আজ বৃহস্পতিবার, ১০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৬শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারন সম্পাদক মোশারফ হোসেন দুলালের জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি কেন এত প্রিয়!

editor
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬, ০৫:১৫ অপরাহ্ণ
ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারন সম্পাদক মোশারফ হোসেন দুলালের জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি কেন এত প্রিয়!

Manual2 Ad Code

মো: জাফর ইকবাল:

Manual8 Ad Code

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান (১৯ জানুয়ারি ১৯৩৬ – ৩০ মে ১৯৮১) ছিলেন বাংলাদেশের অষ্টম রাষ্ট্রপতি, প্রাক্তন সেনাপ্রধান এবং একজন মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তান সামরিক বাহিনী বাঙালি জনগণের উপর আক্রমণ করার পর তিনি তার পাকিস্তানি অধিনায়ককে বন্দি করে বিদ্রোহ করেন এবং সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। পরে ১৯৭১ সালের ২৭শে মার্চ তিনি চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণার একটি বিবৃতি পাঠ করেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার ও জেড ফোর্সের অধিনায়ক ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে বীর উত্তম উপাধিতে ভূষিত করে।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের পর জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ সালের ২১শে এপ্রিল বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হন। ১৯৭৮ সালের ১লা সেপ্টেম্বর তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি চার বছর বাংলাদেশ শাসন করার পর ১৯৮১ সালের ৩০শে মে এক ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানে চট্টগ্রামে নির্মমভাবে নিহত হন। ২০০৪ সালে বিবিসি বাংলা পরিচালিত সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জরিপে ২০ জন শ্রেষ্ঠ বাঙালির মধ্যে জিয়াউর রহমানের নাম ১৯ নম্বরে উঠে আসেন।

তিনি গ্রামীন অর্থনীতির চাকাকে সচল করার জন্য ১৯৭৫ সালের শেষের দিকে প্রতিটি মানুষকে স্বনির্ভর হতে উদ্ভুদ্ধ করেন। সে লক্ষ্যে জিয়াউর রহমান স্বনির্ভর আন্দোলনের সাথে কৃষি, সেচ, বৃক্ষরোপন, গৃহ-নির্মাণ, বিদ্যুতায়ন, স্বাস্থ্যরক্ষা, পরিবার পরিকল্পনা এবং আইন শৃংখলা ব্যবস্থাকে সম্পৃক্ত করেছিলেন। খাদ্যে স্বাবলম্বী হবার বিষয়টিকে জিয়াউর রহমান তাঁর জাতীয় নীতি হিসেবে ঘোষনা করেছিলেন।

খড়া মৌসুমে চাষাবাদে নিরবিচ্ছিন্ন সেচ নিশ্চিত করনে। তাঁর আমলে প্রায় ৯০০ মাইল দীর্ঘ খাল খনন করা হয়েছিল।
শহীদ রাষ্টপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীন ও নিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতি অলম্বন করে সহজেই বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছিলেন। তাতে তিনি সফলও হয়েছিলেন।

তিনি তার সাহসী, চৌকস ও দূরদর্শী পররাষ্ট্রনীতির কারণে মুসলিম বিশ্বের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। তিনি তাঁর স্বল্প সময়ের রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনকালে ইরাক-ইরান যুদ্ধে একক মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভুমিকা পালন করেন। শহীদ জিয়া দক্ষিণ এশিয়ার রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে আঞ্চলিক সামাজিক, অর্থনৈতিক ও ভু-রাজনৈতিক ঐক্য সৃষ্টির জন্য সার্ক প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহন করেছিলেন। তাই তাঁকে সার্কের স্বপ্নগ্রষ্টা বলা হয়ে থাকে।

বেগম খালেদা জিয়া

১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমান হত্যার শিকার হলে বেগম খালেদা রাজনীতিতে যোগ দেন এবং বিএনপির নেতৃত্বে আসেন। ১৯৮২ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের পর, তিনি গণতন্ত্রের জন্য চলমান আন্দোলনে নেতৃত্ব দিতে সাহায্য করেন। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিএনপি জয়ী হলে তিনি প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। ১৯৯৬-এর স্বল্পস্থায়ী সরকারেও তিনি দায়িত্বপালন করেন। যেখানে অধিকাংশ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনটি বর্জন করেছিল। ২০০১ সালে তার দল পুনরায় ক্ষমতায় আসে এবং তিনি ২০০৬ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

২০১৮ সালে, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মিথ্যা মামলা এবং ২০১৮ সালে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মিথ্যা মামলায় বেগম খালেদা জিয়াকে মোট ১৭ বছরের কারাদন্ড দেওয়া হয়। ২০১৯ সালের এপ্রিলে তাকে কারাগার থেকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। ২০২০ সালের মার্চে মানবিক কারণে তাকে ছয় মাসের জন্য গৃহবন্দি করে মুক্তি দেয় স্বৈরাচার শেখ হাসিনা সরকার এবং রাজনীতিতে কোনো ধরণের সম্পৃক্ততা নিষিদ্ধ করা হয়।

