নতুন আইজিপি ও ডিএমপি কমিশনার হওয়ার আলোচনায় কয়েকটি নাম
নতুন আইজিপি ও ডিএমপি কমিশনার হওয়ার আলোচনায় কয়েকটি নাম
editor
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬, ০১:৩২ পূর্বাহ্ণ
Manual8 Ad Code
অনলাইন ডেস্ক:
Manual3 Ad Code
বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ও ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার পদকে ঘিরে প্রশাসনিক অন্দরে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। সরকারের নীতিগত অগ্রাধিকার, মাঠপর্যায়ের নিয়ন্ত্রণ এবং রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন নেতৃত্ব বসানোর সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনা–কল্পনা এখন তুঙ্গে।
নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো বলছে, আইজিপি পদে একাধিক অভিজ্ঞ কর্মকর্তার নাম ঘুরে–ফিরে আসছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি দেলোয়ার হোসেন মিঞা, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অতিরিক্ত আইজিপি আলী হোসেন ফকির, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. ছিবগাত উল্লাহ এবং র্যাবের মহাপরিচালক এ কে এম শহিদুর রহমান। পেশাগত দক্ষতা, মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা এবং সরকারের আস্থার প্রশ্ন—এই তিন সূচকেই তাদের নাম আলোচনায় উঠে এসেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
বিশেষ করে র্যাব মহাপরিচালক এ কে এম শহিদুর রহমানকে নিয়ে আলাদা করে আলোচনা হচ্ছে। চব্বিশের গণ–অভ্যুত্থানের পর বাহিনী পুনর্গঠনের প্রক্রিয়ায় তাকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার। তার নেতৃত্বে র্যাবের কার্যক্রমে যে গতি এসেছে, সেটিকে প্রশাসনের একটি অংশ ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। আগামী ১৫ মার্চ তার চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকায় তাকে পুলিশের সর্বোচ্চ পদে নিয়ে আসার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না।
অন্যদিকে অবসরপ্রাপ্ত হলেও আলোচনায় রয়েছেন কয়েকজন অভিজ্ঞ কর্মকর্তা। তাদের মধ্যে সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি মতিউর রহমান শেখ এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার সমন্বয়ক আনসার উদ্দিন খান পাঠানের নাম প্রশাসনিক মহলে ঘুরছে। অতীতে তাদের দায়িত্ব পালন, তদন্ত ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের অভিজ্ঞতা নতুন সরকারের জন্য কাজে লাগতে পারে—এমন ধারণা থেকেই তাদের নাম সামনে এসেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
Manual8 Ad Code
তবে বর্তমান আইজিপি বাহারুল আলমের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ এখনো বহাল রয়েছে। ২০২৪ সালের ২০ নভেম্বর তাকে দুই বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। সেই হিসেবে তার মেয়াদের এখনও প্রায় নয় মাস বাকি। ফলে তাকে সরিয়ে তাৎক্ষণিক পরিবর্তন আনা হবে, নাকি চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা হবে—এ নিয়েও প্রশাসনের ভেতরে আলোচনা চলছে। সরকারের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তই এ ক্ষেত্রে চূড়ান্ত ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
ডিএমপি কমিশনার পদ নিয়েও কম আলোচনা হচ্ছে না। রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, রাজনৈতিক কর্মসূচি ব্যবস্থাপনা এবং কূটনৈতিক নিরাপত্তা—সব মিলিয়ে এ পদটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নতুন কমিশনার হিসেবে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের কমিশনার হাসিব আজিজ, অতিরিক্ত আইজিপি মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ এবং র্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ফারুক আহমেদের নাম আলোচনায় রয়েছে। মাঠপর্যায়ে নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা ও প্রশাসনিক দক্ষতার কারণে তাদের এগিয়ে রাখা হচ্ছে।
Manual1 Ad Code
বর্তমান ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলীর চুক্তিভিত্তিক মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা আগামী ২১ নভেম্বর। ফলে সরকার চাইলে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পরিবর্তন আনতে পারে, আবার মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পরও নতুন নিয়োগ দিতে পারে। রাজধানীর রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং সরকারের নিরাপত্তা–কৌশল এ সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে নিজেদের আস্থাভাজন কর্মকর্তাদের বসানো একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। এতে নীতি বাস্তবায়ন সহজ হয় এবং মাঠপর্যায়ে সমন্বয় বাড়ে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের অগ্রাধিকার দ্রুত কার্যকর করা যায়। তবে হঠাৎ বড় ধরনের রদবদল করলে বাহিনীর ভেতরে মানসিক চাপ তৈরি হতে পারে—এ বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—নতুন সরকারের সামনে রাজনৈতিক কর্মসূচি, সম্ভাব্য আন্দোলন, অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ ও কূটনৈতিক তৎপরতা—সবকিছু মিলিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে কার্যকর রাখা জরুরি। তাই শুধু পদায়ন নয়, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের প্রশ্নটিও এখানে বড় হয়ে উঠছে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, পুলিশের শীর্ষ পদে সম্ভাব্য রদবদল এখন সময়ের অপেক্ষা মাত্র। কে হচ্ছেন নতুন আইজিপি বা ডিএমপি কমিশনার—তা নিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না এলেও প্রশাসনের অন্দরমহলে হিসাব–নিকাশ শুরু হয়ে গেছে। শেষ পর্যন্ত সরকারের রাজনৈতিক অগ্রাধিকার, পেশাগত দক্ষতা এবং পরিস্থিতি মোকাবিলার সক্ষমতার সমন্বয়েই নির্ধারিত হবে পুলিশের নতুন নেতৃত্বের চূড়ান্ত তালিকা।