বাংলাদেশ বৌদ্ধ যুব পরিষদ (বাবৌযুপ) সিলেট’র স্বজন স্মরণ কর্মসূচি সম্পন্ন
বাংলাদেশ বৌদ্ধ যুব পরিষদ (বাবৌযুপ) সিলেট’র স্বজন স্মরণ কর্মসূচি সম্পন্ন
editor
প্রকাশিত অক্টোবর ১০, ২০২৬, ০২:০৭ পূর্বাহ্ণ
Manual7 Ad Code
উৎফল বড়ুয়া, সিলেট
প্রয়াত স্বজনের স্মৃতিকে মানবসেবা ও জনকল্যাণের মহৎ উদ্যোগে রূপান্তরিত করার প্রত্যয়ে বাংলাদেশ বৌদ্ধ যুব পরিষদ (বাবৌযুপ)-সিলেটের ব্যবস্থাপনায় খাদ্য ও শিক্ষাসামগ্রী বিতরণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে স্বজন স্মরণ কর্মসূচি ২০২৬।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় স্বপ্নের বিদ্যানিকেতন প্রাঙ্গণে প্রয়াত শ্রীমতি পারুল বড়ুয়ার অষ্টম মৃত্যুদিবস উপলক্ষে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে মৃত স্বজনের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের পাশাপাশি অসহায় শিক্ষার্থীদের হতে খাদ্যসহায়তা এবং শিক্ষাসামগ্রী তুলে দেওয়ার মাধ্যমে মানবিকতা, সহমর্মিতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বাবৌযুপ-সিলেট।
চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলার হাইদকান্দি ইউনিয়নের দমদমা গ্রামের প্রয়াত পারুল বড়ুয়ার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সুদর্শন-পারুল ফাউন্ডেশনের পক্ষে কর্মসূচির উদ্যোক্তা ছিলেন বাংলাদেশ বৌদ্ধ যুব পরিষদ-জাতীয় কমিটির সাবেক মহাসচিব অধ্যাপক সরোজ বড়ুয়া।
বাংলাদেশ বৌদ্ধ যুব পরিষদ জাতীয় কমিটির চেয়ারম্যান চিন্ময় বড়ুয়ার সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং সংগঠনটির সিলেট শাখার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও জাতীয় কমিটির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক উৎফল বড়ুয়ার সহযোগিতায় কর্মসূচিটি বাস্তবায়িত হয়।
উক্ত মহতি আয়োজন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত উপস্থিতি ছিলেন বাংলাদেশ বৌদ্ধ যুব পরিষদ সিলেট অঞ্চল এর সিনিয়র সহ সভাপতি, রত্নগর্ভ মাতা তপতি বড়ুয়া, উদ্বোধক ছিলেন লেখক ও সাংবাদিক আমীর হোসেন সোহাগ, বিশেষ অতিথি ছিলেন বাবৌযুপ সিলেট এর সাধারণ সম্পাদক দিলু বড়ুয়া, শেলু বড়ুয়া,স্বপ্নের বিদ্যানিকেতন স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা তারেক আহমদ। আরো উপস্থিত ছিলেন সেতু বড়ুয়া মুক্তা, সীমান্ত বড়ুয়া জয় প্রমূখ।
আয়োজনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল খাদ্য ও শিক্ষাসামগ্রী বিতরণ। খাদ্য মানুষের প্রথম মৌলিক চাহিদা, আর শিক্ষা উপকরণ শিক্ষার্থীদের জ্ঞান অর্জন ও স্বপ্নপূরণের পথে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করে। একই কর্মসূচিতে খাদ্যসহায়তা ও শিক্ষাসামগ্রী বিতরণের মধ্য দিয়ে মানুষের বর্তমান প্রয়োজনের প্রতি সংবেদনশীলতা এবং আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নির্মাণের অঙ্গীকার প্রকাশ পেয়েছে। বিশেষ করে আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে যেসব পরিবার নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য ও সন্তানদের শিক্ষাসামগ্রী সংগ্রহে হিমশিম খায়, তাদের পাশে দাঁড়ানোর এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে পারস্পরিক সহযোগিতার বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করে।
প্রধান অতিথি বলেন, প্রিয়জনের মৃত্যুর পর তাঁর স্মৃতিকে ধারণ করার প্রচলিত রীতির বাইরে এসে সেই স্মৃতিকে মানুষের কল্যাণে উৎসর্গ করা নিঃসন্দেহে এক মহৎ মানসিকতার পরিচয়। শোককে শক্তিতে, স্মৃতিকে সেবায় এবং ব্যক্তিগত ভালোবাসাকে সামাজিক দায়বদ্ধতায় রূপান্তরিত করার মধ্য দিয়ে স্বজন স্মরণ কর্মসূচি নতুন তাৎপর্য লাভ করে। প্রয়াত ব্যক্তির স্মরণে যখন ক্ষুধার্ত মানুষের মুখে আহার তুলে দেওয়া হয়, শিক্ষার্থীদের হাতে প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ পৌঁছে দেওয়া হয়, তখন সেই স্মরণ কেবল একটি পরিবারের আবেগের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; তা বৃহত্তর সমাজের কল্যাণের সঙ্গে যুক্ত হয়।
উৎফল বড়ুয়া বলেন, বাংলাদেশ বৌদ্ধ যুব পরিষদ ও সুদর্শন-পারুল ফাউন্ডেশনের এ উদ্যোগ সামাজিক ও মানবিক দায়িত্ব পালনের একটি তাৎপর্যপূর্ণ দৃষ্টান্ত। ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের প্রকৃত সৌন্দর্য মানুষের প্রতি মমত্ববোধ, বিপদগ্রস্তের পাশে দাঁড়ানো এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখার মধ্যেই প্রতিফলিত হয়। এ ধরনের কার্যক্রম সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তি, পরিবার ও সংগঠনগুলোকে মানবকল্যাণে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করতে পারে।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধন সোহাগ বলেন, বর্তমান সময়ে যখন ব্যক্তিকেন্দ্রিকতা ও সামাজিক দূরত্বের কারণে অনেক ক্ষেত্রে মানুষের প্রতি মানুষের দায়বদ্ধতা দুর্বল হয়ে পড়ছে, তখন স্বজন স্মরণকে কেন্দ্র করে খাদ্য ও শিক্ষাসামগ্রী বিতরণের মতো উদ্যোগ আশার আলো দেখায়। মানুষের দুঃখ ভাগ করে নেওয়া, প্রয়োজনের সময়ে পাশে দাঁড়ানো এবং শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে সহায়তা করা একটি মানবিক সমাজ গঠনের অপরিহার্য শর্ত।
বিশেষ অতিথি দিলু বলেন, প্রিয়জনের শারীরিক অনুপস্থিতি জীবনের এক অনিবার্য বাস্তবতা। কিন্তু তাঁর স্মৃতি মানুষের কল্যাণে নিবেদিত হলে সেই স্মৃতি হয়ে উঠতে পারে দীর্ঘস্থায়ী প্রেরণার উৎস। প্রয়াত শ্রীমতি পারুল বড়ুয়ার অষ্টম মৃত্যুদিবস উপলক্ষে আয়োজিত এ কর্মসূচি সেই বার্তাই বহন করে। মানুষের জন্য করা ভালো কাজই স্মৃতিকে মহিমান্বিত করে, ভালোবাসাকে করে অর্থবহ এবং মানবতার বন্ধনকে করে আরও গভীর। খাদ্যসহায়তায় ক্ষুধার উপশম, শিক্ষাসামগ্রী বিতরণে জ্ঞানের আলো এবং মানবিক উদ্যোগে পারস্পরিক সম্প্রীতির বিকাশ ঘটুক, এটাই এমন আয়োজনের অন্তর্নিহিত প্রত্যাশা।