আজ শুক্রবার, ১০ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৭শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আসাদগেটের পাম্পের লাইন ঠেকেছে বিজয় সরণিতে

editor
প্রকাশিত এপ্রিল ৫, ২০২৬, ০৬:১৬ অপরাহ্ণ
আসাদগেটের পাম্পের লাইন ঠেকেছে বিজয় সরণিতে

Manual6 Ad Code

অনলাইন ডেস্ক:

Manual6 Ad Code

রাজধানীতে তীব্র জ্বালানি সংকটে পেট্রোল পাম্পগুলোতে দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন গাড়িচালকরা। আসাদগেটের তালুকদার পাম্প থেকে বিজয় সরণি পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটারজুড়ে লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তেল পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন তারা। সরবরাহ ঘাটতির কারণে ব্যক্তিগত ও গণপরিবহন উভয় খাতেই প্রভাব পড়েছে, কমেছে যানবাহন চলাচল, বেড়েছে যাত্রী দুর্ভোগ।

Manual2 Ad Code

চাকরি হারানোর আশঙ্কায় উদ্বেগে আছেন অনেক চালক। দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।

Manual7 Ad Code

পাম্পে তেল নিতে আসা চালকরা বলছেন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে তাদের। অনেকেই ভোর থেকে সিরিয়াল দিয়ে অপেক্ষা করেও নিশ্চিত হতে পারছেন না, আদৌ তেল পাবেন কি না।

তেলের সরবরাহ কম থাকায় অনিশ্চয়তা আরও বেড়ে গেছে।
এমনই এক প্রাইভেটকার চালক মো. মাহবুব বাংলানিউজকে বলেন, সকাল ১০টা থেকে তালুকদার পাম্পের লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। আমার সামনে এখনও প্রায় দুই কিলোমিটার দীর্ঘ সারি। তেল পাব কি না, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।

তারপরও অপেক্ষা করছি, কারণ গাড়িতে একেবারেই তেল নেই।
তেলের এই সংকটের কারণে শুধু ব্যক্তিগত গাড়িচালকরাই নয়, গণপরিবহন চালকরাও বিপাকে পড়েছেন। অনেক যানবাহন রাস্তায় কমে যাওয়ায় যাত্রীদের দুর্ভোগও বেড়েছে। যেসব পাম্পে মাঝেমধ্য তেল দেওয়া হচ্ছে, ওই এলাকাতে তীব্র যানজট দেখা দিচ্ছে।

ধানমন্ডির ৯ নম্বর রোড থেকে তেল নিতে আসা ড্রাইভার মোহাম্মদ ফেরদাউস (৬৫) বলেন, এভাবে যদি পরিস্থিতি চলতে থাকে, তাহলে আমাদের মতো অনেক ড্রাইভারকে চাকরি হারাতে হতে পারে।

গাড়িতে তেল না থাকলে চলবে না, আর গাড়ি না চললে মালিকও আমাদের বেতন দিতে পারবেন না বা দেবেন না।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে অনেক গাড়ির ড্রাইভিং সিট খালি থাকলেও নতুন করে কোনো নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে না। ফলে অনিশ্চয়তা দিন দিন কাটছে অনেক ড্রাইভারের।

আসাদগেটের পাম্পে তেল নিতে আসা প্রাইভেটকার চালক মো. মাসুম (৪৫) বলেন, বর্তমান তেলের সংকটে আমাদের চাকরি নিয়েই টানাটানি শুরু হয়েছে। এভাবে পরিস্থিতি চলতে থাকলে চাকরি টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। অনেক ড্রাইভারই এখন চাকরি হারানোর আশঙ্কায় অনিশ্চয়তায় ভুগছেন।

তিনি আরও বলেন, এই মুহূর্তে সরকার যদি কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে অনেক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ড্রাইভার মহলের ভেতর একটি সংকটপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিজয় সরণি ট্রাস্ট পেট্রোল পাম্পে তেল নিতে এসে চরম ভোগান্তির কথা জানালেন চালক মো. শাহজাহান মিয়া। তিনি বাংলানিউজকে বলেন, আমি ভোর ৫টায় এখানে এসে সিরিয়াল দিয়েছি। এখন বিকেল ৫টা বাজে, কিন্তু এখন পর্যন্ত তেলের কোনো সন্ধান পাইনি। এদিকে মালিক বারবার ফোন দিয়ে জানতে চাচ্ছেন, আমি তেল নিতে পেরেছি কি না।

Manual5 Ad Code

তিনি আরও বলেন, আমার মালিক ব্যবসা করেন, তার আরও কয়েকটি গাড়ি আছে। কিন্তু তেলের অভাবে সেগুলো চালাতে পারছেন না। এখন তিনি নিজেও সিএনজি ও পাঠাও ব্যবহার করে ব্যবসার কাজ চালাচ্ছেন, এমনকি বাচ্চাদেরও সিএনজিতে করে স্কুলে পাঠাতে হচ্ছে।

শাহজাহান মিয়া বলেন, মালিকদের হয়তো কোনো না কোনোভাবে চলবে, কিন্তু আমাদের মতো ড্রাইভারদের অবস্থাই সবচেয়ে কঠিন। চাকরি না থাকলে আমরা চলব কীভাবে? আমার দুই ছেলে পড়াশোনা করে এই অবস্থায় অন্য কোনো কাজেও হঠাৎ করে যাওয়া সম্ভব না। গত এক মাস ধরে এই বিষয়টি নিয়ে আমি প্রচণ্ড মানসিক দুশ্চিন্তায় আছি।

তথ্য সুএঃ বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর