“আদালতের নিষেধাজ্ঞা জারি আছে, তবু থামছে না নির্মাণকাজ”— এমন অভিযোগে উত্তপ্ত শ্রীমঙ্গলের আলীশারকুল মৌজা। পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে আদালতের আদেশ অমান্য করে ৫৮ শতক জমিতে পুরোনো পেট্রলপাম্পে নতুন যন্ত্রপাতি স্থাপন, আলোকসজ্জা ও সংস্কারকাজ চালানোর অভিযোগ উঠেছে শেখ মো. আফজাল হোসেনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন জমির উত্তরাধিকারীরা।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে স্থানীয় বাগানবাড়ি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ তুলে ধরেন জমির উত্তরাধিকারীদের পক্ষে মো. জলিল মাহমুদ।
সংবাদ সম্মেলনে জলিল মাহমুদ দাবি করেন, শ্রীমঙ্গল উপজেলার আলীশারকুল মৌজায় সাতগাঁও চৌমুহনা-সংলগ্ন প্রায় ৫৮ শতক জমি তাঁর নানা শ্বশুর সিরাজ উল্লাহর উত্তরাধিকারীদের সম্পত্তি। ১৯৮২ সালে জমিটি আজিজ মিয়া দলিলমূলে কিনেছেন বলে দাবি করা হলেও ওই দলিলের বৈধতা নিয়ে তাঁদের আপত্তি রয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, জমির মালিকানা হস্তান্তরে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি।
তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, পরবর্তী সময়ে জমিটি কয়েক হাত বদল হয়ে ব্যাংকের বন্ধক ও ঋণসংক্রান্ত মামলার বিষয়েও জড়িয়ে পড়ে। সিরাজ উল্লাহর উত্তরাধিকারীরা জমির মালিকানা দাবি করে আদালতের শরণাপন্ন হন। তাঁদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে উচ্চ আদালত ২০২৫ সালের ৬ আগস্ট ছয় মাসের জন্য এবং ২০২৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি আরও এক বছরের জন্য নিষেধাজ্ঞা জারি করেন বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞাটি ২০২৭ সালের ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বহাল থাকার কথা।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, আদালতের নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকা অবস্থায় জমিতে অবস্থিত পুরোনো পেট্রলপাম্পে নতুন যন্ত্রপাতি স্থাপন, আলোকসজ্জা ও সংস্কারকাজ চালানো হচ্ছে। এ বিষয়ে বাধা দিতে গেলে তাঁকে আদালত বা থানায় যাওয়ার কথা বলা হয় বলেও দাবি করেন তিনি।
জলিল মাহমুদ জানান, সিরাজ উল্লাহর দুই ছেলে আনসার মিয়া ও আনকার মিয়া মারা যাওয়ার পর তাঁদের উত্তরাধিকারীরা তাঁকে পাওয়ার অব অ্যাটর্নির মাধ্যমে জমিসংক্রান্ত মামলা ও অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, জমির নামজারি নিয়েও বিরোধ রয়েছে এবং আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও অভিযুক্ত ব্যক্তির নামে নামজারি করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে থানায় অভিযোগ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
“আমরা কোনো অন্যায় সুবিধা চাই না; জমির প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণ করে আইন অনুযায়ী ন্যায়বিচার চাই,” বলেন জলিল মাহমুদ। এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য, প্রশাসন, পুলিশ ও ভূমি বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত শেখ মো. আফজাল হোসেন বলেন, এই জমি ব্যাংকে ঋণের বিপরীতে জামানত রাখা হয়েছিল। পরবর্তীতে ঋণ পরিশোধ জটিলতায় অর্থ ঋণ আদালতে মামলা হয় এবং তিনি আদালতের মাধ্যমে নিলামে জমিটি ক্রয় করেন। তিনি বলেন, তাঁদের কোনো আপত্তি থাকলে তা ব্যাংক বা আদালতের কাছে বোঝাপড়া করতে পারেন।
আফজাল হোসেন বলেন, “ব্যাংকের নিলামের জায়গা যা আদালত হয়ে নিলামে বিক্রি হয়, তা নিষ্কণ্টক জমি হিসেবে বিবেচিত হয় বিধায় আমি সর্বোচ্চ দর দিয়ে জমি ক্রয় করেছি।” তিনি আরও বলেন, “বরুণা পীর পরিবার নিয়ে এমন মিথ্যাচারের প্রতিবাদে খুব শিগগিরই পাল্টা সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জবাব দেওয়া হবে।”
শ্রীমঙ্গল থানার ওসি (তদন্ত) আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “এ বিষয়ে দায়েরকৃত অভিযোগ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”