আজ রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সুনির্দিষ্ট হামলার শঙ্কা ও নিরাপত্তায় অস্ত্র উঁচিয়ে ধরি: ইশরাকের বিবৃতি

editor
প্রকাশিত অক্টোবর ১৮, ২০২৬, ০৪:৫৬ অপরাহ্ণ
সুনির্দিষ্ট হামলার শঙ্কা ও নিরাপত্তায় অস্ত্র উঁচিয়ে ধরি: ইশরাকের বিবৃতি

Manual1 Ad Code

অনলাইন ডেস্ক

রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী কর্মসূচিতে ব্যক্তিগত লাইসেন্স করা আগ্নেয়াস্ত্র হাতে নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। তার দাবি, মাদক কারবারিদের পক্ষ থেকে হামলার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় আত্মরক্ষার জন্য তিনি ও তার সরকারি নিরাপত্তারক্ষীরা অল্প সময়ের জন্য অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেছিলেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে অস্ত্র যথাস্থানে রাখা হয়।

রোববার (১৮ অক্টোবর) দেওয়া এক বিবৃতিতে এ কথা জানান প্রতিমন্ত্রী।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, শনিবার (১৭ অক্টোবর) গেন্ডারিয়া রেললাইনসংলগ্ন এলাকায় মাদকবিরোধী কর্মসূচি চলার সময় একদল ব্যক্তি আমাদের গাড়িবহরের দিকে মারমুখী ভঙ্গিতে এগিয়ে আসে। এ পরিস্থিতিতে নিরাপত্তাঝুঁকি বিবেচনায় আমরা আত্মরক্ষামূলক অবস্থান নেন।

বিবৃতিতে ইশরাক হোসেন জানান, গেন্ডারিয়ার ঘণ্টিঘর, মুন্সিটেক, করাতিটোলা ও আশপাশের এলাকায় মাদক কেনাবেচা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদকের বিস্তার নিয়ে স্থানীয়দের কাছ থেকে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ পাচ্ছেন তিনি। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই এ সমস্যা মোকাবিলায় বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

Manual3 Ad Code

তিনি বলেন, গত জুনে মাদকসংক্রান্ত সহিংসতায় তিনজন গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তিনি ওই এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় সভাও করেন।

মাদকের আস্তানার কাছে স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন এবং জনবলসংকট দূর করার জন্য সংশ্লিষ্ট থানাকে আধাসরকারি পত্র দেওয়া হয়েছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। তবে এসব উদ্যোগ এখনো বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।

Manual1 Ad Code

ইশরাক হোসেনের ভাষ্য, পুলিশ প্রশাসন এবং স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতাদের যৌথ সিদ্ধান্তে নাগরিকদের অংশগ্রহণে সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচির অংশ হিসেবে তিনি শনিবার ওই এলাকায় যান। সেখানে পৌঁছে গেন্ডারিয়া থানা-পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়। পরে পুলিশের উপস্থিতি ও সহযোগিতায় সন্দেহভাজন মাদকের আস্তানাগুলোতে অভিযান চালানো হয়।

অভিযান সম্পর্কে ইশরাক হোসেনের বিবৃতিতে বলা হয়, পুলিশের উপস্থিতিতে চার থেকে পাঁচটি অবৈধ ও অস্থায়ী মাদকের আস্তানা উচ্ছেদ করা হয়েছে। এসব স্থান থেকে হেরোইন বা হেরোইনজাতীয় মাদক, বিদেশি মদ, মাদক সেবনের সরঞ্জাম, দেশীয় ধারালো অস্ত্র, নগদ টাকা ও ছিনতাই করা মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় ছয়জনকে আটক করে জব্দ করা আলামতসহ গেন্ডারিয়া থানা-পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

Manual1 Ad Code

বিবৃতিতে কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ ও ফটোকার্ডের সমালোচনা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঘটনার কয়েক সেকেন্ডের দৃশ্য প্রচার করায় পুরো পরিস্থিতি সামনে আসেনি। তার দাবি, অস্ত্র প্রদর্শনের দৃশ্যকে গুরুত্ব দিতে গিয়ে অভিযানে মাদক ও অস্ত্র উদ্ধার এবং ছয়জনকে আটকের বিষয়টি উপেক্ষা করা হয়েছে।

Manual7 Ad Code

মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা উল্লেখ করে ইশরাক হোসেন বলেন, ঢাকা-৬ আসনকে মাদকমুক্ত করা তার অন্যতম অঙ্গীকার। মাদকবিরোধী অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।