আজ মঙ্গলবার, ১৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৪ঠা ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

লাল পাসপোর্ট’ ছাড়ছেন হাফ ডজন উপদেষ্টা!

editor
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬, ০৮:০৬ অপরাহ্ণ
লাল পাসপোর্ট’ ছাড়ছেন হাফ ডজন উপদেষ্টা!

Manual5 Ad Code

অনলাইন ডেস্ক

’লাল পাসপোর্ট’ ছাড়ছেন হাফ ডজন উপদেষ্টা!
মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে নিজেদের কূটনৈতিক (লাল) পাসপোর্ট জমা দিচ্ছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের একঝাঁক শীর্ষ নীতিনির্ধারক। অর্থ, স্বরাষ্ট্র ও তথ্যসহ গুরুত্বপূর্ণ ছয় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টারা ইতোমধ্যে তাদের বিশেষ পাসপোর্ট সমর্পণ করে সাধারণ পাসপোর্টের আবেদন জানিয়েছেন। ক্ষমতা হস্তান্তরের পরবর্তী সময়ে বিদেশ ভ্রমণে আইনি বা দাপ্তরিক জটিলতা এড়াতেই এই ব্যতিক্রমী ও দূরদর্শী পদক্ষেপ নিয়েছেন তারা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, ইতোমধ্যে কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দিয়ে সাধারণ পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেছেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, তথ্য ও সম্প্রচার এবং পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার।

Manual4 Ad Code

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ছয়জন উপদেষ্টা ও বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা দায়িত্ব ছাড়ার আগেই তাদের কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দিচ্ছেন। মূলত দায়িত্ব শেষ হওয়ার পর সাধারণ পাসপোর্ট পেতে দীর্ঘসূত্রতা এবং ইমিগ্রেশনে অনাপত্তি সনদ (NOC) সংক্রান্ত আইনি জটিলতা এড়াতেই এই দূরদর্শী পদক্ষেপ। পদের মেয়াদ থাকাকালীন আবেদন করলে দ্রুত পাসপোর্ট পাওয়ার নিশ্চয়তা থাকায় তারা এই কৌশল অবলম্বন করছেন

তালিকায় আরও রয়েছেন- প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) ও পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম। এছাড়া, সরকারের পূর্ণাঙ্গ সচিব ও হাইকোর্টের কয়েকজন বিচারকও তাদের লাল পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন।আগাম পাসপোর্ট জমার কারণ কী?

Manual4 Ad Code

সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, কূটনৈতিক পাসপোর্টের মেয়াদ থাকে পাঁচ বছর। তবে, পদত্যাগ বা দায়িত্ব পালন শেষ হওয়ার পর এই পাসপোর্ট হস্তান্তর করা বাধ্যতামূলক।

সরকারের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা বলেন, দুই দিন আগে হোক বা পরে, এটা তাদের ছাড়তে হবে। নিয়ম অনুযায়ী, যে বা যারা কূটনৈতিক পাসপোর্ট পেয়েছেন, দায়িত্ব শেষ হলেই তাদের সেটা হস্তান্তর করতে হবে। তবে, এটা হস্তান্তর করার নির্দিষ্ট কোনো সময় বেঁধে দেওয়া নেই। এখন যারা উপদেষ্টা আছেন তিনি আজ পাঠালে কালই তার পাসপোর্ট হয়ে যাবে। কিন্তু উনি যখন উপদেষ্টা থাকবেন না, তখন কিন্তু আর গ্যারান্টি নেই। পাসপোর্ট অফিস তাকে কত দিনে পাসপোর্ট দেবে, সেটা কিন্তু বড় একটা বিষয়!

এই বিশেষ তালিকায় অর্থ, স্বরাষ্ট্র, তথ্য ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের উপদেষ্টারা রয়েছেন। এছাড়াও প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব, আইজিপি বাহারুল আলমসহ সরকারের কয়েকজন সচিব ও হাইকোর্টের বিচারপতিও তাদের লাল পাসপোর্ট সমর্পণ করেছেন। তারা সবাই ইতোমধ্যে সাধারণ বা প্রাইভেট পাসপোর্টের জন্য আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে

Manual3 Ad Code

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘১২ তারিখের (ফেব্রুয়ারি) পর উনারা যখন আর দায়িত্বে থাকবেন না, তখন এয়ারপোর্ট ট্রাভেল করতে গেলে ইমিগ্রেশন এনওসি (অনাপত্তি সনদ) চাইবে। এনওসি না হলে তো অফিশিয়াল পাসপোর্টে যেতে পারবেন না। এ কারণে উনারা প্রাইভেট পাসপোর্ট করছেন। দায়িত্ব ছাড়ার পরপরই উনাদের কারও কারও কোনো না কোনো দেশে যাওয়া লাগতে পারে। যারা মনে করছেন শিগগিরই তাদের ভ্রমণ করতে হতে পারে, তারা কূটনৈতিক পাসপোর্ট ছাড়ছেন।’

যা বলছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

এদিকে, নিজের পাসপোর্ট জমা দেওয়া নিয়ে ছড়িয়ে পড়া গুঞ্জন নাকচ করে দিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। গতকাল রোববার ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘আমি বা আমার স্ত্রী কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দিইনি। আমার পাসপোর্ট এখনও আমার কাছে আছে এবং ওটা বহাল আছে। এটা খুবই অস্বাভাবিক যে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বা মন্ত্রী তার মেয়াদ থাকাকালে কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দেবেন! আমি এটা করিনি।’

Manual5 Ad Code

নিজের পাসপোর্ট জমা দেওয়া নিয়ে ছড়িয়ে পড়া গুঞ্জন নাকচ করে দিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন / ছবি- সংগৃহীত

আমি বা আমার স্ত্রী কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দিইনি। আমার পাসপোর্ট এখনও আমার কাছে আছে এবং ওটা বহাল আছে। এটা খুবই অস্বাভাবিক যে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বা মন্ত্রী তার মেয়াদ থাকাকালে কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দেবেন! আমি এটা করিনি। তবে কেউ কেউ হয়তো করছেন, কারণ দায়িত্ব শেষে তাদের বাইরে যাওয়ার প্রয়োজন থাকতে পারেপররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন

তবে, অন্য সহকর্মীদের পাসপোর্ট জমা দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘কেউ কেউ হয়তো করছেন, কারণ দায়িত্ব শেষে তাদের বাইরে যাওয়ার প্রয়োজন থাকতে পারে।’ আগেভাগে আবেদন করে রাখলে পাসপোর্ট ও ভিসা সংক্রান্ত প্রক্রিয়াগুলো সহজ হয়— মন্তব্য করেন তিনি। ‘ব্যাপারটা হলো যে, একটু সময় গেইন করা, যাতে তাদের পাসপোর্টটাও হয়ে গেল; যেমন যুক্তরাষ্ট্রের বি-ওয়ান, বি-টু ভিসা; সেটা কিন্তু বাতিল হয় না পাসপোর্ট বাতিল হলেও। কিন্তু তাদের তো নতুন পাসপোর্ট নিয়ে যেতে হবে। যদি যেতে হয়, আর কি!’

উল্লেখ্য, ই-পাসপোর্ট চালু হওয়ার পর থেকে কূটনৈতিক পাসপোর্টের মেয়াদ পাঁচ বছর করা হয়েছে। তবে, পদের মেয়াদ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এই পাসপোর্টের কার্যকারিতা বিশেষ নিয়মের অধীনে চলে আসে অর্থাৎ দায়িত্ব শেষে পাসপোর্ট হস্তান্তর করতে হয়।

 

 

তথ্য সুএঃ জনকণ্ঠ