আজ বুধবার, ২৬শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন নিয়ে যা বললেন জি এম কাদের

editor
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬, ০৩:২২ অপরাহ্ণ
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন নিয়ে যা বললেন জি এম কাদের

Manual3 Ad Code

অনলাইন ডেস্ক:

বিদ্বেষ আর বিভাজন দেশের ১৮ কোটি মানুষ একে অপরের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের।

তিনি বলেছেন, “ইনসাফ আর সাম্যের কথা বলে আজ তৈরি করা হয়েছে চরম বৈষম্য আর দখলদারিত্বের এক অমানবিক রাষ্ট্র। যেখানে চরম নিষ্ঠুরতাকে অভিবাদন জানানো হয়, মন্দির-গির্জা কিংবা মাজারে পৈশাচিক উল্লাস হয়, যেখানে মানুষ আজ বাকরুদ্ধ।”

Manual1 Ad Code

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারী) গভীর রাতে নিজের ও দলের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে ভিডিও বার্তায় তিনি এ কথা বলেন।

সেদিন বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের প্রধান জাতির উদ্দেশে বিটিভিতে ভাষণ দিলেও জাপা চেয়ারম্যানকে দেখা যায়নি।

Manual7 Ad Code

পরে ফেইসবুক পোস্টে জি এম কাদের বলেন, “আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি আজ যেন এক মৃত্যুপুরী। দিনেদুপুরে প্রতিপক্ষকে খুন করে মৃতদেহ পুড়িয়ে ফেলা হচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘুদের বাড়ী ঘর, দোকান লুটপাট, ভাঙ্গচুর ও আগুন দেয়ার অভিযোগ পাওয়ার যাচ্ছে অথচ রাষ্ট্র নির্বিকার।

“সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘোষণা দিয়ে বাড়িঘর ভাংচুর ও জ্বালিয়ে দেওয়া হচ্ছে, কিন্তু কারো ঘুম ভাঙছে না। এটি একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রের পূর্বলক্ষণ ছাড়া আর কিছুই নয়।”

দেশের বর্তমান অবস্থাকে ‘মুমূর্ষু’ বর্ণনা করে তিনি বলেন, “আমাদের অর্থনীতিও আজ হুমকির মুখে। বিগত কয়েক মাসে শত শত কলকারখানা বন্ধ হয়েছে, বাড়ছে বেকারের সংখ্যা। ব্যাংকের রিজার্ভের প্রকৃত অবস্থা আমাদের অজানা। আমাদের সীমান্ত আজ অন্যের নিয়ন্ত্রণে চলে যাচ্ছে।

Manual6 Ad Code

“নারীরাও আজ নিজ দেশে পরবাসী। আমাদের শিল্প-সংস্কৃতি, জারি-সারি-ভাওয়াইয়া আর কবিতার কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে। এমনকি নারীর শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে চলাফেরাও আজ শকুনের নখরে বন্দি।”

এই শৃঙ্খল ভাঙতে লাঙ্গল মার্কায় ভোট চেয়ে জাপা চেয়ারম্যান বলেন, “আমরা এমন এক বাংলাদেশ গড়তে চাই যেখানে: একজন নারীকে তার পোশাকের জন্য হেনস্তা হতে হবে না। শিক্ষক তার ছাত্রের কাছে প্রহৃত হবেন না।

Manual5 Ad Code

“বাউল, শিল্পী বা ভিন্নমতের কোনো মানুষের টুটি চেপে ধরা হবে না। প্রত্যেক মানুষের সমান অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হবে।”

এবারের নির্বাচনে ‘মাত্র দুটি পক্ষ’ রয়েছে মন্তব্য করে জিএম কাদের বলেন, “একটি মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও ১৯৭১-এর পক্ষের শক্তি, অন্যটি সেই আদর্শবিরোধী অপশক্তি। জাতীয় পার্টি সবসময় আপনাদের পাশে ছিল এবং আছে।

“জাতীয় পার্টিকে ‘লাঙ্গল’ প্রতীকে ভোট দেওয়া মানেই হলো একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ ফিরিয়ে আনা এবং ১৯৭১-এর চেতনাকে জয়যুক্ত করা।”

‘না’ ভোট দেওয়ার আহ্বান

যে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়েছে, সেই আন্দোলনে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে দাবি করেন জি এম কাদের।

তিনি বলেন, “আমি ব্যক্তিগতভাবে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে ছিলাম। তাছাড়া দলগত ভাবে জাতীয় পার্টি জুলাই আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছে। শুধুমাত্র রংপুর শহরে আমাদের দুজন কর্মী শহীদ হয়েছে (মিরাজুল ও মানিক)।

“৪ জন কর্মী কারাবরণ করেছে ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে (আরিফ, ইউসুফ, সজল ও জসিম)। অন্যান্য শতাধিক নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে অসংখ্য মামলা হয়েছে।”

তিনি বলেন, “জুলাই আন্দোলনে নির্যাতিত ও শহীদ নেতা-কর্মীদের যথাযথ মূল্যায়নে ও তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমরাও অঙ্গীকারাবদ্ধ। রাষ্ট্রের ও সংবিধানের সংস্কারের প্রয়োজন এই বিষয়েও আমাদের কোন দ্বিমত নেই।

“তবে, আমরা বিশ্বাস করি এ সমস্ত কিছু হতে হবে, সংবিধান সম্মত স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায়। নির্বাচিত সংসদ, সরকার ও জনগণের সম্মিলিত উদ্যোগে।”

গণভোটে ‘না’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে জি এম কাদের বলেন, “কোন নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর মাধ্যমে শুধু তাদের পূর্ব নির্ধারিত এজেন্টা বাস্তবায়নের জন্য, অস্বচ্ছ ও বেআইনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে, আন্দোলনের শহীদদের আত্মত্যাগের পক্ষে সৃষ্ট আবেগকে কাজে লাগিয়ে, যে ধরনের সংস্কার প্রস্তাব করা হয়েছে, তা আমাদের কাছে গ্রহনযোগ্য নয়।

“বর্তমান হ্যাঁ/না ভোটের মাধ্যমে, সে রকম একটি উদ্যোগ আমরা লক্ষ্য করছি। সে কারনে, গণভোটে জনগনকে “না” ভোট দেয়ার আহবান জানাচ্ছি।“

বাংলাদেশ এখন ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “একদিকে সংবিধান নিয়ে সুপরিকল্পিত প্রতারণা, অন্যদিকে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় বন্ধন ছিঁড়ে যাওয়ার এক ভয়াবহ দৃশ্য আমরা দেখতে পাচ্ছি।

“প্রথমত, আসন্ন গণভোট নিয়ে আমার স্পষ্ট বার্তা—আপনাদের ‘না’ ভোট দিতে হবে। বিভ্রান্তিকর ৪টি বিবৃতির আড়ালে সংবিধানের ৩৮টি পরিবর্তন লুকিয়ে রাখা হয়েছে।

“আমরা আশঙ্কা করি, এতে করে দেশে একটি সংঘাতময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ব্যহত হবে ও দেশ ক্রমান্বয়ে ধ্বংসের পথে এগিয়ে যাবে।”

জুলাই সনদে রাষ্ট্রীয় সংস্কারের যে ৮৪ দফা রয়েছে, তার মধ্যে ৪৮টি বিষয়কে ‘সংবিধান সংশোধন সাপেক্ষে সংস্কার’ এবং বাকি বিষয়কে ‘আইন/অধ্যাদেশ, বিধি ও নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে সংস্কার’ হিসাবে চিহ্নিত করে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন।

জুলাই সনদের সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত ৪৮টি দফা বাস্তবায়নে জনগণের সম্মতি নিতে গণভোট হচ্ছে।

তথ্য সুএঃ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর