নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পাল্টাপাল্টি হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। পৃথক এসব ঘটনায় অন্তত পাঁচজন আহতের খবর পাওয়া গেছে।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে এসব ঘটনা ঘটে।
Manual3 Ad Code
স্থানীয়, প্রত্যক্ষদর্শী ও সংগঠন দুটির নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শুক্রবার সকালে উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক গাজী মো. গিয়াসের ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান ও আয়নাবাজ কালাইয়া গ্রামের মো. রমিজ দর্জি (৪০) নামের বিএনপি কর্মীর বসতঘরে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করেছে জামায়াত সমর্থকরা। তাছাড়া একই সময়ে কনকদিয়া ও মমিনপুর এলাকায় পৃথক মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় গিয়াসের বাসভবনের সামনে রাখা অন্তত ১০ মোটরসাইকেল ও ফ্রিজ, এসি ভাঙচুর করা হয়।
এদিকে শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে কনকদিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম বীরপাশা খায়েরবাজার এলাকায় বিএনপির কর্মী আলমগীর গাজী (৫৫), শাহাবুদ্দিন সরদাকে (৪৮) পিটিয়ে জখম করে জামায়াত সমর্থকরা। আহত দুজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
Manual8 Ad Code
এছাড়াও বেলা ১টার দিকে কেশবপুর ইউনিয়নের মমিনপুর গ্রামে মো. ফিরোজ (৫৫) নামের জামায়াতের এক সমর্থককে পিটিয়ে ও কুপিয়ে আহতের অভিযোগ উঠেছে বিএনপির কর্মী সমর্থকদের বিরুদ্ধে। আহত ফিরোজকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে শুক্রবার বিকেলে বাউফল উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক তসলিম তালুকদার। এই সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, দাশপাড়া বিএনপির সভাপতি আলী আজম চৌধুরীর বাড়ি, যুবদলের আহ্বায়ক গাজী গিয়াসের কালাইয়ার বাড়ি, যুবদলের সদস্যসচিব সাইফুল ইসলাম ফিরোজের বাড়ি এবং মদনপুরা ইউনিয়নে বিএনপির কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে। এ ছাড়া কেশবপুর ইউনিয়নে যুবদল নেতা আরিফ, আবু তাহের, অলিউল্লাহ, আফজাল বয়াতি, বাচ্চু মালাকার ও দেলোয়ারকে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।
বাউফল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘কয়েকটি জায়গায় হামলা, ভাঙচুর ও মারধরের কথা শুনে ঘটনাস্থলে ফোর্স পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
Manual1 Ad Code
ওই আসনে জামায়াতের বিজয়ী প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, প্রতিহিংসার রাজনীতি আমি পছন্দ করি না। কোনোভাবেই অন্যায়কে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। এসব সংঘর্ষ-হামলায় আমার কোনো কর্মী বা সমর্থক জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।