আজ মঙ্গলবার, ১৬ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজনগর ও বড়লেখা উপজেলা পরিষদের সাঁট মুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার উন্নয়ন তহবিল থেকে ১ কোটি ৭৩ টাকা আত্নসাতের অভিযোগ : ১ কোটি ২ লাখ পুনরায় তহবিলে ফেরৎ

editor
প্রকাশিত নভেম্বর ৩০, ২০২৫, ০৬:১৮ অপরাহ্ণ
রাজনগর ও বড়লেখা উপজেলা পরিষদের সাঁট মুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার উন্নয়ন তহবিল থেকে ১ কোটি ৭৩ টাকা আত্নসাতের অভিযোগ : ১ কোটি ২ লাখ পুনরায় তহবিলে ফেরৎ

Manual4 Ad Code

মো: জাফর ইকবাল:

মৌলভীবাজারের রাজনগর ও বড়লেখা উপজেলা পরিষদের সাঁট মুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার উন্নয়ন তহবিল থেকে ১ কোটি ৭৩ টাকা আত্নসাতের অভিযোগ : ১ কোটি ২ লাখ পুনরায় তহবিলে ফেরৎ

Manual7 Ad Code

রাজনগর ও বড়লেখা উপজেলা পরিষদের উন্নয়ন তহবিল থেকে দেড় কোটি টাকা আত্নসাৎ সহ নথিগত অসঙ্গতি অভিযোগ উঠেছে সাঁট মুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর অনুপ দাসের বিরোদ্ধে । গত ২৮শে অক্টোবর রাজনগর রাজনগর উপজেলা পরিষদ পরিদর্শনে গিয়ে মৌলভীবাজার সাবেক জেলা প্রশাসক মো: ইসরাইল হোসেন ক্যাশ বইয়ে ব্যাংক স্টেটমেন্ট দেখে সাঁট মুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর অনুপ দাসের জালিয়াতি ধরা পড়ে। তিনি ৪ মাসে রাজনগর উপজেলা পরিষদ থেকে ১ কোটি ৫১ লাখ ৫১ হাজার ৪৫৫ টাকা চেক জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নিয়েছেন। পড়ে বদলী হয়ে অক্টোবর মাসে বড়লেখা উপজেলা পরিষদ থেকে ২২ লাখ টাকা আত্নসাৎ করেন।
জেলা প্রশাসক বিষয়টি স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মোসা. শাহিনা আক্তারকে তদন্তের জন্য নির্দেশ দেন।

Manual5 Ad Code

হাট-বাজার সাধারণ তহবিল, উপজেলা পরিষদ রাজস্ব তহবিল এবং উপজেলা পরিষদ উন্নয়ন তহবিলের নথি, ক্যাশ রেজিস্টার এবং ব্যাংক স্টেটমেন্টে পরীক্ষা নিরীক্ষায় নিম্নবর্ণিত অসামঞ্জস্য ফাঁস হয়।

উপজেলা হাট-বাজার সাধারণ তহবিলের হিসাব নং:৩৮০৪০২১০০০২০৭ হতে ৮০,৫১,৪৫৫/-টাকা, উপজেলা পরিষদ রাজস্ব তহবিলের হিসাব নং ৫৮১৫৬৩৪০৩৭০৯৩ হতে আনুমানিক ৪০,০০,০০০/= টাকা এবং উপজেলা পরিষদ উন্নয়ন তহবিলের হিসাব নং ৫৮১৫৬৩৪০৮৫২৫৮ হতে ৩১,০০,০০০/= টাকাসহ সর্বমোট ১,৫১,৫১,৪৫৫/- এক কোটি টাকা প্রতারণা এবং চেক জালিয়াতির মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যাংকের বিভিন্ন হিসাব নম্বরে স্থানান্তর করেছেন।

