাস্তবতায় বেশ কঠিন।
কেন বদলেছে হিসাব?
বিশ্লেষকদের মতে, সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক বাস্তবতা বদলেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার কুশাসন ও জনদুর্ভোগ মানুষের মধ্যে তুলনার প্রবণতা তৈরি করেছে। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে কিছু নেতাকর্মীর নেতিবাচক কর্মকাণ্ডও বড় দলগুলোর জনপ্রিয়তায় প্রভাব ফেলেছে। বিদ্রোহী প্রার্থীদের উপস্থিতি ভোটের অঙ্ককে আরও জটিল করে তুলেছে।
মাসুদ কামাল বলেন, ভোটের অঙ্ক সব সময় কাগজ–কলমের হিসাব মেনে চলে না। জনমত শেষ মুহূর্তে বদলাতেও সময় লাগে না। তাই এই ভবিষ্যৎবাণীকে সম্ভাব্য একটি চিত্র হিসেবেই দেখতে বলছেন সংশ্লিষ্টরা। শেষ পর্যন্ত কার ভাগ্যে কী জোটে তার চূড়ান্ত উত্তর মিলবে ভোটের ফল ঘোষণার দিনই।