আজ মঙ্গলবার, ২১শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাকিস্তানের কাছে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে বড় হার বাংলাদেশের

editor
প্রকাশিত মার্চ ১৪, ২০২৬, ০১:৫৬ পূর্বাহ্ণ
পাকিস্তানের কাছে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে বড় হার বাংলাদেশের

Manual1 Ad Code

অনলাইন ডেস্ক:

প্রথম ম্যাচের একপেশে জয়ের স্মৃতি নিয়ে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে বড় প্রত্যাশা ছিল বাংলাদেশের সমর্থকদের। তবে মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ঘটনার পর ঘটনা আর নাটকীয় মোড়ের পর শেষ পর্যন্ত ১২৮ রানের বড় ব্যবধানে হেরে যায় বাংলাদেশ। এতে তিন ম্যাচের সিরিজে ১–১ সমতা ফিরিয়েছে পাকিস্তান।

Manual5 Ad Code

ম্যাচের অন্যতম আলোচিত ঘটনা ছিল পাকিস্তানের ব্যাটসম্যান সালমান আগার বিতর্কিত রানআউট। রানআউটের ঘটনায় মাঠেই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখান তিনি। গ্লাভস ও হেলমেট ছুড়ে ফেলেন এবং মাঠ ছাড়ার সময় অসন্তোষ প্রকাশ করেন। ঘটনাটি নিয়ে মাঠে উত্তেজনাও তৈরি হয়।

ক্রিকেট আইনে অবশ্য বাংলাদেশি অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজের রানআউট বৈধ ছিল। নিয়ম অনুযায়ী, বল ‘ডেড’ হওয়ার আগে নন-স্ট্রাইকে থাকা ব্যাটসম্যান বল ধরতে পারেন না। সেই পরিস্থিতিতেই মিরাজ দ্রুত স্টাম্প ভেঙে সালমানকে রানআউট করেন।

টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা দারুণ করে পাকিস্তান। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ওয়ানডে খেলতে নামা দুই ওপেনার সাহিবজাদা ফারহান ও মাজ সাদাকাত মাত্র ১৩ ওভারে তুলে নেন ১০৩ রান। আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে ৪৬ বলে ৭৫ রান করেন সাদাকাত।

১০৩ রানে সাদাকাত আউট হওয়ার পর দ্রুতই আরও দুই উইকেট হারায় পাকিস্তান। এরপর চতুর্থ উইকেটে সালমান আগা ও মোহাম্মদ রিজওয়ান মিলে ১০৯ রানের জুটি গড়েন। ৬২ বলে ৬৪ রান করা সালমানের বিতর্কিত রানআউটেই ভাঙে এই জুটি। পরের বলেই আউট হন রিজওয়ান।

Manual6 Ad Code

সেখান থেকে হঠাৎই ধস নামে পাকিস্তানের ইনিংসে। ৩ উইকেটে ২৩১ রান থেকে ৪৭.৩ ওভারে ২৭৪ রানে অলআউট হয় দলটি। শেষ ৭ উইকেট পড়ে মাত্র ৪৩ রানে। বাংলাদেশের পক্ষে রিশাদ হোসেন ৫৬ রানে ৩ উইকেট নেন, আর মেহেদী হাসান মিরাজ পান ২ উইকেট।

Manual8 Ad Code

২৭৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। ইনিংসের তৃতীয় ওভারে শাহীন শাহ আফ্রিদির বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তানজিদ হাসান। এরপর দ্রুতই সাজঘরে ফেরেন সাইফ হাসান ও নাজমুল হোসেন।

এরপর বজ্রসহ বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টির কারণে প্রায় সোয়া দুই ঘণ্টা খেলা বন্ধ থাকে। খেলা শুরু হলে ডিএলএস পদ্ধতিতে বাংলাদেশের নতুন লক্ষ্য দাঁড়ায় ৩২ ওভারে ২৪৩ রান।

Manual7 Ad Code

বিরতির পর লিটন দাস ও তাওহিদ হৃদয় কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে ৫৮ রানের জুটি করেন। তবে ৩৩ বলে ৪১ রান করা লিটন আউট হওয়ার পর আবারও ধস নামে। শেষ পর্যন্ত নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে ২৩.৩ ওভারে মাত্র ১১৪ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ।

পাকিস্তানের হয়ে মাজ সাদাকাত ব্যাট হাতে ৭৫ রান করার পাশাপাশি বল হাতে ৫ ওভারে ২৩ রান দিয়ে নেন ৩ উইকেট। হারিস রউফও ২৬ রানে ৩ উইকেট নিয়ে দলের জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে পাকিস্তানও অলআউট হয়েছিল ঠিক ১১৪ রানে। দ্বিতীয় ম্যাচে সেই একই স্কোরেই অলআউট হয়ে বাংলাদেশ যেন সেই পরাজয়ের প্রতিফলনই পেল।