Manual6 Ad Code

পরবর্তীকালে, জুলাই বিপ্লবের পর বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাহী আদেশে বেগম খালেদার দন্ড মওকুফ করে তাকে মুক্তি দেন। ২৭ নভেম্বর ২০২৪, বেগম খালেদা দুর্নীতি মামলা থেকে খালাস পান। কয়েক বছর ধরে নানা জটিল রোগে দীর্ঘ অসুস্থতার পর, খালেদা জিয়া ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান এবং পরদিন রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর জানাজা, শেষকৃত্য ও দাফন সম্পন্ন হয়।

এম সাইফুর রহমান

এম সাইফুর রহমান তিন দফায় দেশের অর্থমন্ত্রী হয়েছিলেন। প্রথম বার অর্থমন্ত্রী হয়েছিলেন ১৯৮০ সালে, জিয়াউর রহমান তখন প্রেসিডেন্ট। সেবার তিনি দুটি বাজেট দিয়েছিলেন। দ্বিতীয় দফায় অর্থমন্ত্রী হন ১৯৯১ সালে। এরপর আবার অর্থমন্ত্রী হয়েছিলেন ২০০১ সালে। সব মিলিয়ে তিনি ১২টি বাজেট দিয়েছিলেন। তিনিও ১২ বার বাজেট পেশ করেছিলেন। তবে মানুষ প্রয়াত এম সাইফুর রহমানকে মনে রাখবে তাঁর নেওয়া নীতির জন্য। দেশের অর্থনীতিতে সংস্কার এসেছে তাঁরই হাত ধরে। যা সুফল দেশের অর্থনীতি বছরের পর বছর ধরে পাচ্ছে।

Manual6 Ad Code

এম সাইফুর রহমান ১৯৯১ সালে যখন অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন, তখন এরশাদের মাত্রই পতন হয়েছে। এরশাদ আমলের অর্থনীতিকে অনেকে বলে থাকেন অন্ধকারের দশক। যদিও শেষ দিকে এসে দাতাদের চাপে পড়ে সংস্কারের কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু শেষ করতে পারেননি। বিশ্বজুড়েই যখন সংস্কারের হাওয়া লেগেছিল। বিশেষ করে বাণিজ্য ব্যবস্থাকে উদার করার ক্ষেত্রে। এম সাইফুর রহমানও সেই পথে পা বাড়িয়েছিলেন। কেননা, তখন অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে সংস্কারের কোনো বিকল্প ছিল না। ২০০৯ সালের ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়া এলাকায় এক সড়ক দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তারেক রহমান

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সতেরো বছরের বেশি সময় লন্ডনে রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকার পর দেশে ফিরছেন। যার মাধ্যমে তাকে ঘিরে তার দলের ভেতরে ও বাইরে তৈরি হওয়া উদ্বেগের অবসান হচ্ছে।
বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপিকে এবারই প্রথম নির্বাচনী লড়াইয়ে নেতৃত্ব দিলেন তারেক রহমান এবং একই সঙ্গে তিনি নিজেও এবারই প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।

নির্বাচনের মাত্র মাসখানেক আগে মায়ের মৃত্যুর পর দলটির চেয়ারম্যান হিসেবে অভিষিক্ত হয়ে তার নেতৃত্বেই দলের নির্বাচনী প্রচার ও সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে এবং তার সমর্থকেরা তাকেই বাংলাদেশের ‘সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে বর্ণনা করে আসছে।

মূলত এর মাধ্যমেই বাংলাদেশের প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের তৈরি করা দলটি প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সংগঠিত ও জনপ্রিয় হওয়ার পর আবার একটি সমস্যা-সঙ্কুল পথ পাড়ি দিয়ে তাদের বড় সন্তান তারেক রহমানের সরাসরি নেতৃত্বে পরিচালিত হওয়ার সময়ে পদার্পণ করলো।

এম. নাসের রহমান

এম. নাসের রহমান বাংলাদেশের একজন রাজনীতিবিদ এবং মৌলভীবাজার-রাজনগর-৩ আসনের একজন সাবেক সংসদ সদস্য। নাসের রহমানের বাবা সাইফুর রহমান, বাংলাদেশের সাবেক সংসদ সদস্য ও অর্থমন্ত্রী ছিলেন। নাসের রহমান মৌলভীবাজার-৩ আসনে ২০০১ সালে উপ-নির্বাচনে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। তিনি সাইফুর রহমান ফাউন্ডেশনের সভাপতি। বর্তমানে মৌলভীবাজার ৩ আসনের জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ধানের শীর্ষের লড়াই করছেন। বিগত দিনে তিনি মৌলভীবাজারের অনেক উন্নয়নে কাজ করেন এবং ভষিৎতে ও করবেন বলে অঙ্গিকারবদ্ধ। জেলাবাসী আসা করেন তিনি এই আসনে নির্বাচিত হলে সংসদে তিনি জনগনের হয়ে কথা বলবেন ।

 

Manual7 Ad Code