গত ৬/৪/২৫ ইং টেংরাবাজার পশুর হাটের খাস আদায়ে জনবলের নিয়োগের জামানত ৫ লাখ টাকা প্রাপ্তি হিসাবে ক্যাশ রেজিস্টারে দেখানো হয়েছে। কিন্তু ব্যাংক স্টেটমেন্ট পর্যালোচনায় দেখা যায় উক্ত টাকা একাউন্টে জমা হয়নি। ২৪.০৫.২০২৫ ইং মতিন মিয়া নামক ব্যক্তির নামে উক্ত অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে। ১৪৩২ বাংলা সনের ১৫.০৬.২০২৫ ইং টেংরাবাজার পশুর হাটের ইজারামূল্যের অতিরিক্ত ১০% আয়কর বাবদ সিডিবি-২৮৩৬৮৫১ নং চেকে ৫,৯০,০১০/-টাকার চেক ইস্যু করা হয়েছে। কিন্তু ব্যাংক স্টেটমেন্টে দেখা যায়, ১৮.০৬.২৫ ইং লিমন আহমদ নামে ক্যাশ উত্তোলন করা হয়েছে। ১৪৩২ বাংলা সনের হাটবাজার ইজারা ১৫.০৬.২৫ ইং টেংরাবাজার পশুর হাটের ইজারা মূল্যের অতিরিক্ত ১৫% ভ্যাট বাবদ সিডিবি-২৮৩৬৮৫২ নং চেকে ৮,৮৫,০১৫/-টাকার চেক ইস্যু করা হয়েছে। কিন্তু ব্যাংক স্টেটমেন্টে দেখা যায়, উক্ত চেক পূবালী ব্যাংক লি: টেংরাবাজার শাখায় অনুপ চন্দ্র দাশের একাউন্টে ট্রান্সফার করা হয়েছে। ১৪৩২ বাংলা সনের হাটবাজার ইজারা প্রদান সংক্রান্ত পরিচালনার ব্যয় বাবদ সিডিবি-২৮৩৬৮৫৮ নং চেকে ২১,২৫০/- টাকা অনুপ চন্দ্র দাশের নামে পরিশোধের জন্য ১৯.০৬.২৫ ইং নথিতে অনুমোদন করা হয়েছে। গত ২৩.৬.২৫ ইং উক্ত চেকে ৩,২১,২৫০/- টাকা অনুপ চন্দ্র দাশের একাউন্টে ট্রান্সফার করা হয়েছে।

সিডিবি ২৮৩৬৮৫৯ নং চেকে ৫৪২৭/- টাকা আয়কর বাবদ ইস্যু করা হয়েছে। কিন্তু ব্যাংক স্টেটমেন্টে দেখা যায়, গত ২৩.০৬.২৫ ইং উক্ত চেকে ৮,০৫,৪২৭/- টাকা পূবালী ব্যাংক লি. টেংরাবাজার শাখায় অনুপ চন্দ্র দাশের একাউন্টে ট্রান্সফার করা হয়েছে। সিডিবি ২৮৩৬৮৬০ নং চেকে ১৫,০৩২/- টাকা ভ্যাট বাবদ ইস্যু করা হয়েছে। কিন্তু ব্যাংক স্টেটমেন্টে দেখা যায়, গত ২৩.০৬.২৫ইং উক্ত চেকে ৫,১৫,০৩২/- টাকা এনসিসি ব্যাংক লি. শ্রীমঙ্গল শাখায় নিহার রঞ্জন দাশের একাউন্টে ট্রান্সফার করা হয়েছে। সিডিবি ১৫৫৫৫০৯ নং চেকে ২৫,০০০/- টাকা ইস্যু করা হয়েছে। কিন্তু ব্যাংক স্টেটমেন্টে দেখা যায়, গত ২৫.৬.২৫ইং উক্ত চেকে ২,২৫,০০০/- টাকা নেছার আহমেদ উত্তোলন করা হয়েছে।

২৬.০৬.২৫ ইং সিডিবি ১৫৫৫৫০৪ নং চেকে ৪,৪১,৬১১/- টাকা অনুপ চন্দ্র দাশের নামে সোনালী ব্যাংক পিএলসি, রাজনগর শাখায় ট্রান্সফার করা হয়েছে। ইজারা মূল্যের উপর ১০% আয়কর বাবদ ৪,৪১,৬১১/- টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে ১০% আয়কর পরিশোধ করা হয়নি। গত ০৮.০৭.২৫ ইং সিডিবি ১৫৫৫৫১১ নং চেকে ৭,১১,৪০০/- টাকা জুবেল আহমদ, এসএ এন্টারপ্রাইজ, সোনালী ব্যাংক পিএলসি, রাজনগর শাখায় ট্রান্সফার করা হয়েছে। হাটবাজার ইজারামূল্যের উপর ১০% আয়কর বাবদ ৭,১১,৪০০/- টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে ১০% আয়কর পরিশোধ করা হয়নি।

Manual5 Ad Code

গত ০৮.০৭.২৫ ইং সিডিবি ১৫৫৫৫১০ নং চেকে ৮,১১,৬০০/- টাকা বিজয় পাল ঝুটন, ব্রাক ব্যাংক পিএলসি, শ্রীমঙ্গল শাখায় ট্রান্সফার করা হয়েছে। হাটবাজার ইজারামূল্যের উপর ১৫% ভ্যাট বাবদ ৮,১১,৬০০/- টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে।

Manual6 Ad Code

উপজেলার সাবেক সাঁট মুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর অনুপ দাস ২০০৯ সালে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের পর রাজনগরে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। গত ১৬ই সেপ্টেম্বর বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষিতে বড়লেখায় বদলি করা হয়। কিন্তু বদলি হওয়ার আগে তিনি ৪ মাসে ১ কোটি ৫১ লাখ ৫১ হাজার ৪৫৫ টাকা চেক জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।


এ বিষয়ে জানতে সাঁট মুদ্রাক্ষরিক অনুপ দাসের পারিবারিক মোবাইল ফোনে জানান, সংঘটিত ঘটনার জন্য পারিবার থেকে ১ কোটি ২২ লাখ টাকা ফেরৎ দেওয়া হয়েছে। বড়লেখার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ২২ লাখ টাকা প্রাপ্তি স্বীকার করেছেন।

বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গালিব চৌধুরী বলেন, সাঁট মুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর অনুপ দাসকে অনেক আগে বদলী করা হয়েছিল। সে জয়েন্ট করে আগষ্ট মাসে। আমাদের উপজেলায় একটা এক্সিডেন্ট হয়েছিল। রাজনগরের ঘটনার পর তার সাথে কন্টাক করা যাচ্ছেনা। তার স্ত্রী টাকা গুলো ফেরৎ দিয়ে দিয়েছে।

রাজনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) আফরোজা হাবিব শাপলা মোবাইল ফোনে বলেন, সাঁট মুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর অনুপ দাস পুর্ববর্তী ইউএনও এর সময় থেকে চেক জালিয়াতি করে টাকা আত্নসাৎ করেছে। সে টাকার সংখ্যার স্থানে সামান্য খালি রেখে আমার স্বাক্ষর নিয়ে পড়ে আগে পিছনে অংন্ক বসিয়ে দিয়ে টাকা উঠাতো।

এছাড়া তিনি বলেন, ২০২৪ সাল থেকে অনুপ দাশ চেক জালিয়াতি করেছে বলে তদন্তে প্রমান হয়েছে খোঁজ নিলে জানতে পারবেন।

মৌলভীবাজার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মোসা. শাহিনা আক্তার বলেন, এ বিষয় নিয়ে আপনারা জেলা প্রশাসক ও রাজনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট থেকে জেনে নিন।

এ ব্যাপারে জানতে মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল মোবাইল ফোনে বলেন, মুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর অনুপ দাসের বিরুদ্ধে দুদকে ও বিভাগীয় মামলা হবে। কিছু টাকা ফেরৎ হয়েছে শুনেছি।