ঢাকার চীনা দূতাবাসে মেইল করে হামলার হুমকি, নড়েচড়ে বসেছে গোয়েন্দা সংস্থা
ঢাকার চীনা দূতাবাসে মেইল করে হামলার হুমকি, নড়েচড়ে বসেছে গোয়েন্দা সংস্থা
editor
প্রকাশিত আগস্ট ২৩, ২০২৬, ১২:৩৪ পূর্বাহ্ণ
Manual6 Ad Code
অনলাইন ডেস্ক
Manual8 Ad Code
ইমেইল করে ঢাকাস্থ চীনা দূতাবাসে হামলার হুমকি দেওয়ার ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। ঘটনার পর নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ডিএমপির সিটিটিসি ও পুলিশ সদর দপ্তরের কর্মকর্তারা।
গত বুধবার (১৯ আগস্ট) রাতে একটি উগ্রবাদী সংগঠনের নামে ইমেইল করে ওই হামলার হুমকি দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। বিষয়টি জানার পর দূতাবাসের নিরাপত্তা জোরদার করা নিয়ে পুলিশের সঙ্গে চীনা দূতাবাসের কর্মকর্তাদের অসন্তোষ দেখা দেয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে হট্টগোলের ঘটনাও ঘটেছে বলে একাধিক গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে।
সিটিটিসি ও গোয়েন্দা সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত ঢাকার বারিধারায় চীনা দূতাবাসে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। সন্ত্রাসবাদ দমন ও আন্তঃরাষ্ট্রীয় অপরাধ দমনে সিটিটিসির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার মুন্সি শাহাবুদ্দিনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি প্রতিনিধি দল চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সঙ্গে বৈঠক করে।
বৈঠকে পুলিশ সদর দপ্তরের এলআইসি শাখার এডিসি মাহমুদ এবং বাংলাদেশে বিভিন্ন প্রকল্পে কর্মরত অন্তত ১০ জন চীনা নাগরিকও উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর নামে ইমেইলের মাধ্যমে চীনা দূতাবাসে হামলার হুমকি দেওয়া হয়। হুমকি পাওয়ার পর বিষয়টি পুলিশ সদর দপ্তর ও সিটিটিসিকে জানায় দূতাবাস কর্তৃপক্ষ। পরে তাৎক্ষণিকভাবে নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করতে দূতাবাসে যান পুলিশ কর্মকর্তারা।
Manual8 Ad Code
এদিকে চীনা দূতাবাসের বৈঠকের পর জাপানি দূতাবাসেও বৈঠক করেন সিটিটিসির কর্মকর্তারা। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা ৪০ মিনিট থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ঢাকার বারিধারায় জাপানি দূতাবাসে বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচির সঙ্গে বৈঠক করেন সিটিটিসির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার মুন্সি শাহাবুদ্দিন।
Manual2 Ad Code
গোয়েন্দা সূত্র জানায়, সম্প্রতি রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে একের পর এক বোমা সদৃশ বস্তু উদ্ধারের ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশের বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট এসব বস্তু নিষ্ক্রিয় করে। এর মধ্যে রাজধানীর ডেমরা এলাকায় দুটি বোমা সদৃশ বস্তুসহ একজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, গ্রেপ্তার ওই যুবক জেএমবির সদস্য। তিনি মামুন ওরফে বোমা মামুনের ঘনিষ্ঠ বলেও তথ্য পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তবে এখন পর্যন্ত বোমা মামুনের কোনো হদিস পায়নি তারা।
গোয়েন্দা সূত্র আরও জানায়, তাদের সঙ্গে কারাগারে দেখা হওয়ার পর জামিনে বেরিয়ে তারা আত্মগোপনে চলে যায়। এরপর জাতিসংঘ থেকে উগ্রবাদী সংগঠন আল-কায়েদার বাংলাদেশে নেটওয়ার্ক নিয়ে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়। ওই বার্তা পাওয়ার পর দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় ওঠে।
চীনা দূতাবাসে হামলার হুমকির বিষয়ে জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে সিটিটিসির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, “আমরা খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছি। কারা এবং কোন উগ্রবাদী সংগঠন থেকে ইমেইল পাঠানো হয়েছে, সেটি বের করার চেষ্টা করেছি। হুমকিদাতাদের চিহ্নিত করার কাজ চলমান রয়েছে। দূতাবাসের জন্য ডিপ্লোমেটিক জোনের পুলিশ রয়েছে। তারাই নিরাপত্তার বিষয়টি দেখবেন।”
সূত্র জানায়, দূতাবাসের নিরাপত্তা নিয়ে পুলিশের সঙ্গে চীনা দূতাবাসের কর্মকর্তাদের অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে পুলিশ ও দূতাবাসের কর্মকর্তাদের মধ্যে হট্টগোলের ঘটনাও ঘটেছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে পুলিশ ও কূটনীতিকদের মধ্যে দফায় দফায় বৈঠক চলছে।
নিরাপত্তার বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএমপির ডিপ্লোমেটিক সিকিউরিটি বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) সৈয়দ মোহাম্মদ ফরহাদের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
এদিকে চীনা দূতাবাসে হামলার হুমকির পর বিদেশি কূটনীতিকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে তৎপর হয়েছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। গুলশানসহ বিদেশিদের বসবাস করা এলাকাগুলোতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
Manual1 Ad Code
গোয়েন্দা সূত্র জানায়, চীনা দূতাবাসে হামলার হুমকির পর ঢাকায় থাকা প্রত্যেকটি দূতাবাসের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে হুমকিদাতা সংগঠনকে শনাক্ত এবং তাদের অবস্থান জানতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। তথ্য সুএঃ ঢাকা পোস্ট