আজ , ,

হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলার ৫টি চাবাগানের তিন সপ্তাহ ধরে মজুরি পাচ্ছেন না চা-শ্রমিকেরা, বকেয়া পরিশোধের দাবিতে মানববন্ধন

editor
প্রকাশিত November 2, 2026, 12:43 AM
হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলার ৫টি চাবাগানের তিন সপ্তাহ ধরে মজুরি পাচ্ছেন না চা-শ্রমিকেরা, বকেয়া পরিশোধের দাবিতে মানববন্ধন

Manual7 Ad Code
স্বপন কুমার সিং, নিজস্ব প্রতিবেদক :
হবিগঞ্জে দেউন্দি টি কোম্পানির আওতাধীন চারটি চা-বাগান ও মৌলভীবাজার জেলার মিরতিংগা চা বাগানের শ্রমিকদের টানা তিন সপ্তাহ ধরে মজুরি দেওয়া হচ্ছে না। পাশাপাশি বকেয়া পাওনা ও প্রভিডেন্ট ফান্ডের অর্থ জমা না হওয়ায় চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন প্রায় ১৫ হাজার শ্রমিক।
বকেয়া মজুরি পরিশোধসহ পাঁচ দফা দাবি আদায়ে বাগানগুলোতে দফায় দফায় কর্মসূচি পালন করেও প্রতিকার না পেয়ে রোববার (১ নভেম্বর) দুপুরে হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ও মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করেন শ্রমিকরা। পরে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে স্মারকলিপি দেন চা-শ্রমিক নেতারা।
মানববন্ধনে দেউন্দি, লালচান্দ, নোয়াপাড়া ও মিরতিঙ্গা চা-বাগানের শ্রমিকরা অংশ নেন। এ সময় তাঁরা বকেয়া মজুরি পরিশোধ, প্রভিডেন্ট ফান্ডের অর্থ জমা এবং চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করাসহ বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন।
জেলা প্রশাসকের কাছে দেওয়া স্মারকলিপিতে শ্রমিকরা উল্লেখ করেন, বাগান কর্তৃপক্ষের কাছে এরিয়ার (বকেয়া পাওনা) বাবদ প্রত্যেক শ্রমিকের প্রায় ৪ হাজার টাকা করে পাওনা রয়েছে। চারটি বাগানের প্রায় ১৫ হাজার শ্রমিকের এই খাতে মোট বকেয়ার পরিমাণ প্রায় ৬ কোটি টাকা।
এ ছাড়া শ্রমিকদের মজুরি থেকে কর্তন করা প্রভিডেন্ট ফান্ডের অর্থ এবং মালিকপক্ষের নির্ধারিত অংশসহ মোট ৪৭ মাসের টাকা জমা দেওয়া হয়নি। ফলে শ্রমিকরা প্রভিডেন্ট ফান্ডের প্রাপ্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
শ্রমিকরা আরও জানান, বাগানগুলোর চিকিৎসাব্যবস্থাও অত্যন্ত নাজুক। ওষুধ সরবরাহ বন্ধ থাকায় ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা। পাশাপাশি শ্রমিকদের বাসস্থান নির্মাণ, ঘরবাড়ি মেরামত, দরজা-জানালা ও ঘরের ছাউনি সংস্কারের কাজও বন্ধ রয়েছে।
এ বিষয়ে দেউন্দি টি কোম্পানির পঞ্চায়েত সভাপতি আপন সাঁওতাল বলেন,   ২০২২ সাল থেকে এখন পর্যন্ত চা-শ্রমিকরা তাঁদের ন্যায্য দাবিদাওয়া সঠিকভাবে পাচ্ছেন না। বিশেষ করে দেউন্দি টি কোম্পানির চারটি বাগানে বর্তমানে তিন সপ্তাহের মজুরি বকেয়া রয়েছে। এ ছাড়া প্রত্যেক শ্রমিকের প্রায় ৪ হাজার টাকা করে বকেয়া এবং প্রভিডেন্ট ফান্ডের অর্থও কর্তৃপক্ষ যথাযথভাবে জমা দিচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, এসব দাবিতে প্রথমে নিজ নিজ বাগানে কর্মবিরতি পালন করা হয়। কিন্তু তাতেও কোনো সিদ্ধান্ত না আজ রবিবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করা হয়েছে। পরে পাঁচ দফা দাবি জানিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। এতেও সমস্যার সমাধান না হলে কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়ার চিন্তাভাবনা রয়েছে।
এদিকে দেউন্দি টি কোম্পানি ম্যানেজার মোঃ রিয়াজ উদ্দিন বলেন ব্যাংক লোন দিচ্ছে না। ২০১৭ সালের পর থেকে ব্যাংক লোন পাচ্ছেন। আগুন লেগে ফ্যাক্টরি বিভিন্নভাবে চা বাগান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কিন্তু ব্যাংক আসেন। সমস্যা গুলো নিয়ে কথাও বলেন নি।তবে কোম্পানি চেষ্টা করছে খুব দ্রুতই সমস্যা সমাধান হবে।
চা শ্রমিকদের পঞ্চায়েত  সাধারণ সম্পাদক, ইউপি কাউন্সিলর দুলাল ঘোষ জানান আমাদের দাবীদাবা দ্রুত না মানলে কঠোর কর্মসূচীর হুশিয়ারি দিয়েছেন।
এদিকে নোয়াপাড়া চা বাগানের ভারপ্রাপ্ত ম্যানেজার মোঃ সোহাগ আহমেদ জানান, ৩ সপ্তাহ বেতনভাতা মঞ্জুরী আটক আছে। আমরা শ্রমিকদের কাছে সময় চেয়েছিলাম কোম্পানি চেষ্টা করছে খুব শীঘ্রই বেতনভাতা পরিশোধের উদ্যাগ নেয়া হবে।
হবিগঞ্জের লালচান্দ চা বাগানের ম্যানেজার মোঃ ফকরুল ইসলাম ফরিদি জানান আগুন লেগে ফ্যাক্টরি পুড়েগিয়েছিল ব্যাংক আসেনি।  ২০১৮ থেকে লোন পাচ্ছিনা। ব্যাংক টালবাহানা করে। তথাপি উৎসব বোনাস কোম্পানি দিয়েছেন। এখন ৩ সপ্তাহের মজুরি আটক হয়েছে ব্যাংক লোন পেলে বা কোম্পানি ও চেষ্টা করছেন সমস্যা সমাধানের।
হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক  ড. জি. এম. সরফরাজ জানান আমি উধর্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে ব্যবস্থা নিবেন। তিনি বলেন শ্রমিকদের ঘাম শুকনোর আগে তাদের বকেয়া পরিশোধ করা প্রয়োজন কেন এমন সমস্যা হলো তিনি খুব শীগ্রই সমস্যা সমাধানের জন্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন।