আজ বৃহস্পতিবার, ১২ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৭শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জামায়াতের সঙ্গে ঐক্য সরকার? তারেক বললেন, বিএনপি ‘একাই সক্ষম’

editor
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২৬, ০১:৪২ পূর্বাহ্ণ
জামায়াতের সঙ্গে ঐক্য সরকার? তারেক বললেন, বিএনপি ‘একাই সক্ষম’

Manual5 Ad Code

অনলাইন ডেস্ক:

  • “আমরা নিশ্চিত, সরকার গঠনের জন্য আমাদের যথেষ্ট আসন থাকবে।”

নির্বাচনের পর জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে মিলে ঐকমত্যের সরকার গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারী) রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, তার দল এককভাবেই সরকার গঠনে সক্ষম হবে, এ বিষয়ে তিনি আত্মবিশ্বাসী।

বহু বছর বংলাদেশের রাজনীতিতে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল বিএনপি এবং আওয়ামী লীগের মধ্যে। কিন্তু চব্বিশের অভ্যুত্থানের পর সেই চেনা দৃশ্যপট পাল্টে গেছে।

আওয়ামী লীগের কার্যক্রমে সরকার নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় দলটির নিবন্ধন স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন। ফলে গত দেড় দশক দেশ শাসন করা দলটি এবার নির্বাচনের বাইরে।

Manual2 Ad Code

এই বাস্তবতায় আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে, যারা ২০০১-০৬ মেয়াদে একসঙ্গে সরকার পরিচালনা করেছে।

রয়টার্স লিখেছে, দেশের সামগ্রিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে আবারও ঐকমত্যের সরকার গঠনে আগ্রহী জামায়াত।

এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে তারেক রহমান রয়টার্সকে বলেন, “আমি কীভাবে আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে সরকার গঠন করব? তাহলে বিরোধী দল কে হবে?”

তিনি বলেন, “আমি জানি না তারা কয়টি আসন পাবে। তবে তারা যদি বিরোধী দলে থাকে, তাহলে আমি আশা করি, তারা একটি ভালো বিরোধী দল হবে।”

শুক্রবার যে নির্বাচনি ইশতেহার বিএনপি ঘোষণা করেছে, সেখানে বলা হয়েছে, নির্বাচনে জয়ী হলে ‘গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রামে’ অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলোকে সঙ্গে নিয়ে ‘জনকল্যাণমূলক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক’ সরকার গঠন করবে বিএনপি।

তবে সেই সরকারে যে তারা জামায়াতকে চায় না, সে কথা এর আগে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও বলেছিলেন।

Manual2 Ad Code

গত সোমবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য উইকে প্রকাশিত একটি সাক্ষাৎকারে মির্জা ফখরুল বলেন, “যখন আমরা ৩১ দফা সংস্কার কর্মসূচি ঘোষণা করি, তখন স্পষ্টভাবে বলেছিলাম—সরকার গঠন করতে পারলে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আমাদের পাশে থাকা দলগুলোর অংশগ্রহণে ঐকমত্যের ভিত্তিতে সরকার হবে। সেই অঙ্গীকার এখনো বহাল আছে। তবে যারা সেই সংগ্রামের অংশ ছিল না, তারা এই সরকারের অংশ হবে না।”

জামায়াতে ইসলামী সেই সরকারে জায়গা পাবে কি না–জানতে চাইলে ফখরুল বলেন, “না। জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে আমাদের কোনো সমঝোতা নেই এবং বিএনপি নেতৃত্বাধীন কোনো জাতীয় সরকারের অংশ হিসেবে জামায়াতকে আমি দেখি না।”

বিএনপি নেতাদের বরাত দিয়ে রয়টার্স লিখেছে, ৩০০ আসনের সংসদে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন পাওয়ার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী তারা। বিএনপি ২৯২টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে, বাকি আসনগুলোতে লড়ছেন তাদের মিত্ররা।

Manual2 Ad Code

নির্দিষ্ট সংখ্যা বলতে অস্বীকৃতি জানালেও তারেক রহমান সাক্ষাৎকারে বলেন, “আমরা নিশ্চিত, সরকার গঠনের জন্য আমাদের যথেষ্ট আসন থাকবে।”

ভোটের আগে প্রায় সব জরিপে বিএনপির জয়ের পূর্বাভাস দেওয়া হলেও জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের কাছ থেকে শক্ত চ্যালেঞ্জের কথাও বলা হচ্ছে। অভ্যুত্থনের ছাত্রনেতাদের দল এনসিপিও ওই জোটে রয়েছে।

বিএনপির পররাষ্ট্র নীতি কী হবে

রয়টার্স লিখেছে, আন্দোলন দমাতে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনাকে আদালত মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পরও তাকে আশ্রয় দেওয়ায় ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের তিক্ততা বেড়েছে। তাতে করে চীনের জন্য বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও রাজনৈতিক যোগাযোগ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।

বিএনপি জয়ী হলে ভারত থেকে সরে চীনের দিকে ঝুঁকবেন কি না—এমন প্রশ্নে তারেক রহমান বলেন, প্রায় ১৭ কোটি ৫০ লাখ মানুষের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সক্ষম এমন অংশীদারদের বাংলাদেশের প্রয়োজন।

“আমরা সরকারে গেলে তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। দেশে ব্যবসা আনতে হবে, যাতে চাকরি তৈরি হয় এবং মানুষ ভালো জীবন পায়।”

তিনি বলেন, “বাংলাদেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে যে বা যারা উপযুক্ত প্রস্তাব দেবে, তাদের সঙ্গেই আমাদের বন্ধুত্ব হবে, কোনো নির্দিষ্ট দেশের সঙ্গে নয়।”

Manual6 Ad Code

বিএনপি ক্ষমতায় গেলে শেখ হাসিনার সন্তানরা বিদেশ থেকে দেশে ফিরে রাজনীতিতে অংশ নিতে পারবেন কি না—এমন প্রশ্নে তারেক বলেন, “যদি জনগণ কাউকে গ্রহণ করে, মানুষ যদি তাদের স্বাগত জানায়, তাহলে রাজনীতি করার অধিকার সবারই আছে।”

রোহিঙ্গারা থাকবে?

নিজেদের নানা সমস্যা নিয়েও মিয়ানমারের প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়ে আসছে বাংলাদেশ।

অন্তর্বর্তী সরকার গত বছর বলেছিল, এই শরণার্থীদের অনির্দিষ্টকাল সহায়তা দিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা বাংলাদেশের নেই। তাদের প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তাও চেয়ে আসছে বাংলাদেশ।

তারেক রহমানও রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর পক্ষে মত দিয়েছেন, তবে অবশ্যই তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।

বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, “আমরা চেষ্টা করব, যেন তারা নিজেদের দেশে ফিরে যেতে পারে। তবে সেখানে তাদের ফেরার মত নিরাপদ পরিস্থিতি থাকতে হবে। যতদিন না নিরাপদ হয়, ততদিন তারা এখানে থাকতে পারে।”