পরিবারের দিক থেকে আমি রাজকপালী’, ৫০২ ভরি স্বর্ণ নিয়ে নিপুণ রায়ের বক্তব্য
পরিবারের দিক থেকে আমি রাজকপালী’, ৫০২ ভরি স্বর্ণ নিয়ে নিপুণ রায়ের বক্তব্য
editor
প্রকাশিত এপ্রিল ২৬, ২০২৬, ১১:৪৬ অপরাহ্ণ
Manual5 Ad Code
অনলাইন ডেস্ক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পাওয়া নিপুণ রায় চৌধুরীর দাখিল করা হলফনামায় ৫০২ ভরি স্বর্ণ ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর গয়নার তথ্য উঠে এসেছে। এ প্রসঙ্গে নিপুণ রায় বলেন, ‘আমার নিজ পরিবার ও শ্বশুরবাড়ি এই দুই পরিবার ভগবানের দান। জন্ম-মৃত্যু-বিয়ে এগুলো তো ভগবানের দান। সেই দিক থেকে আমি রাজকপালী।’
রোববার (২৬ এপ্রিল) ঢাকা-৩ আসনের সংসদ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের বরাদ্দ বাজেট থেকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের গোলাম বাজার এলাকায় বায়তুন নূর জামে মসজিদের সংস্কারকাজের অনুদান দিতে এসে তিনি এ কথা বলেন। নিপুণ রায় গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের ছেলে অমিতাভ রায়ের স্ত্রী এবং ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক।
Manual3 Ad Code
স্বর্ণালংকারের বিষয়ে নিপুণ রায় বলেন, ‘আমার বিয়ের আগে-পরে এবং পরবর্তী সময়ে পিতৃকুল-মাতৃকুল থেকে, আমার শ্বশুরবাড়ির আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধবের পক্ষ থেকে উপহার হিসেবে পেয়েছি, সেটা আমি আমার সম্পদ বিবরণীতে সুস্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছি। এটা নতুন কোনো ঘোষণা না। এটা ২০২৪ সালের জুন মাসে আমি যে ইনকাম ট্যাক্স প্রদান করেছিলাম, সেখানে এটা ঘোষণা করা আছে। অন্যান্য ধাতুসহ আমি দেড় লাখ টাকা দরে হিসাব করে এর বর্তমান বাজারমূল্য আনুমানিক ১০ কোটি টাকা ঘোষণা করেছি। আমি এটা সততার সঙ্গে ঘোষণা করেছি।’
তিনি আরও জানান, তার একটি ফ্ল্যাট ও দুটি গাড়ি রয়েছে, যেগুলোর তথ্যও তিনি হলফনামায় দিয়েছেন। একটি গাড়ি ব্যাংক ঋণ নিয়ে কেনা হয়েছিল এবং তা পরিশোধ করা হয়েছে। বর্তমানে তার প্রায় ৫০ লাখ টাকার কার লোন ও ২০ লাখ টাকার ব্যক্তিগত ঋণ রয়েছে বলেও জানান তিনি।
Manual6 Ad Code
নিজের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরে নিপুণ রায় বলেন, ‘আমি আপনাদের উদ্দেশে বলতে চাই, আমরা সততার সঙ্গে রাজনীতি করি। আমি ওই পরিবারের সন্তান, যে পরিবারে আমার বাবা যখন এরশাদের আমলে মন্ত্রী ছিলেন, তখন অনেক মন্ত্রী দুর্নীতির দায়ে কারাগারে বন্দী ছিলেন। কিন্তু আমার বাবার নামে এক টাকার দুর্নীতিও খুঁজে পাওয়া যায়নি। তার সততার পুরস্কার হিসেবে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া নিতাই রায় চৌধুরীকে জাতীয়তাবাদী দলে যোগদান করান এবং ২০০১ সালে মনোনয়ন দেন। পরবর্তী সময়ে ২০০৮ ও ২০১৮ সালে বাবা নির্বাচন করেছিলেন। সর্বশেষ দেশনায়ক তারেক রহমান সততার পুরস্কার হিসেবে তাকে ২০২৬ সালের নির্বাচনে মনোনয়ন দেন। বিজয়ের মাধ্যমে তাকে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব অর্পণ করেন।’
এ সময় শ্বশুর গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের রাজনৈতিক জীবন নিয়ে নিপুণ রায় বলেন, ‘আমার শ্বশুরবাড়ির কথা যদি বলি, আমার শ্বশুর গয়েশ্বর চন্দ্র রায় দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত রাজনৈতিক কর্মী ও নেতা। তিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য। তার জীবনযাত্রার মান সবকিছু সম্পর্কে আপনারা অবগত।’
নিপুণ রায় আরও বলেন, ‘আগামী দিনে আমি আপনাদের সঙ্গে নিয়ে রাজনীতির ময়দানে থাকতে চাই। আমি আপনাদের অগ্নিকন্যা হতে পেরেছি আমার কর্মের মাধ্যমে। আমি সততার মাধ্যমে আমার দায়িত্ব পালন করব। অনেকে সাহস করে বলতে পারে না, ঘোষণা দিতে পারে না। আমি সাহস করে ঘোষণা দিয়েছি আরও দুই-তিন বছর আগে। এটাই হলো আমার সততা।’