ইসরাইলের সামরিক নেতৃত্ব ও বিরোধী দলের রাজনীতিবিদরা সতর্ক করেছেন, বহুমুখী যুদ্ধের চাপে ইসরাইল ডিফেন্স ফোর্সেস বা আইডিএফ ভেঙে পড়ার কাছাকাছি চলে এসেছে। সৈন্য সংকট ও স্পষ্ট কৌশলের অভাবকে তারা এর কারণ হিসেবে দেখাচ্ছেন।
বিরোধী নেতা ইয়ার লাপিদ টেলিভিশনে বলেছেন, ‘আইডিএফকে ব্যবহার সীমা ছাড়িয়ে গেছে। সরকার আহত সেনাদের যুদ্ধক্ষেত্রে ফেলে রাখছে।’ এক দিন আগে সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল এয়াল জামির নিরাপত্তা ক্যাবিনেটেও একই সতর্কতা দিয়েছেন বলে ইসরাইলি গণমাধ্যমে খবর এসেছে।
Manual1 Ad Code
লাপিদ বলেছেন, ‘সরকার কোনো কৌশল ছাড়া, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ছাড়া এবং অপ্রতুল সংখ্যক সেনা নিয়ে সেনাবাহিনীকে বহুমুখী যুদ্ধে পাঠাচ্ছে।’ গণমাধ্যমে জামিরের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, তিনি নিরাপত্তা মন্ত্রিসভাকে বলেছেন ‘ইসরাইলি সেনাবাহিনী ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে।’
বৃহস্পতিবার টেলিভিশনে বিবৃতিতে সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফি দেফ্রিন বললেন, বিভিন্ন সীমান্তে ‘আরও যুদ্ধ সৈনিক প্রয়োজন।’ বিশেষ করে লেবানন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘লেবানন সীমান্তে আমরা যে সামনের প্রতিরক্ষা বলয় তৈরি করছি তাতে অতিরিক্ত আইডিএফ বাহিনী লাগবে।’ পশ্চিম তীর, গাজা ও সিরিয়াতেও চাহিদা বেড়েছে বলে জানান তিনি।
Manual6 Ad Code
লাপিদ জানিয়েছেন, জামির মন্ত্রিসভাকে বলেছেন সংরক্ষিত সৈনিকরা পঞ্চম ও ষষ্ঠ দফা রোটেশনে কাজ করছেন। লাপিদ বললেন, ‘এই সংরক্ষিত সেনারা ক্লান্ত ও বিপর্যস্ত এবং আর আমাদের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মেটাতে পারছেন না। সেনাবাহিনীর কাছে তার মিশন পূরণের জন্য যথেষ্ট সৈনিক নেই।’
Manual2 Ad Code
লাপিদ আল্ট্রা-অর্থোডক্স হারেদি সম্প্রদায়কে সেনাবাহিনীতে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। ১৯৪৮ সালে ইসরাইল প্রতিষ্ঠার পর থেকে তারা সামরিক সেবা থেকে অব্যাহতি পেয়ে আসছেন।
লাপিদ বলেন, ‘সরকারকে কাপুরুষতা বন্ধ করতে হবে। হারেদি সম্প্রদায়ে যারা ড্রাফট ফাঁকি দেবে, তাদের সব অর্থায়ন অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে, সেনা পুলিশ পাঠিয়ে পলায়নকারীদের ধরতে হবে এবং দ্বিধা ছাড়াই হারেদিদের সেনায় নিতে হবে।’
উল্লেখ্য, ইসরাইলে সামরিক সেবা বাধ্যতামূলক। তবে প্রতিষ্ঠার সময় স্থাপিত একটি নিয়ম অনুযায়ী, যারা পূর্ণকালীন ধর্মীয় গ্রন্থ পাঠে নিবেদিত তাদের কার্যত ছাড় দেওয়া হয়। সে সময় হারেদি সম্প্রদায় খুব ছোট ছিল।