হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার পানিউমদা ইউনিয়নে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও সেচসুবিধা সম্প্রসারণে বাস্তবায়িত হয়েছে বরচারা খাল ফ্ল্যাগশিপ উপপ্রকল্প। জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) ও বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে ১০ কোটি ৮ লাখ ৭০ হাজার টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এর ফলে ৬০৯ হেক্টর ফসলি জমি সেচসুবিধার আওতায় আসবে। উপকৃত হবেন কয়েক হাজার কৃষক।
রোববার (১ নভেম্বর) প্রকল্পের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রধান প্রকৌশলী মো. বেলাল হোসাইন এবং জাইকা বাংলাদেশ অফিসের প্রধান প্রতিনিধি তাকাহাশি জুনকো। এ সময় সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন প্রকৌশলী ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালে শুরু হওয়া প্রকল্পটির কাজ শেষ হয় ২০২৫ সালে। এর আওতায় নবীগঞ্জ উপজেলার পানিউমদা, বরকান্দি ও কুর্শা এলাকায় খাল খনন ও পাড় মেরামত, সুইচগেট এবং কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে। এসব অবকাঠামোর মাধ্যমে কৃষিজমিতে সেচের পানি সরবরাহ এবং অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা উন্নত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রকল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো স্থানীয় পর্যায়ে পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা। এ লক্ষ্যে ৬১১ জন নারী ও পুরুষকে নিয়ে গঠন করা হয়েছে পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি। এর মাধ্যমে স্থানীয় কৃষকদের অংশগ্রহণে পানি ব্যবস্থাপনা, অবকাঠামোর রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, প্রকল্পের অবকাঠামো যথাযথভাবে পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ করা গেলে বর্ষা মৌসুমে কৃষিজমির জলাবদ্ধতা কমানোর পাশাপাশি শুষ্ক মৌসুমে সেচের পানির সংকট মোকাবিলা সহজ হবে। এতে কৃষকের উৎপাদনশীলতা বাড়বে এবং কৃষি কার্যক্রমে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
এদিকে, প্রকল্পটির বাস্তবায়ন ও সার্বিক কার্যক্রম পর্যালোচনায় সপ্তাহব্যাপী পরিদর্শন, অডিট ও মূল্যায়ন কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এতে দুটি অডিট দলের পাশাপাশি বিশ্বব্যাংক ও জাইকার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। রোববার প্রধান প্রকৌশলীর পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে এসব কার্যক্রমের সমাপ্তি ঘটে।
এলজিইডি হবিগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলীর সমন্বয় ও ব্যবস্থাপনায় সপ্তাহব্যাপী কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। কার্যক্রম সফলভাবে শেষ হওয়ায় ঢাকা থেকে আগত প্রধান প্রকৌশলী, জাইকার বাংলাদেশ অফিসের প্রধান প্রতিনিধি এবং উপস্থিত ঊর্ধ্বতন প্রকৌশলীরা নির্বাহী প্রকৌশলীকে ধন্যবাদ জানান।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, বরচারা খাল ফ্ল্যাগশিপ উপপ্রকল্পের সুফল পুরোপুরি নিশ্চিত করা গেলে নবীগঞ্জের কৃষি ও পানি ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
সেচসুবিধা সম্প্রসারণ, পানি সংরক্ষণ ও জলাবদ্ধতা নিরসনের মাধ্যমে এ অঞ্চলের কৃষকের জীবনমান উন্নয়নে প্রকল্পটি ভূমিকা রাখবে।
আলোচনায়, বক্তরা বলেন সরকার এবং জাইকা আপনাদের একটি প্রতিষ্টান করে দিয়েছি। এটা করতে আপনাদের নিজেদের অর্থ ব্যয় করতে হয়নি। এটা আমরা করে দিয়েছি। এটা কে কে সক্রিয় রাখলে এলাকার জনগন উপকৃত হবে। অন্যরা যদি সেবামূলক কাজে এগিয়ে আসে তাহলে দেশের উন্নয়ন হবে। এগিয়ে আসে তাহলে দেশের উন্নয়ন হবে।