সরকার গঠন করলে প্রথমদিন ফজর পড়েই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ শুরু করবো: জামায়াত আমির
সরকার গঠন করলে প্রথমদিন ফজর পড়েই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ শুরু করবো: জামায়াত আমির
editor
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬, ০২:০১ পূর্বাহ্ণ
Manual4 Ad Code
অনলাইন ডেস্ক:
সরকার গঠন করতে পারলে প্রথম দিন ফজরের নামাজ আদায় শেষে দলীয় পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করার কথা জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এ কথা বলেন। ভাষণটি বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারে সম্প্রচার করা হয়।
Manual8 Ad Code
ভাষণে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, মানবিক ও উন্নত দেশ গড়তে দল-মত নির্বিশেষে সবার মান-ইজ্জত ও অধিকার সুরক্ষার অঙ্গীকার করা হচ্ছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান—সবার দেশ; এখানে কেউ ভয়ের মধ্যে থাকবে না। ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কারও ওপর আঘাত এলে তা প্রতিরোধ করা হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
Manual8 Ad Code
নারী নিরাপত্তা ও অধিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এমন বাংলাদেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে, যেখানে কোনো মা বা বোনকে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে হবে না। জনগণকে অধিকার রক্ষার লড়াইয়ে পাশে থাকার আহ্বান জানান তিনি।
ভাষণে তিনি জুলাইয়ের শহীদদের রূহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন। জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার আকাঙ্ক্ষা থেকেই সেই আন্দোলন হয়েছে। ভবিষ্যতে যেন জনগণকে আর রাস্তায় নামতে না হয়, সে ধরনের রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন তিনি।
Manual6 Ad Code
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখা শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের দাবিতেই জুলাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। মানবাধিকার ও ভোটাধিকার হরণের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ধারাবাহিক নির্বাচনে জনগণ তাদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
তরুণদের প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, তরুণ প্রজন্ম একটি নতুন বাংলাদেশ দেখতে চায়। পরিবর্তনের পথে তাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গঠনের দায়িত্ব এই তরুণদের হাতেই তুলে দিতে হবে।
রাষ্ট্র সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জুলাই-পরবর্তী সময়ে কিছু সংস্কার উদ্যোগ নেওয়া হলেও অনেক পরিকল্পনা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। কাঠামোগত সংস্কার নিশ্চিত করতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোট আয়োজন করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। এ গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
নির্বাচনী ইশতেহার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নীতি-কৌশল নির্ধারণে দেশের ভেতরে ও বাইরে থাকা বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়া হয়েছে। সুযোগ পেলে সরকার গঠনের প্রথম দিন থেকেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু করার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, অতীতের শাসকগোষ্ঠী রাষ্ট্রীয় সম্পদ ব্যক্তিগত ও দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করেছে। এই ব্যবস্থার অবসান ঘটানোই জামায়াতে ইসলামীর লক্ষ্য বলে উল্লেখ করেন তিনি।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সমমর্যাদার ভিত্তিতে সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা হবে। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেন তিনি।
ভাষণের শেষদিকে তিনি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলা সব রাজনৈতিক দলের নৈতিক দায়িত্ব। তিনি দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ত্যাগের কথাও স্মরণ করেন।