বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর পোশাক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনটির মতে, দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরিবর্তনের আগে আরও গবেষণা ও জনমত যাচাই প্রয়োজন।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ও কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ উদ্বেগ জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, ২০০৩-০৪ সালে তৎকালীন সরকারের গঠিত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে যাচাই-বাছাই শেষে খাকি পোশাক পরিবর্তন করে বর্তমান ইউনিফর্ম চালু করা হয়। সে সময় সদস্যদের গায়ের রং, দেশের আবহাওয়া, দিন-রাতের ডিউটিতে সহজে চিহ্নিত হওয়া এবং অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে সাদৃশ্য না থাকার বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছিল।
সংগঠনটির দাবি, নতুন পোশাক নির্ধারণের ক্ষেত্রে এসব বাস্তব দিক যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি। অন্য কয়েকটি সংস্থার পোশাকের সঙ্গে সাদৃশ্য থাকায় মাঠপর্যায়ে পুলিশ সদস্যদের দ্রুত শনাক্ত করা কঠিন হতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুলিশ সদস্যরা ঐতিহ্যবাহী পোশাকেই দায়িত্ব পালন করেন। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনে তাদের পেশাদারিত্ব দেশ-বিদেশে প্রশংসিত হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
Manual5 Ad Code
পোশাক পরিবর্তনকে ব্যয়বহুল প্রক্রিয়া উল্লেখ করে সংগঠনটি বলেছে, বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন ইউনিফর্ম তৈরির চেয়ে বাহিনীর আধুনিকায়ন, থানা পর্যায়ে যানবাহন সরবরাহ, লজিস্টিক সহায়তা বৃদ্ধি এবং প্রশিক্ষণ উন্নয়নে বরাদ্দ দেওয়া বেশি যুক্তিযুক্ত হবে।
Manual8 Ad Code
বাহিনীর সদস্যদের আবেগ ও বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে গবেষণা ও জনমত যাচাইয়ের ভিত্তিতে বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অনুরোধ করা হয়।