আজ সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৯শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আর্জেন্টিনার ইতিহাসে প্রথম, বাবার পর ছেলেও বিশ্বকাপ দলে

editor
প্রকাশিত মে ২৯, ২০২৬, ০৫:১৬ অপরাহ্ণ
আর্জেন্টিনার ইতিহাসে প্রথম, বাবার পর ছেলেও বিশ্বকাপ দলে

Manual2 Ad Code

গিলিয়ানো সিমিওনে ও নিকো পাস, বাবার মতো তারাও জায়গা করে নিয়েছেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ দলে। ছবি: সংগৃহীত

Manual3 Ad Code

অনলাইন ডেস্ক

Manual6 Ad Code

১৯৯৮ বিশ্বকাপ- ফ্রান্সের বোর্দোয় ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে মাঠে একসঙ্গে খেলেছিলেন পাবলো পাস আর দিয়েগো সিমিওনে। তেনেরিফে থেকে আসা মিডফিল্ডার আর ইন্টার মিলানের সেই অক্লান্ত যোদ্ধা, দুজনেই জানতেন না, সেই রাতের গল্পটা একদিন তাদের সন্তানেরা এগিয়ে নিয়ে যাবে।

আটাশ বছর পর, ২০২৬ বিশ্বকাপের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণায় আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসে লেখা হলো এক নতুন অধ্যায়। নিকো পাস ও গিলিয়ানো সিমিওনে, দুই বাবার দুই ছেলে একসঙ্গে জায়গা করে নিলেন লিওনেল স্কালোনির বিশ্বকাপ দলে। আর্জেন্টিনার ৯৬ বছরের বিশ্বকাপ যাত্রায় এমনটা আগে কখনো ঘটেনি।

নিকো পাসের জন্ম স্পেনের সান্তা ক্রুজ দে তেনেরিফেতে, যেখানে তার বাবা পাবলো পাস একসময় ক্লাব ফুটবল খেলতে গিয়েছিলেন। বাহিয়া ব্লাঙ্কা থেকে উঠে আসা পাবলো নিউয়েলস ওল্ড বয়েজ ও ইন্ডিপেন্ডিয়েন্তে খেলেছিলেন, তারপর পাড়ি জমান ইউরোপে। সেই তেনেরিফেতেই জন্ম নেয় তার ছেলে, যিনি রিয়াল মাদ্রিদ ঘুরে ইতালির কোমোর হয়ে শাসন করছে মাঝমাঠ।

গিলিয়ানো সিমিওনের গল্পটাও প্রায় একই সুরে বাধা। রোমে জন্ম তার, যখন বাবা দিয়েগো সিমিওনে লাৎসিওর হয়ে সিরি আ মাতাচ্ছেন। বাবা পরে আতলেতিকো মাদ্রিদের কিংবদন্তি কোচ হয়েছেন, আর ছেলে হয়েছেন সেই একই ক্লাবের উইঙ্গার- তীক্ষ্ণ, অক্লান্ত, বাবার মতোই লড়াকু।

Manual5 Ad Code

আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসে বাবার পর ছেলেও জাতীয় দলে খেলেছেন, এমন নজির কম নেই। কিন্তু একই বিশ্বকাপে বাবা এবং ছেলে দুজনেই, এই কীর্তি এতদিন ছিল শুধু কল্পনায়। পাবলো পাসের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষ হয়েছিল মাত্র ১৪ ম্যাচে, সেই ১৯৯৮ বিশ্বকাপেই। দিয়েগো সিমিওনে আরও দূর গেছেন। তিনটি বিশ্বকাপ খেলেছেন, আর্জেন্টিনার হয়ে প্রথম ফুটবলার হিসেবে ছুঁয়েছেন ১০০ ম্যাচের মাইলফলক। কিন্তু বিশ্বকাপে বাবার পথে হাঁটার স্বপ্নটা দুই পরিবারেই অধরা ছিল। এবার তা পূর্ণ হলো।

২০১৭ সাল থেকে বিদেশে ছড়িয়ে থাকা আর্জেন্টাইন বংশোদ্ভূত প্রতিভাদের খুঁজে বের করতে চালু হয় বিশেষ স্কাউটিং নেটওয়ার্ক। যুব দলের সমন্বয়কারী এনরিকে সেসানা এই উদ্যোগের কথা বলতে গিয়ে একবার বলেছিলেন, এই ছেলেরা স্প্যানিশ বা ইতালিয়ান টানে কথা বলতে বলতে ক্যাম্পে আসে, কিন্তু চলে যাওয়ার সময় হয়ে যায় খাঁটি আর্জেন্টাইন। সেসানা মনে করিয়ে দেন আরেকটি নাম, লিওনেল মেসি। শৈশবে বার্সেলোনায় চলে যাওয়া মেসিকে যদি সময়মতো ধরে না রাখা যেত, হয়তো স্পেনের জার্সিতেই দেখতে হতো তাকে।

Manual1 Ad Code

মজার এক সংযোগ আছে এই গল্পে। ১৯৯৮ সালে এক প্রস্তুতি ম্যাচে পাবলো পাসের সতীর্থ ছিলেন রবার্তো আয়ালা। সেই আয়ালা এখন স্কালোনির প্রধান সহকারী। আর তার হাতেই গড়া হচ্ছে নিকো পাসদের এই প্রজন্ম।