আজ শুক্রবার, ১লা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানে ‘চূড়ান্ত হামলার’ প্রস্তুতি নিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন

editor
প্রকাশিত মার্চ ২৭, ২০২৬, ১১:২৯ পূর্বাহ্ণ
ইরানে ‘চূড়ান্ত হামলার’ প্রস্তুতি নিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন

Manual5 Ad Code

অনলাইন ডেস্ক:

তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার চলমান শান্তি আলোচনা যদি কোনো কারণে ফলপ্রসূ না হয়, তবে ইরানজুড়ে এক ভয়াবহ ‘চূড়ান্ত হামলার’ পরিকল্পনা করছে মার্কিন বাহিনী।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শান্তি আলোচনার সমান্তরালে এই সামরিক প্রস্তুতির নির্দেশ দিয়েছেন।

Manual1 Ad Code

এই পরিকল্পনায় ইরানে ব্যাপক বিমান হামলার পাশাপাশি প্রথমবারের মতো বড় ধরনের স্থলবাহিনী নামানোর চিন্তাও রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। দুই মার্কিন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, তেহরানকে আলোচনার টেবিলে নতি স্বীকারে বাধ্য করতেই এই দ্বিমুখী কৌশল গ্রহণ করেছে হোয়াইট হাউস।

পেন্টাগনের সম্ভাব্য হামলার তালিকায় খার্ক, লারাক এবং আবু মুসার মতো কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপগুলো রয়েছে। এছাড়া হরমুজ প্রণালীর পূর্বদিকে ইরানি তেলবাহী জাহাজে কঠোর অবরোধ আরোপের পরিকল্পনাও মার্কিন প্রশাসনের টেবিলে রয়েছে।

Manual5 Ad Code

কিছু মার্কিন নীতি নির্ধারক মনে করছেন, বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালালে তা শান্তি আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রকে বাড়তি সুবিধা বা ‘লেভারেজ’ এনে দিতে পারে। বর্তমানে তুরস্ক, পাকিস্তান ও মিশর এই দুই দেশের মধ্যে একটি টেকসই সংলাপ আয়োজনের জন্য ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। যদিও অনেক হোয়াইট হাউস কর্মকর্তা স্থল অভিযানকে এখনো একটি ‘কাল্পনিক’ বা চরম পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন, তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনো কোনো বিকল্পকেই নাকচ করে দেননি।

Manual8 Ad Code

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বিমান হামলায় ইরানে এখন পর্যন্ত প্রায় দেড় হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিও রয়েছেন বলে খবরে দাবি করা হয়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানও দমে না গিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে নিশানা বানিয়ে পাল্টা হামলা অব্যাহত রেখেছে।

Manual8 Ad Code

জর্ডান, ইরাক, সৌদি আরব, বাহরাইন, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ অন্তত এক ডজন দেশে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আঘাত হেনেছে। চার সপ্তাহ ধরে চলা এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের ফলে কেবল বিপুল প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতিই হয়নি, বরং মধ্যপ্রাচ্যের বিমান চলাচল ব্যবস্থা পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েছে।

এই সংঘাতের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি পণ্যের বাজারে এক চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিকে হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। ওয়াশিংটন বর্তমানে শান্তি আলোচনার ওপর জোর দিলেও তাদের সামরিক প্রস্তুতি নির্দেশ দিচ্ছে যে পরিস্থিতি যেকোনো সময় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যদি পাকিস্তান বা তুরস্কের মধ্যস্থতায় দ্রুত কোনো সমঝোতা না হয়, তবে মধ্যপ্রাচ্য এক দীর্ঘস্থায়ী ও বিধ্বংসী যুদ্ধের কবলে পড়বে। আপাতত পুরো বিশ্ব তাকিয়ে আছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে, যা নির্ধারণ করবে এই সংঘাত কি আলোচনার টেবিলে থামবে নাকি এক ‘চূড়ান্ত ধ্বংসলীলায়’ রূপ নেবে।

সূত্র: অ্যাক্সিওস